হাতে চিরকুট লিখে গৃহবধূর ‘আত্মহত্যা’
Back to Top

ঢাকা, বুধবার, ১৯ মে ২০২১ | ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

হাতে চিরকুট লিখে গৃহবধূর ‘আত্মহত্যা’

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি ১১:০২ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০২১

হাতে চিরকুট লিখে গৃহবধূর ‘আত্মহত্যা’
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে এক গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সে মারা যাওয়ার আগে তার হাতে চিরকুট লিখে গেছে।

নিহত গৃহবধূ আসমা বেগম (৩০) উপজেলার আলিশার কুল এলাকার মতলিব মিয়ার মেয়ে। নিহতের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ স্বামী তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,উপজেলার ভুনবীর ইউনিয়নের রাজপাড়া এলাকার মৃত ছোবান মিয়ার ছেলে মো. আব্দুল হালিমের (২২) সঙ্গে চার মাস আগে দ্বিতীয় বিয়ে হয় আসমা বেগমের। এর আগে আসমা বেগমের আরেকটি বিয়ে হয়েছিল। সেই সংসার ভেঙে যায় এবং ওই সংসারে একটি ৬ বছরের মেয়ে রয়েছে।

পেশায় আব্দুল হলিম শ্রমিকের কাজ করেন। বয়সের দিক দিয়ে স্বামী আব্দুল হালিম স্ত্রীর থেকে প্রায় ৮ বছরের ছোট। বিয়ের পর থেকে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ লেগে থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে আসমা বেগমের স্বামী আব্দুল হালিম জানান, প্রতিদিনের মতো শনিবার রাতে তারা খাবার খেয়ে ঘুমাতে যায়। রোববার সকাল সাড়ে ৬টায় ঘুম থেকে উঠে দেখেন তার স্ত্রী পাশে নেই। তিনি ঘরের মধ্যে স্ত্রীকে খুঁজে হঠাৎ দেখেন ঘরের উপরে তীরের সাথে মাফলার গলায় দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে ঝুলানো অবস্থায় রয়েছে।
তিনি তখন চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এসে লাশ নিচে নামায়।

এ সময় আসমা বেগমের হাতের মধ্যে আত্মহত্যার নোট লেখা দেখা যায় বলে তিনি জানান।

তবে নিহত আসমা বেগমের বড় বোন আলেয়া বেগম (৩০) জানান, আমার বোনের আত্মহত্যা করার কথা নয়। তাদের স্বামী-স্ত্রীর মাঝে পারিবারিক ঝামেলা ছিলো। আমাদের ধারণা, আমার বোনকে তার স্বামীর প্ররোচনায় পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে।

সিনিয়র এএসপি আশরাফুজ্জামান বলেন, ‘আত্মহত্যার কারণ সম্পর্কে এখনো ক্লিয়ার না, তবে হাতে যে লেখাটি রয়েছে তার পেছনে কোনো কারণ থাকতে পারে, যা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর বোঝা যাবে। হাতের লেখার ভাষা ভালো করে বুঝে আসছে না।’

তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার জন্য যদি কেউ দায়ী থেকে থাকে তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে আমরা ঘটনার পেছনে কি রয়েছে তা খোঁজার চেষ্টা করছি।’

অপরদিকে ঘটনাস্থলে থাকা এসআই আল আমিন জানান, ‘নিহত নারীর স্বামী একজন বালু কামলা, দিনমজুর। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।’

শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুছ ছালেক জানান, প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা মনে হলেও হয়তো স্বামীর প্ররোচনায় আসমা বেগম আত্মহত্যা করে থাকতে পারে।

হাতের লেখার ঘটনার রহস্য উদঘাটনে এক্সপার্ট দিয়ে পরীক্ষা করা হবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

এইচআর

 

আরও পড়ুন

আরও