ফ্ল্যাট কেনার মানে কি, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রেই চলে যাচ্ছেন মেসি?
Back to Top

ঢাকা, শনিবার, ১৯ জুন ২০২১ | ৫ আষাঢ় ১৪২৮

ফ্ল্যাট কেনার মানে কি, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রেই চলে যাচ্ছেন মেসি?

পরিবর্তন ডেস্ক ২:২৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৩১, ২০২০

ফ্ল্যাট কেনার মানে কি, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রেই চলে যাচ্ছেন মেসি?
তাহলে কি বার্সেলোনা থেকে তল্পি-তল্পা গুটিয়ে সুদূর আমেরিকাতেই পাড়ি জমাতে যাচ্ছেন লিওনেল মেসি? স্পেনের জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল ‘কাদেনা সের’ তো এমন সম্ভাবনাময় এক বোমাই ফাটিয়েছে। টিভি চ্যানেলটি এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, বার্সেলোনা ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি সেরে ফেলেছেন মেসি! যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন তারকা নাকি ফ্লোরিডাতে বিলাসবহুল এক ফ্ল্যাটও কিনে ফেলেছেন। অত্যাধুনিক সব সুযোগসুবিধ সম্মৃদ্ধ যে ফ্ল্যাটটি মেসি কিনেছেন ৭.২৫ মিলিয়ন পাউন্ট দিয়ে। বাংলাদেশির মুদ্রায় অঙ্কটা ৮৩ কোটি ৫৪ লাখ ৭৪ হাজার ৯৮৩ টাকা মাত্র!

কাদেনা সের-এর এই খবরকে স্রেফ গুঞ্জন বলে হাওয়ায় উড়িয়ে দেওয়ার উপায় কিন্তু নেই! কারণ, ফুটবল দুনিয়ায় এমন গুঞ্জন অনেক দিন ধরেই ঘুরে ফিরছে-ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বেলায় যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে খেলতে চান মেসি। ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ডেভিড বেকহামের মালিকাধানী মেজর লিগের দল ইন্টার মিয়ামিকে নাকি কথাও দিয়েছেন মেসি। দিন কয়েক আগে বাতাসে ভেসে বেড়ানো এই গুঞ্জনকে স্বয়ং মেসিই উসকে দিয়েছেন। মেসি এমনিতে গণমাধ্যমের সামনে খুব বেশি কথা বলেন না। ফলে চাপা স্বভাবের অধিকারী হিসেবে বিশেষ খ্যাতি আছে তার।

কিন্তু অতি সম্প্রতি বড়দিনের ছুটির সময়ে সেই চাপা স্বভাবের মেসিই মনের আগল খুলে বলেছেন অনেক কথা। সাক্ষাৎকার দিয়েছেন একাধিক গণমাধ্যমের সঙ্গে। সেসব সাক্ষাৎকারে ক্লাব বার্সেলোনায় নিজের অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যত নিয়েও কথা বলেছেন। এক দিক থেকে বার্সেলোনাতেই থেকে যাওয়অর আভাস দিয়েছেন। আবার আভাস দিয়েছেন বার্সেলোনা ছেড়ে যাওয়ারও। দাবি করেছেন বার্সেলোনাতে বর্তমানে সুখী তিনি। কিন্তু সেই ‘সুখী থাকার’ প্রমাণ দিয়ে মেসি বার্সেলোনার সঙ্গে এখনো চুক্তি নবায়ন করেননি। বার্সায় থেকে যাওয়া বা চলে যাওয়া সম্পর্কে বলেছেন, সিদ্ধান্তটা তিনি নেবেন মৌসুম শেষে!

