মাঠে নামাতে সাহস পাচ্ছে না বিএনপি
Back to Top

ঢাকা, রবিবার, ৯ মে ২০২১ | ২৬ বৈশাখ ১৪২৮



মাঠে নামাতে সাহস পাচ্ছে না বিএনপি

মাহমুদুল হাসান ১২:১০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৮, ২০২১

মাঠে নামাতে সাহস পাচ্ছে না বিএনপি
মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় কর্মসূচি দিয়েও সরকারের প্রতি চাপ সৃষ্টি করতে পারছে না দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি। মানববন্ধনের মতো নিরীহ কর্মসূচিতে সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়েই যেন দায় শেষ করছেন নেতারা।

দলটির সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে একের পর এক ইস্যু হাতছাড়া হচ্ছে। ফলে জনগণের মধ্যে তৈরি হচ্ছে আস্থার সংকট। এছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও তৃণমূলকে ঐক্যবদ্ধ করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ কাজে লাগাতে পারছে না দলটি।

নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণায় কিছুটা জানান দিলেও ভোটের দিন মাঠে দাঁড়াতেই পারছেন না নেতাকর্মীরা। নির্বাচনে ব্যাপক ভরাডুবিতে মনোবল হারাচ্ছেন সমর্থকরাও। সবশেষ গত শনিবার ৬০ পৌরসভা নির্বাচনেও এমন দৃশ্য দেখা গেল। কিন্তু দলটি নির্বাচনে কেন যাচ্ছে- এমন প্রশ্ন এখন জনমনে।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, একের পর এক ইস্যু সামনে এলেও কোনোটাই কাজে লাগাতে পারছে না বিএনপি। ঘরোয়া সভা-সমাবেশে সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেই দায় সারছেন দলটির দ্বায়িত্বশীল নেতারা। এছাড়া ত্রুটিপূর্ণ ইভিএমের বিরুদ্ধেও কার্যকর প্রতিবাদ গড়ে তুলে পারেনি দলটি। নির্বাচনের অংশগ্রহণ আর প্রচার-প্রচারণায় কিছু ‘চমকে’ই সীমাবদ্ধ তারা। উল্টো নেতাকর্মীরা মামলা-হামলা শিকার হয়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন।

বিএনপির দ্বায়িত্বশীল নেতারা জানান, নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও ক্ষমতাসীনরা মিলে পুরো ভোট ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে। ভোটের দিন নির্বাচনী এলাকার পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে লোকজন জড়ো করে বিএনপিকে মাঠে নামতেই দেওয়া হচ্ছে। এতে সহায়তা করছে প্রশাসন। তারা ক্ষমতাসীনদের মাঠে থাকার সুযোগ দিয়ে বিরোধী নেতাকর্মীদের মাঠে নামতে দিচ্ছে না। এটা কোনো ভোটের পরিবেশ হতে পারে না। পৌর ভোটে অনিয়মের মাধ্যমে আবারও প্রমাণ হলো বর্তমান নির্বাচন কমিশন স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য ভোট আয়োজনে ব্যর্থ।
এর মাধ্যমে আরেকটি জিনিস বিষয় প্রমাণ হলো- রাষ্ট্রের ৪২ জন বিশিষ্ট নাগরিক রাষ্ট্রপতির কাছে যে চিঠি দিয়েছেন তা একেবারেই ‘সঠিক’ ছিল। বিএনপির পক্ষ থেকেও বারবার বলা হচ্ছে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। এমন দাবিতে বিএনপি সব সময় অনড় রয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘নেতাকর্মীরা একটু নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। তাদেরকে চাঙা করতেই আমরা নির্বাচনে যাচ্ছি। নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলে সময় নষ্ট করে লাভ নেই।’

দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিতে ব্যর্থ হয়েছে তা জাতির সামনে আরেকবার প্রকাশ পেল।’

এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির সিনিয়র নেতা বলেন, ভোটকেন্দ্রে লোকসমাগম প্রমাণ করে না নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। যেখানে ইভিএমের ত্রুটি রয়েছে। এটা জনগণই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখেছে, যেখানেই ভোট দেন না কেন ইভিএমে নৌকা প্রতীক ভেসে আসছে। যেখানে স্বচ্ছতার প্রশ্ন আসে এই নির্বাচন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ইসির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিশিষ্ট ৪২ নাগরিক রাষ্ট্রপতিকে যে চিঠি দিল তা পৌর নির্বাচনে অনিয়মের মাধ্যমে আরেকবার প্রমাণ হলো।

বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘দলে সংগঠনিক কোনো দুর্বলতা নেই। এখানে বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতার বিষয় নয়। প্রশাসনিক জটিলতার কারণে ভোটের দিন মাঠে থাকতে পারছেন না নেতাকর্মীরা। মামলা-হামলার ভয় দেখিয়ে বিএনপি অনুসারীদের দূরে রাখা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন ব্যবস্থার কারণেই গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হচ্ছে না। ইভিএমের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারছে না। ভোট যেখানেই দেওয়া হয়, চলে যাচ্ছে নৌকায়। আসলে বিএনপি এখানে পুরোপুরি সিস্টেমের শিকার।’

উল্লেখ্য, দ্বিতীয় ধাপের পৌরসভা নির্বাচনেও বিপুলসংখ্যক জয় পেয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীরা। ৬০টি পৌরসভা নির্বাচনে ৪৫টিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও চারজন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। আর বিএনপি মনোনীত পৌর মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন মোট চারজন। দলটির দুজন বিদ্রোহী প্রার্থী জয়লাভ করেন।

এইচআর

 

আরও পড়ুন

আরও