সিরাজগঞ্জে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষে স্বাবলম্বী তারা
Back to Top

ঢাকা, বুধবার, ১২ মে ২০২১ | ২৯ বৈশাখ ১৪২৮



সিরাজগঞ্জে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষে স্বাবলম্বী তারা

এইচ এম আলমগীর কবির, সিরাজগঞ্জ ৬:০৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২১

সিরাজগঞ্জে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষে স্বাবলম্বী তারা
এখন পুকুর, খাল-বিলের পাশাপাশি বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষে সফলতা পাচ্ছে মৎস্য চাষীরা। স্বল্প জায়গা ও ঘরের ভেতরে আধুনিক প্রযুক্তি বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করা হচ্ছে। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘরের ভিতর ও বাড়ির আঙ্গিনায় মাছ চাষ হচ্ছে।

বায়োফ্লক মাছ চাষ করে সিরাজগঞ্জের পৌর এলাকার সরকার পাড়ার তুষার আহম্মেদ ও চর-রায়পুর গ্রামের রিপন সরকার সফল হয়েছেন। কম খচরে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষে সফল হওয়ায় নিজ এলাকা পেরিয়ে এখন পুরো জেলায় মৎস্যজীবী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। ইতিমধ্যেই তাদের হাত ধরে জেলায় নতুন পদ্ধতিতে মাছ চাষে সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে।

বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষে তুষার ও রিপনের সফলতা দেখে জেলার শিক্ষিত বেকার যুবকদের বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষে আগ্রহ বাড়ছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে চাকরির পেছনে না ছুটে স্বাবলম্বী হয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এমন প্রত্যাশা তাদের।

একদিকে যেমন দেশি মাছের চাহিদা পূরণ হচ্ছে অন্যদিকে আমিষের জোগান দেয়া সম্ভব হচ্ছে। প্রতি বছর পুকুর খনন করতে গিয়ে যেমন কৃষিজমির পরিমাণ কমছে। এ পদ্ধতিতে চাষ করতে গিয়ে যেমন নতুন করে পুকুর খননের প্রয়োজন হবে না। তেমনি খাল-বিল কিংবা নদী-নালারও প্রয়োজন হয় না। বাড়ির উঠানে স্বল্প জায়গায় ও অল্প পুঁজিতে এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ করা সম্ভব।

বায়োফ্লকে মৎস্য চাষী তুষার আহম্মেদ বলেন, ইউটিউব চ্যানেলে মাছ চাষের ভিডিও দেখে তার আগ্রহ হয়। বায়োফ্লক পদ্ধতি সম্পর্কে খোঁজ খবর নিয়ে তিনি রাজশাহী থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ শেষে প্রায় ২ বছর আগে নিজ বাড়ির ঘরের মেঝেতে ৯০ হাজার লিটার পানি ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন হাউজ তৈরী করেন। এতে তার ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। এ কাজের অর্থ ও সহযোগিতা করেন তার পিতা জাহাঙ্গীর আলম। এরপর সেখানে দেশীয় প্রজাতির শিং, কৈ, মনোসেক্স তেলাপিয়া ও কই মাছের ২৫ কেজি পোনা দিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন। মাছের পোনা ও খাবার কেনায় তার খরচ হয় প্রায় ৭০ হাজার টাকা। স্থানীয় বাজারে মাছগুলো ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। বর্তমানে সেই হাউজে পুনরায় ওই মাছগুলো আবার চাষ হচ্ছে। এই মাছগুলো আগামী মাসে বাজারে ৩ লাখের বেশি বিক্রি করা যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

বায়োফ্লকে মৎস্য চাষী রিপন সরকার বলেন, পুকুর ইজারা নেয়া যাদের পক্ষে সম্ভব না। তারা প্রশিক্ষণ নিয়ে উদ্যোক্ত হয়ে অল্প পুঁজিতে স্বল্প জায়গায় মাছ চাষ করতে পারেন। দশ কাঠা পরিমাণ জলাশয়ে যে পরিমাণ মাছ চাষ করা যাবে, একটি হাউজে সেই পরিমাণ মাছ চাষ করা সম্ভব। হাউজে মাছ চাষে খাবারের খরচটা কম লাগে। আগামীতে তার বায়োফ্লকে আরো উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করবেন। তবে সরকার যদি বেকার দুরীকরণে জামানতবিহীন ঋণের ব্যবস্থা করে তাহলে অনেক সুবিধা হবে।

সিরাজগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সাহেদ আলী বলেন, বায়োফ্লক পদ্ধতিতে অল্প জায়গায় মাছ চাষ করা সম্ভব। এ পদ্ধতিতে মাছ চাষে অনেকে উদ্ধৃদ্ধ হচ্ছে। বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে লাভবান হচ্ছে দেখে

অনেকে বায়োফ্লক পদ্ধতির মাছ চাষে দিন দিন আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। মৎস্য অফিস থেকে আগ্রহীদের সব ধরনের সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।

এএইচএ

 

আরও পড়ুন

আরও