মেসির ‘ডাবল-জাদু’তে এলচেকে উড়াল বার্সেলোনা
Back to Top

ঢাকা, শুক্রবার, ৭ মে ২০২১ | ২৩ বৈশাখ ১৪২৮

মেসির ‘ডাবল-জাদু’তে এলচেকে উড়াল বার্সেলোনা

পরিবর্তন ডেস্ক ১০:১৭ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২১

মেসির ‘ডাবল-জাদু’তে এলচেকে উড়াল বার্সেলোনা
বার্সেলোনাকে আষ্টেপৃষ্টে চেপে ধরেছিল হতাশা। ঢেকে দিয়েছিল নানা রকম শঙ্কার চাদরে। সেই হতাশা, শঙ্কার মেঘ ফুড়ে বার্সেলোনাকে জয়ের হাওয়ায় উড়ালেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টাইন তারকার ডাবল-জাদুতে এলচেকে উড়াল বার্সেলোনা। অতি-প্রয়োজনীয় ম্যাচে জোড়া গোল করে মেসি বার্সেলোনাকে এনে দিয়েছেন ৩-০ গোলের একপেশে জয়।

এই ক্যাম্প-ন্যুতেই গত সপ্তাহে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোল’র প্রথম লেগে পিএসজির কাছে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে বার্সেলোনা।

পিএসজির কাছে ওই নাকানিচুবানি খাওয়ার ধাক্কায় গত রোববার লিগেও পুঁচকে কাদিজের বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্র হতাশায় পুড়তে হয় বার্সেলোনা। নিজেদের দূর্গ ক্যাম্প-ন্যু যেন হঠাৎই শত্রুর দূর্গ হয়ে উঠেছিল! এ অবস্থায় গতকাল রাতে আবার সেই ক্যাম্প-ন্যুতেই ম্যাচ খেলতে নামতে হয় বার্সাকে। এলচে ম্যাচের আগে তাই শঙ্কা মিশ্রিত একটা প্রশ্নই উড়ছিল, নিজেদের দূর্গ ক্যাম্প-ন্যুতে কি হতাশার হ্যাটট্রিকই করে ফেলবে বার্সেলোনা?

এই প্রশ্ন উড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি লিগ শিরোপা স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতেও জয়ে ফেরাটা খুব দরকার ছিল বার্সেলোনা। কাতালন জায়ান্টদের দরকারটা মেটালেন সেই মেসিই। বিপদের পথ থেকে বার্সেলোনাকে উদ্ধার করবেন মেসি, এটা তো নিয়মই! নিয়মটা মেসিই বানিয়েছেন। যখনই দল বার্সেলোনা হতাশার চাদরে মুড়িয়ে গেছে, তখনই দলকে সেই অন্ধকার থেকে আলোতে টেনে বের করেছেন মেসি। কালও নিজের বানানো সেই নিয়মই রক্ষা করলেন জোড়া গোলের জাদুতে। দলকে জিতিয়ে বাঁচিয়ে রাখলেন লিগ শিরোপার আশা।

এই জয়ে সেভিয়াকে টপকে বার্সেলোনা উঠে এসেছে পয়েন্ট তালিকার তিন নম্বরে। ২৪ ম্যাচে ৫০ পয়েন্ট হলো তাদের। ২৩ ম্যাচে ৫৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ। ২৪ ম্যাচে ৫২ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে রিয়াল মাদ্রিদ। চারে নেমে যাওয়া সেভিয়ার পয়েন্ট ২৩ ম্যাচে ৪৮।

মেসির ডাবল-জাদুর ম্যাচটিতে কাল বাঁ-পায়ের এক ভেল্কি দিয়েছেন রাইট-ব্যাক জর্ডি আলবাও। মাটিতে শুয়ে পড়ে বাঁ-পায়ের বাইসেল-ক্লিকে দলের তৃতীয় গোলটা করেছেন আলবা। তার এই গোলটাও বানিয়ে দিয়েছেন মেসি। মানে ম্যাচের ৩টি গোলই মেসির অবদানের ফসল।

এলচে বার্সেলোনার খুবই প্রিয় প্রতিপক্ষ। যাদের বিপক্ষে গত ৪৩ বছরে কখনো হারেনি বার্সেলোনা। পিএসজির কাছে হার এবং কাদিজের সঙ্গে ড্র করায় চেপে বসা হতাশার পরও তাই বার্সেলোনাকে কাল অন্য রকম আত্মবিশ্বাস্যই যেন দিচ্ছিল প্রতিপক্ষ এলচে। সেই আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে বার্সেলোনা শুরুটাও করে দুর্দান্ত। কিন্তু একের পর এক আক্রমণ গড়েও মেসি, কার্লোস ব্রাফেটরা গোল আদায় করতে পারছিলেন না। ফলে প্রথমার্ধে গোলশুন্যই থাকতে হয় বার্সেলোনাকে।

বিরতিতে গিয়ে বার্সা কোচ রোনাল্ড কোমান শিষ্যদের কানে কোন মন্ত্র গুঁড়ে দেন কে জানে! বিরতি থেকে ফিরেই আরও বেশি আগ্রাসী হয়ে উঠে বার্সেলোনা। আরও বেশি অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেন মেসি। ৪৮ মিনিটে তার ফলও পায় বার্সা। সতীর্থ ব্রাফেটের পাশ থেকে দারুণ এক গোল করে দলকে প্রথম লিড এনে দেন মেসি। ড্র শঙ্কা কাটিয়ে বার্সেলোনা পায় জয়ের পথ। এরপর ৬৯ মিনিটে মেসিই ব্যবধান দ্বিগুণ করেছেন। আর্জেন্টাইন তারকা দুটো গোলই করেছেন প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের জটলার মাঝ থেকে।

এর ৪ মিনিট পরই আবার গোল উৎসবে মেতে উঠে বার্সেলোনা। মেসির পাশ থেকে দর্শনীয় এক গোল করে দলের লিডটা ৩-০ করে ফেলেন জর্ডি আলবা। এই দুই গোল নিয়ে বন্ধু লুইস সুয়ারেজকে পেছনে ফেলে এককভাবেই লা লিগার সর্বোচ্চ গোলদাতা বনে গেলেন মেসি। এ নিয়ে এবারের লিগে তার গোল হলো ১৮টি। ১৬ গোল করা সুয়ারেজ নেমে গেলেন দুই নম্বরে। মানে পিচিচি ট্রফি’র (লা লিগার সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরষ্কার) দৌড়ে মেসিই এখন সবার আগে।

কেআার

 

আরও পড়ুন

আরও