বিচারক কেশব রায়ের কণ্ঠে ‘হে সখা’
Back to Top

ঢাকা, শনিবার, ১৯ জুন ২০২১ | ৫ আষাঢ় ১৪২৮

বিচারক কেশব রায়ের কণ্ঠে ‘হে সখা’

পরিবর্তন ডেস্ক ৩:০৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২১

বিচারক কেশব রায়ের কণ্ঠে ‘হে সখা’
বাংলাদেশে রবীন্দ্রসংগীতের চর্চার পরিধি বাড়ছে কি কমছে তা নিয়ে মতান্তর থাকলেও রবীন্দ্রসংগীতের সমঝদার শ্রোতার সংখ্যা কিন্তু কমেনি আদৌ। নতুন প্রজন্মের একটা বড়ো অংশও অধুনা ঝুঁকছে রবীন্দ্রসংগীতের গীতরসে। এই উভয় শ্রেণির শ্রোতাদের কথা মাথায় রেখে এপার-ওপার দুই বাংলাতেই একের পর এক আসছে নতুন নতুন মিউজিক কম্পোজিশনের রবীন্দ্রসংগীত।

এই ধারাবাহিকতায় শ্রোতাদের, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের শ্রোতাদের ভিন্ন স্বাদ দিতে এবার ধ্রুব মিউজিক স্টেশন লোকসমক্ষে নিয়ে এসেছে ‘হে সখা’ শিরোনামে রবীন্দ্রসংগীতের একটি পাঁচমিশালি গান। ক্লোজআপ তারকা কিশোর দাশ এবং এই প্রজন্মের শিল্পী সিঁথি সাহার সাথে গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন কেশব রায় চৌধুরী। রবীন্দ্রসংগীতের আঙিনায় সিঁথি সাহার পূর্ব-বিচরণ থাকলেও কিশোর দাশ প্রথমবারের মতো রবীন্দ্রসংগীতে কণ্ঠ দিয়েছেন, আর কেশব রায় চৌধুরী কোনো গানে কণ্ঠ দিয়েছেন জীবনে প্রথমবার।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পূজা ও প্রেমপর্বের 'হে সখা মম হৃদয়ে রহো', 'ভালোবেসে সখী নিভৃতে যতনে', 'মাঝে মাঝে তব দেখা পাই', 'আমি চিনি গো চিনি তোমারে', 'কতবার ভেবেছিনু আপনা ভুলিয়া' এবং 'তুমি রবে নীরবে'- এই ছয়টি একতালের গান নিয়ে এই পাঁচমিশালি গানটির সংগীতায়োজন করেছেন কিশোর দাশ নিজেই। গানটির মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করেছেন এই প্রজন্মের প্রতিভাধর পরিচালক চন্দন রায় চৌধুরী। গানটির মিক্স-মাস্টারিং করা হয়েছে কোলকাতার একটি স্টুডিও থেকে।

কেশব রায় চৌধুরী পেশায় একজন বিচারক। প্রথমবারের মতো কোনো গানে কণ্ঠ দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাল্যকালে যথারীতি গান শেখা না হলেও বাড়ির লোকেদের সংগীত চর্চার ফলে গানের প্রতি, বিশেষ করে রবীন্দ্রসংগীতের প্রতি আমার উপর একটা সদর্থক প্রভাব পড়েছে। সেই থেকে শুনে শুনে গুনগুনিয়ে গান গাওয়া কিংবা নিজস্ব পরিমণ্ডলে টুকটাক গান করা আর সহধর্মিণীর কাছ থেকে পাওয়া অল্পস্বল্প কিছু কৌশল রপ্ত করার মধ্য দিয়েই মূলত আমার সংগীত চর্চা।

তিনি আরও বলেন, এভাবে গান করার সৌভাগ্য আমার হবে তা আমি ভাবি নি কখনো। এর জন্য আমি প্রথিতযশা শিল্পী কুমার বিশ্বজিৎ দা'র প্রতি অপার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। উনার সুবাদেই ক্লোজআপ তারকা, এই সময়ের উদীয়মান সুরকার ও মিউজিশিয়ান কিশোর দাশের সঙ্গে আমার পরিচয়। মূলত তার আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং অপর একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পীর সতত অনুপ্রেরণায় আমার এভাবে গান করার সাহস করা।

এছাড়া তিনি জানান, এই পাঁচমিশালিটি ছাড়াও ইতিমধ্যে কিশোর দাশ এবং কোলকাতার প্রসিদ্ধ গিটারিস্ট রাজা চৌধুরীর সংগীতায়োজনে আমার আরও তিনটি রবীন্দ্রসংগীতের অডিও রেকর্ডের কাজ সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে ইন্ডিয়ার জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পী ইমন চক্রবর্তীর সঙ্গে একটু ভিন্ন ধাঁচে করা 'পুরানো সেই দিনের কথা' গানটিসহ এককভাবে 'আমার পরান যাহা চায়' ও 'যে রাতে মোর দুয়ারগুলো ভাঙলো ঝড়ে' গানগুলো রয়েছে; যেগুলোর মিউজিক ভিডিও নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হলেই পর্যায়ক্রমে রিলিজ হবে।

গানটি প্রসঙ্গে কিশোর দাশ বলেন, ক্লোজআপের সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর থেকে এই পর্যন্ত কয়েক শ গানে কণ্ঠ দিলেও কোনোদিন আমার রবীন্দ্রসংগীত গাওয়া হয়ে উঠেনি। কেশব দা'র সাথে পরিচয়ের পর থেকে দাদার সাথে গুনগুন করতে করতেই রবীন্দ্রসংগীতের প্রতি অনুরক্ত হওয়া আমার; আর এভাবেই কেশব দা'র ভাবনায় এই পাঁচমিশালিটির সংগীতায়োজন করা এবং গাওয়া।

সিঁথি সাহা বলেন, আমি আগে রবীন্দ্রসংগীত-ই করতাম এবং রবীন্দ্রসংগীতে জাতীয় পর্যায়ে আমি চারবার পুরস্কারও পেয়েছি। তবে আপামর দর্শকশ্রোতার সাথে তাল মিলাতে গিয়ে হাতেগোনা কয়েকটি রবীন্দ্রসংগীত ছাড়া আধুনিক গানই করেছি সব। অনেক দিন পর আমার আবার এভাবে রবীন্দ্রসংগীত গাওয়া। শেষে কিশোর দাশ এবং সিঁথি সাহা উভয়েই যোগ করেন, এর আগে আমরা বিভিন্ন প্রচলিত গানের 'ম্যাসআপ সং' করলেও এভাবে রবীন্দ্রসংগীতের পাঁচমিশালি গান এবারই প্রথম করেছি বলে আমরা খুব উচ্ছ্বসিত এবং গানটির সমগ্র আয়োজন শ্রোতা ও দর্শককুলের ভালো লাগবে বলে আমাদের বিশ্বাস

ওএস/ইসি

 

আরও পড়ুন

আরও