মেসি-পেদ্রি এবং গ্রেট ফুটবলারদের শিক্ষকেরা
Back to Top

ঢাকা, রবিবার, ৯ মে ২০২১ | ২৬ বৈশাখ ১৪২৮



মেসি-পেদ্রি এবং গ্রেট ফুটবলারদের শিক্ষকেরা

খলিলুর রহমান ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৩, ২০২০

মেসি-পেদ্রি এবং গ্রেট ফুটবলারদের শিক্ষকেরা
লিওনেল মেসি শুধুই কি একজন বিশ্বসেরা ফুটবলার? মোটেই না। খেলোয়াড়ের পাশাপাশি মেসি একজন শিক্ষকও। এবং শিক্ষক হিসেবে বেশ দক্ষও। বল নিজে মাঠ মাতানোর পাশাপাশি সতীর্থদের খেলা শেখানোও তিনি। কীভাবে বল নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে হয়, কীভাবে পাশ দিতে হয়, সতীর্থের পায়ে বল থাকলে কীভাবে কোথায় গিয়ে পজিশন নিতে হয়-নিজের অভিজ্ঞতা ঢেলে দিয়ে এ সবই সতীর্থদের শিখিয়ে থাকেন মেসি!

এই সূত্র অনুযায়ী ক্লাব বার্সেলোনা এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অন্য সব খেলোয়াড়েরাই মেসির সরাসরি ছাত্র। এমনকি তাকে দেথে ফুটবল খেলার শিক্ষা নিয়ে থাকে প্রতিপক্ষ দলগুলোর খেলোয়াড়েরাও। আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির এই রমরমা যুগে তার খেলঅর ভিডিও ক্লিপ দেখে শিখে বিশ্বের অন্য অনেক তরুণ ফুটবলারই। যারা দূর থেকে দেখে দেখে শিখে তারা পরোক্ষ ছাত্র। কিন্তু ক্লাব বার্সেলোনা ও আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সতীর্থরা সরাসরিই তার ছাত্র।

তবে সরাসরি ছাত্র হলেও গুরু হিসেবে মেসি তো আর সবাইকে হাতে-কলমে শিক্ষা দিতে পারেন না। সরাসরি হাতে-কলমে শিক্ষা শুধু তাদেরই দিয়ে থাকেন, যিনি বা যারা একান্তই তার খাস ছাত্র। তো বর্তমানে মেসির খাস ছাত্র দুজন-আনসু ফাতি এবং পেদ্রো গঞ্জালো লোপেজ। এই দুই স্প্যানিশ তরুণের মধ্যে শেষের জন মানে পেদ্রো গঞ্জালেস লোপেজ একটু বেশিই খাস। স্পেনের ১৭ বছর বয়সী এই তরুণ মিডফিল্ডারকে হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়ার কাজটা এ মৌসুমে নিজের কাঁধেই তুলে নিয়েছেন মেসি। পুরো নাম পেদ্রো গঞ্জালেস লোপেজ হলেও সংক্ষেপে তাকে পেদ্রি নামেই ডাকে সবাই। পেদ্রি নামেই প্রতিষ্ঠিত হচ্ছেন তিনি।

তো এই মৌসুমে এই পেদ্রিকে নিজের একান্ত ছাত্র বানিয়ে নিয়েছেন মেসি। বিশ্বসেরা মেসির খাস ছাত্র হওয়ার সুবাদে এরই মধ্যে বড় পুরষ্কারও পেয়েছেন পেদ্রি। ২০১৯ সালে লাস পালমেইরাস থেকে কিনে আনা পেদ্রির এ মৌসুমেই বার্সেলোনা মূল দলের হয়ে অভিষেক। এবং সেটা মৌসুমে বার্সেলোনার প্রথম ম্যাচেই। সেই থেকে এ পর্যন্ত ক্লাবের জার্সি গায়ে মৌসুমে বার্সেলোনার প্রতিটা ম্যাচেই খেলেছেন পেদ্রি!

লা লিগায় বার্সেলোনার খেলার ৮ ম্যাচেই খেলেছেন। খেলেছেন উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগেরও ৩ ম্যাচেই। কখনো বদলি হিসেবে। কখনো জায়গা পেয়েছেন শুরুর একাদশে। বয়স মাত্র ১৭। এত কম বয়সে অভিষেকের পর থেকে তারকাখচিত বার্সেলোনার মতো বিশ্বসেরা ক্লাবের হয়ে প্রতিটা ম্যাচেই খেলতে পারাটা অবিশ্বাস্যই। এই অবিশ্বাস্য কাণ্ডটা পেদ্রির ক্ষেত্রে ঘটছে মেসির খাস ছাত্র হওয়ার পুলস্কার হিসেবে!

