রান্নাঘরের ছোটখাটো দুর্ঘটনার এড়াতে সর্তকতা
Back to Top

ঢাকা, শুক্রবার, ৭ মে ২০২১ | ২৩ বৈশাখ ১৪২৮



রান্নাঘরের ছোটখাটো দুর্ঘটনার এড়াতে সর্তকতা

পরিবর্তন ডেস্ক ৪:০২ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৭, ২০২১

রান্নাঘরের ছোটখাটো দুর্ঘটনার এড়াতে সর্তকতা
রান্না করতে গিয়ে হাতে ছ্যাঁকা লাগেনি কিংবা ছুরি, বঁটিতে হাত কেটে যায়নি এমনটা বোধহয় সকলের সাথে হয়েছে। কথায় বলে সাইকেল থেকে একবার না পড়লে নাকি সাইকেল শেখা যায় না, তেমনই রান্না করতে গিয়ে ছ্যাঁকা পোড়া এসব না হলে পাকা রাঁধুনী হওয়া যায় না। কিন্তু এ হলো কথার কথা। যে কোনো কাজেই সবসময় সাবধানতা অবলম্বন করা আবশ্যক। তাড়াহুড়োতে কাজে ভুল হওয়ার ফলে ক্ষতির সম্ভাবনাও থাকে।

যাবতীয় খাবার যেমন তৈরি হয় এই রান্নাঘরেই তেমনই যথাযথ নিয়ম না মানলে এই রান্নাঘরই হয়ে উঠবে মারাত্মক। আর তাই গরম জল ও গরম জলের পাত্র, ছুরি, রান্নাঘরের মেঝে সবসময় পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করুন। সবরকম সাবধানতা নেওয়ার পরও যে দুর্ঘটনা ঘটে না এমন নয়।

পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে চোখের জল বেরিয়ে গেলে তখন চোখ জ্বালা করায় অনেকেই অন্য দিকে তাকিয়ে পেঁয়াজ কাটেন। এতে কিন্তু হাত কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আবার ফোনে কথা কথা বলতে বলতে গ্যাসের সামনে দাঁড়িয়ে আচমকা ছ্যাঁকা খাওয়া, খুব সাধারণ ঘটনা। আবার গরম জল ঢালতে গিয়ে হঠাৎ পাত্র উল্টে গায়ে পড়ে গেলো, এমন ঘটনাও ঘটে। হঠাৎ এমন ঘটনায় আমাদের মাথা ঠিক কাজ করে না। জানুন রান্নাঘরের ছোটখাটো দুর্ঘটনার ফার্স্ট এড়াতে কি ধরনে সর্তকতা গ্রহণ করা উচিত-

রান্না ঘরে সবচেয়ে বেশি পুড়ে যাওয়া ও কেটে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। জল গরম করতে গিয়ে বা ভাতের ফ্যান উল্টোতে গিয়ে ফুটন্ত জল হাতে বা পায়ে পড়েছে এ রকম অনেক ক্ষেত্রেই হয়। এসব ক্ষেত্রে সবসময় গ্যাস থেকে দূরে থাকবেন। আর জল যে পাত্রে গরম করেছেন তা খুব সাবধানে ধরতে হবে। তবে পুড়ে গেলে প্রথমেই ১৫ সেকেন্ড পোড়া অংশটি ঠান্ডা জলের নীচে রাখুন। এরপর সেই জায়গাটি পরিষ্কার শুকনো কাপড় দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। যথাসম্ভব দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত কোনো অয়েন্টমেন্ট লাগাবেন না। এমন কী মাখন, বরফ এসবও পোড়া জায়গায় লাগাবেন না। এতে ত্বকের ক্ষতি হয়। কোশ ড্যামেজ হয়।

এই শীতে হাত কেটে গেলে বেশ কিছুদিন ব্যথা থাকে। আর যদি একটু বেশি ডিপ হয়ে কাটে তাহলে সেই ব্যথা যেতে বেশ কিছুদিন সময় লেগে যায়। ছুরি বা বঁটিতে হাত কাটলে আগে দেখে নিন, কতটা হাত কেটেছে। সেই জায়গাটা কতটা সেনসেটিভ। প্রথমেই অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ক্লিনজার দিয়ে জায়গাটি ধুয়ে নিন। এরপর মাইল্ড সাবান আর জল দিয়েও জায়গাটি পরিষ্কার করুন। হয়ে গেলে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল কোনো অয়েন্টমেন্ট লাগান। নিওস্পোরিন পাউডারও লাগাতে পারেন। এবার একটি পরিষ্কার ব্যান্ডেজ লাগান। তবে খেয়াল রাখবেন কাটা জায়গায় টাইট করে কোনো কিছু লাগাবেন না। তবে খুব বেশি কাটলে হাত ধুয়ে গজ দিয়ে বেঁধে উপরে টাওয়াল দিয়ে চেপে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান।

রান্না করতে গেলে অনেক সময়  তেল ছিটকে চোখে লাগে। কিংবা মশলা কষতে গেলেও অনেক সময় চোখে লঙ্কার ঝাঁঝ লেগে যায়। বা যে হাতে লঙ্কা বেটেছেন ওই হাত চোখে লাগলে চোখ জ্বলতে শুরু করে। এতো জল পড়ে যে তাকানোই যায় না। সেখান থেকে ইনফেকশনও হয়। আর তাই এমন হলে প্রথমেই ভালো করে চোখে ঠান্ডা জলের ঝাপটা দিন। এরপর ওয়াইপস দিয়ে ভালো করে চোখ মুছুন। রান্না করার সময় চেষ্টা করুন অ্যাপ্রন আর গ্লাভস ব্যবহার করতে।

রান্না করতে, পরীক্ষামূলক রেসিপি বানাতে খুব ভালোবাসেন। কিন্তু বানানোর আগে বেশ কিছু টিপস যেমন মাথায় রাখবেন তেমনই রান্নাঘরও পরিষ্কার রাখুন। রান্নাঘরের মেঝেতে জল পড়ে থাকলে যেমন পা স্লিপ করতে পারে তেমনই সব ছড়িয়ে থাকলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনাও থাকে। তাই সব দিক খেয়াল রেখে তারপর আনন্দ করুন। আর সে রকম দুর্ঘটনা ঘটলে সাথে সাথে চিকিৎসকের কাছে যান।

ওএস/এসকে

 

আরও পড়ুন

আরও