মানে বার্সেলোনা থেকে যাওয়া বা চলে যাওয়া সম্পর্কিত কথাগুলোয় ধোয়াশাটা স্পষ্ট। তবে মেসি এটা স্পষ্ট করেই বলেছেন, ক্যারিয়ারের শেষ ভাগে তিনি যোগ করতে চান যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে খেলার অভিজ্ঞতা। স্বাদ নিতে যান যুক্তরাষ্ট্রের বিলাসবহুল জীবন কাটানোর।

মেসির সেই ইচ্ছা প্রকাশের পিঠাপিঠিই বোমাটা ফাটাল কাদেনা সের। তাদের যে সংবাদটি মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়েছে পুরো বিশ্বে। শুধু খবর নয়, নিজেদের দাবির পক্ষে মেসির কেনা ফ্ল্যাটটির বিস্তারিত বিবরণও দিয়েছে কাদেনা সের। তাদের দাবি, বেকহামের ইন্টার মিয়ামিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি হিসেবেই ফ্লোরিডাতে বিলাসবহুল ফ্ল্যাটটি কিনেছেন মেসি। ফ্লোরিডার বিখ্যাত পোরশে ডিজাইন টাওয়ারের ফ্ল্যাটটি নাকি তিনি কিনেছেন দেড় বছর আগে।

বিলাসবহুল বহুতল টাওয়ারটি ঠিক কয় তলায় ফ্ল্যাটটি কিনেছেন মেসি সেটি স্পষ্ট করে জানা যায়নি। তবে ফ্ল্যাটটিতে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধাই বিদ্ধমান। রুমগুলো বিশাল বিশাল। ড্রয়িং, ডাইনিং সাজানো-গোছানো, এক কথায় ছবির মতো সুন্দর। জাকজমকের স্বাক্ষ্য বহনকারী পোরশে ডিজাইন টাওয়ারের কোল ঘেষেই রয়েছে হ্রদ আকৃতির বিশাল সুইমিংপুল। তার চেয়েও বড় কথা, মেসি চাইলে নিজের ফ্ল্যাটটিতে গাড়ি নিয়েউ ঢুকতে পারবেন! টাওয়ারটিতে রয়েছে নিজ নিজ ফ্ল্যাটে গাড়ি নিয়ে যাওয়ার লিফট।

আগে থেকেই ফ্লোরিডায় এই ফ্ল্যাট কিনে রাখাটা এবং সম্প্রতি মেসির নিজ মুখে মেজর লিগ সকারে খেলার ইচ্ছার কথা প্রকাশ ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের স্বাদ নেওয়ার বাসনার কথা জানানো, দুটোকে এক সুতোয় গাথলে, কাদেনা সের-এর সংবাদটি বিশেষ গুরুত্বই বহন করে। তাছাড়া মেসির কেনা ফ্ল্যাটটি থেকে মেজর লিগের দল ইন্টার মিয়ামি মাত্র ২৫ মিনিটের দূরত্বে।

গত মৌসুমেই বার্সেলোনা ছাড়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন মেসি। তাকে কেনার জন্য প্রস্তুতিও নিয়ে ফেলেছিল ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি। কিন্তু চুক্তির শর্তের মারপ্যাছে মেসিকে যেতে দেয়নি বার্সেলোনা। তবে এ মৌসুম শেষেই বার্সার সঙ্গে মেসির বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। এরপর মেসি হয়ে যাবেন ফ্রি। যেতে পারবেন যেখানে খুশি। মেসি বর্তমানে বার্সেলোনায় নিজেকে ‘সুখী’ দাবি করলেও এখনো চুক্তি নবায়ন করেননি।

যা দেখে তাকে কেনার জন্য লাইন লাগিয়ে আছে ম্যান সিটি, পিএসজিসহ আরও অনেক ক্লাবই। কিন্তু কাদেনা সের-এর এই খবর বলে দিচ্ছে, মেসি হয়তো পাকাপাকিভাবে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রস্তুতিই নিচ্ছেন। বয়স ৩৩ হয়ে গেছে। ক্যারিয়ারে মেজর লিগে খেলার অভিজ্ঞতা এখন যোগ না করলে কখন! তাছাড়া ৩৩ বছরন বয়সী মেসি নিশ্চয় ফাঁকা ফেলে রাখার জন্য এত টাকা দিয়ে ফ্ল্যাটটা কিনেননি সেখানে!

কেআর

 

আরও পড়ুন

আরও