বার্সেলোনার মতো ক্লাবে নিজের জায়গাটা পাকা করা কতটা কঠিন-সেটা সারা দুনিয়া জানে। অনেক সময় বিশ্ব তারকার তকমা গায়ে মাখানো খেলোয়াড়কেও বার্সার রিজার্ভ বেঞ্চ গরম করে কাটাতে হয়। সেখানে মহাসৌভাগ্যবান পেদ্রি মেসির একান্ত শিষ্য হওয়ার সুবাদে অভিষেক মৌসুমেই নিজের জায়গাটা পাকা করে ফেলেছেন! আক্রমণাত্মক ফুটবলার হিসেবে খেলেনও মেসির পাশাপাশি, কাছাকাছি। ফলে তাদের মধ্যে বল আদান-প্রদানও হয় বেশি। এই বল আদান-প্রদানের কাজটা যাতে নিখূঁত হয়, সেজন্যই পেদ্রিকে নিজের খাস শিষ্য বানিয়ে নিয়েছেন মেসি। মাঠে শেখাচ্ছেন হাত-কাঁধ ধরে ধরে।

একজন তরুণ ফুটবলারকে মাঠে কীভাবে হাতে-কলমে শিক্ষা দিতে হয়, সেটা মেসি খুব ভালো করেই জানেন। জানেন, কারণ, পেদ্রির মতো তরুণ বয়সে মেসি নিজেও অন্য এক কিংবদন্তির খাস ছাত্র ছিলেন। যিনি ক্লাব বার্সেলোনায় তরুণ মেসিকে হাতে ধরে ফুটবল খেলাটা শিখিয়েছেন। বানিয়েছেন আজকের বিশ্বসেরা মেসি। মেসির সেই শিক্ষকের নাম সবারই জানা-রোনালদিনহো।

বার্সেলোনার মূল দলের হয়ে তরুণ মেসির যখন শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলে অভিষেক হয়, রোনালদিনহোর গায়ে তখন বিশ্বসেরা ফুটবলারের তমকা। সারা ফুটবল দুনিয়া ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তির জাদুকরী ছন্দে মোহিত। তো অভিষেক ম্যাচ থেকেই বার্সার যুব একাডেমী ‘লা মাসিয়া’য় নিজের প্রতিভা-দক্ষতার প্রমাণ দিয়ে আসা তরুণ মেসিকে নিজের খাস ছাত্র বানিয়ে নেন রোনালদিনহো। জুটি বেঁধে প্রতিটা ম্যাচেই মেসিকে শেখাতে থাকেন হাতে-কলমে।

শুধু মেসি নন, বিশ্ব ফুটবল ইতিহাসের অনেক গ্রেট ফুটবলারই তরুণ বয়সে কোনো না কোনো তারকা ফুটবলারের খাস ছাত্রত্ব লাভ করেছেন। অগ্রজদের দীক্ষায় দিক্ষিত হয়ে বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে প্রতিষ্ঠিত করেছেন নিজেকে। তারকা ফুটবলারদের খাস ছাত্রত্ব লাভ করে তারকা ফুটবলার হওয়া ফুটবলারদের তালিকাও বেশ লম্বা।

খুব বেশি পেছন ফিরে যাওয়ার দরকার নেই, নিকট অতীতের দিকেই যদি তাকানো যায়, তাহলেও অন্যের খাস ছাত্র হিসেবে পরবর্তীতে দুনিয়া মাতানো ফুটবলারদের সংখ্যাটা অনেক। হালের ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, নেইমার, মার্সেলো, জাভি হার্নান্দেজ, কার্লোস তেভেজ, আন্দ্রেয়া পিরলো, ফ্রান্সেস্কা টট্টি-বিশ্ব বরেণ্য এই তারকা প্রত্যেকেই তরুণ বয়সে বিশেষ একজনকে ‘গুরু’ পেয়েছিলেন। যাদের খাস টিপস পেয়ে তারা হয়েছেন বিশ্বসেরা।

হ্যাঁ, সত্যিই, মেসির মতো হালের আরেক বিশ্বসেরা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোও তরুণ বয়সে একজন বিশেষ শিক্ষক পেয়েছিলেন। যিনি নিজে খেলার পাশাপাশি তরুণ রোনালদোকে খভাস ছাত্র বানিয়ে হাতে-কলমে শিখিয়েছেন। রোনালদোর এই বিশেষ ‘গুরু’র নাম লুইস ফিগো। শীর্ষ পর্যায়ে রোনালদোর অভিষেকের সময়টাতে ফিগো ছিলেন বিশ্ব ফুটবল আকাশের জ্বলজ্বলে তারা। তবে ক্লাব ফুটবলে নয়, কিংবদন্তি ফিগো স্বদেশি তরুণ রোনালদোকে হাতে-কলমে শিক্ষাটা দিয়েছেন পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে। ২০০৪ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ ফিগো-রোনালদোর সার্থক ‘গুরু-শিষ্যের’ জ্বলন্ত প্রমাণ হয়ে আছে!

হালের আরেক তারকা ফুটবলার নেইমারও তরুণ বয়সে একজন বিশেষ গুরু পেয়েছিলেন। নেইমারের সেই গুরুর নাম রবিনহো। তবে একদিক থেকে মেসি-রোনালদোর চেয়েও নেইমারের ভাগ্যটা বেশি ভালো ছিল। কারণ, মেসি শুধু ক্লাব বার্সেলোনার জার্সি গায়ে খেলার সময়েই গুরু রোনালদিনহোর দীক্ষা লাভ করেছেন। একইভাবে রোনালদো শুধু জাতীয় দলের হয়ে খেলার সময় গুরু ফিগোর সান্নিধ্য পেয়েছেন। কিন্তু নেইমার ক্লাব এবং জাতীয় দল, দুই জায়গাতেই স্বদেশি তারকা রবিনহোর খআস ছাত্র হিসেবে শিখেছেন।

২০১০ সালে ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সান্তোসের হয়ে শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলে অভিষেক হয় নেইমারের। বিশ্ব তারকার তকমা গায়ে মাখানো রবিনহোও তখন ভাগ্যক্রমে সান্তোসের খেলোয়াড়। পাশাপাশি ব্রাজিল জাতীয় দলেরও নিয়মিত সদস্য। তো ক্লাব সান্তোস এবং জাতীয় দল, দুই জায়গাতেই ছাত্র নেইমারকে হাতে-কলমে শিখিয়েছেন রবিনহো। নেইমার গুরু রবিনহোর বিশেষ অবদানের কথা বলেও বেড়ান সব সময়। নেইমার অনেকবারই বলেছেন, তার শৈশবের নায়ক রবিনহো। যার কাছ থেকে সরাসরি শিক্ষা নেওয়ার সুযোগও হয়েছে তার।

একইভাবে আর্জেন্টিনার সাবেক তারকা কার্লোস তেভেজের বিশেষ গুরু ছিলেন তারই স্বদেশি কিংবদন্তি হুয়ান রোমান রিকেলমে। ক্লাব এবং জাতীয় দল, নেইমারের মতো দুই জায়গাতেই রিকেলমের খাস ছাত্র হিসেবে বিশেষ শিক্ষা লাভ করার সুযোগ পান কার্লোস তেভেজে। তেভেজের ক্লাব ফুটবলে অভিষেক আর্জেন্টাইন ক্লাব বোকা জুনিয়র্সের হয়ে। তো তার অভিষেকের সময়টাতে বোকাতেই খেলা রিকেলমে ছিলেন বিশ্বের অন্যতম সেরা। তো স্বদেশি এই বড় ভাইয়ের কাছ থেকে তারকা ফুটবলার হওয়ার নগদ শিক্ষাটা পান তেভেজ।

ইতালির ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় দুই তারকা আন্দ্রেয়া পিরলো ও ফ্রান্সেস্কা টট্টি। তো তরুণ বয়সে এই দুজনই বিশেষ একজন করে গুরু পান। বর্তমানে জুভেন্টাসের কোচের দায়িত্বে থাকা আন্দ্রেয়া পিরলো তরুণ বয়সে নিজের একান্ত শিক্ষক হিসেবে পান তারই স্বদেশি কিংবদন্তি রবার্তো বেজিওকে। ক্যারিয়ারের পুরোটা সময় এএস রোমাতে কাটানোয় ‘রোমার সম্রাটা’ উপাধি পাওয়া টট্টির বিশেষ গুরু ছিলেন তারই স্বদেশি গুইসেপে জিয়ান্নিনি। টট্টি সব সময়ই বলেছেন, তার শৈশবের আদর্শ গুইসেপে জিয়ান্নিনি। রোমার সম্রাটা এটাও অকপটে বলেছেন, তার ফুটবলার হয়ে উঠার পেছনে গুইসেপে জিয়ান্নিনির অবদান অনেক।

ইতালির পিরলো-টট্টির মতোই বিশ্ব ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম জ্বলজ্বলে তারা স্পেনের জাভি হার্নান্দেজ। স্পেনের ২০১০ বিশ্বকাপ এবং ২০০৮ ও ২০১২ ইউরো জয়ের অন্যতম বড় নায়ক জাভি। একইভাবে প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন ক্লাব বার্সেলোনার । তো বিশ্বে নন্দিত এই মিডফিল্ডার তরুণ বয়সে বিশেষ শিক্ষক হিসেবে পেয়ে যান গেগ গার্দিওলাকে। ক্লাব বার্সেলোনার হয়ে অভিষেকের পর থেকেই স্বদেশি বড় ভাই গার্দিওলাকে পান জাভি। খেলোয়াড় হিসেবে গার্দিওলা মাঠেই হাতে-কলমে শিক্ষা দিতে শুরু করেন। জাভির ব্যতিক্রমী ভাগ্য, সতীর্থ হিসেবে পাওয়া মাঠের ‘ছায়াগুরু’ গার্দিওলাকে পরবর্তীতে সত্যিকার ‘গুরু’ হিসেবেও পান জাভি। খেলোয়াড়ী জীবনের ইতি টানার পর ক্লাব বার্সেলোনারই কোচের দায়িত্ব পান গার্দিওলা। মাঠের ছায়াগুরু থেকে গার্দিওলা হয়ে যান জাভির সরাসরি গুরু।

রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার মার্সেলোও তরুণ বয়সে বিশেষ একজনের খাস ছাত্র হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেছিলেন। তিনি তারই স্বদেশি রবার্তো কার্লোস। এই দুই ব্রাজিলিয়ানের মধ্যে মাঠের ‘গুরু-শিষ্য’ অধ্যায়ের ভেতরে বিশেষ একটা চমকও লুকিয়ে আছে। রবার্তো কার্লোস লেফট-ব্যাক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ইতিহাসের পাতায়। অনেকেই এই ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তিকে সর্বকালের সেরা লেফট-ব্যাক হিসেবে মানে। তো তার মাঠের খাস ছাত্র মার্সেলোও তার মতোই লেফট-ব্যাক। এবং লেফট-ব্যাক খেলোয়াড় হিসেবেই দুই স্বদেশির মিলন ঘটে বিশ্বসেরা ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদে।

মার্সেলো ২০০৭ সালে ব্রাজিলিয়ান ক্লাব ফ্লুমিনেন্স ছেড়ে যোগ দেন রিয়াল মাদ্রিদে। যেখানে কিংবদন্তি রবার্তো কার্লোস আগে থেকেই খেলতেন। কিন্তু দুজনের পজিশনই যেহেতু এক, লেফট-ব্যাক, তরুণ মার্সেলোকে তাই প্রথম মৌসুমটিতে মাঠের বাইরে বসেই কাটাতে হয় বেশি! তবে একসঙ্গে মাঠে নামার সুযোগ না পেলেও মাঠের বাইরের অনুশীলনে নিয়মিতই স্বদেশি ছোটভাইকে বিশেষ টিপস দেওয়া শুরু করেন রবার্তো কার্লোস। মার্সেলোকে জায়গা দিতেই কিনা ওই মৌসুম শেষেই পেশাদার ক্যারিয়ারের ইতি টানেন তিনি। কার্লোসের বিদায়ের মধ্যদিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের লেফট-ব্যাক হিসেবে জায়গাটা পাকা হয়ে যায় মার্সেলোর। সেই থেকে মার্সেলো এখানো রিয়ালেই আছেন। এখনো খাস ছাত্র হয়ে আছেন শৈশবের আদর্শ রবার্তো কার্লোসেরও।

এরকম আরও অনেকেই আছেন, যারা বড়-ভাই তূল্য খেলোয়াড়কে বিশেষ গুরু হিসেবে পেয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বিশ্বমঞ্চে। খাস ছাত্র হয়ে অনেকেই নাম কামিয়েছেন। তরুণদের শিখিয়ে তাদের ছায়া শিক্ষকেরাও ধন্য হয়েছেন।

এখন দেখার বিষয়, অন্যের খাস ছাত্র হিসেবে নিজে প্রতিষ্ঠিত হওয়া মেসি তার নিজের খাস ছাত্র হিসেবে পেদ্রিকে কতটা উচুতে তুলে দিতে পারেন!

কেআর

 

আরও পড়ুন

আরও