কিসের টানে অভিনয় ছেড়েছিলেন শাহীন আলম?
Back to Top

ঢাকা, শুক্রবার, ৭ মে ২০২১ | ২৩ বৈশাখ ১৪২৮



কিসের টানে অভিনয় ছেড়েছিলেন শাহীন আলম?

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ০৯, ২০২১

কিসের টানে অভিনয় ছেড়েছিলেন শাহীন আলম?
অভিনয়ের নেশা ছিল তার রন্ধ্রে রন্ধ্রে। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার গড়েছিলেন ঢাকার সিনেমা জগতে। সফল অভিনয় করেছেন অসংখ্য চলচ্চিত্রে। দু’হাতে কামিয়েছেন প্রচুর টাকা।

কিন্তু হঠাৎই রূপালি জগতের এই বিত্তবৈভব এবং দেড়শোর বেশি সিনেমায় অভিনয় করা ২৭ বছরের ক্যারিয়ার ছেড়ে কোথায় মনোনিবেশ করেছিলেন চিত্রনায়ক শাহীন আলম?

জানা যায়, মৃত্যুর আগে বাংলার এই খ্যাতিমান অভিনেতা চলচ্চিত্রকে বিদায় জানিয়ে ইসলাম ধর্মের অনুশাসন পুরোপুরি পালন শুরু করেন। মৃত্যুর কয়েকমাস আগে একটি ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছিলেন এ চিত্রনায়ক।

সাক্ষাৎকারে শাহীন আলম বলেন, আমি তো মুসলমান। পরকালে বিশ্বাসী। আমাকে একদিন না একদিন ওই সর্বশক্তিমানের কাছে ফিরতেই হবে। তখন কী জবাব দেব? একটা মানুষ কত দিন বাঁচে? ধরুন খুব বেশি হলে ১০০ বছর বাঁচব। এরপর তো আল্লাহর কাছে গিয়ে জবাবদিহি করতে হবে। তাই আমি বলব, আগে পরকালের হিসাবের খাতাটা ঠিক রাখতে হবে। এসব বিবেচনা করেই সিনেমা থেকে সরে এসেছি। আস্তে আস্তে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছি।

বাংলা সিনেমার এক সময়ের এই জনপ্রিয় চিত্রনায়ক শাহীন আলম সোমবার (৮ মার্চ) রাতে চলে গেছেন না ফেরার দেশে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় রাজধানীর বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয় এক সময়ের ব্যস্ত চিত্রনায়ক শাহীন আলমকে। এ সময় শাহীন আলমের পরিবাবের সদস্যরা এবং চিত্রনায়ক ওমর সানি উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বাদ ফজর নিকেতন মসজিদে তার জানাজা সম্পন্ন হয়।

মৃত্যুর আগে বেশ কয়েকবছর কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন এ অভিনেতা। করোনাকালীন কঠিন অর্থ সংকটে পড়েছিলেন তিনি। উপার্জনের একমাত্র পথ কাপড়ের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকায় সংসারের সদস্যদের খাবার জোগাড় করতেই অসমর্থ হয়ে পড়েন। এর সঙ্গে যুক্ত হয় সপ্তাহে একদিন ডায়ালোসিসসহ ওষুধপত্রের খরচ।

ওই সাক্ষাৎকারে সিনেমাজগত থেকে সরে আসার আরও তিনটি কারণ জানিয়েছিলেন সফল নায়ক শাহীন আলম। বলেছিলেন, ঢাকাই ছবিতে যখন অশ্লীলতা মহামারি আকার ধারণ করে আর সিনেমা জগৎটা নির্মাতার হাতছাড়া হয়ে প্রযোজকদের হাতে চলে যায়, তখন আর অভিনয় চালিয়ে যেতে পারছিলাম না।

তিনি বলেন, আমাকে অশ্লীল দৃশ্যে অভিনয়ের জন্য চাপ দেওয়া হতো। আমি রাজি না হলে পরে দেখতাম কাটপিস জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আমার বড়ভাই হজ পালন করে এসে আমাকে অনুরোধ করেন, সিনেমা জগৎ ছেড়ে দিতে। আমিও পরে উপলব্ধি করি, আর কতো?

পরে সিনেমা জগতের এই মরিচিকা থেকে নিজেকে গুটিয়ে পারিবারিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটি দেখাশোনা শুরু করি।

 

শাহীন আলমের রূপালি পর্দাকে না বলার পেছনে আরও একটি ঘটনা জড়িয়ে আছে। সেটা হলো, তার প্রিয় মেয়ের আত্মহত্যার ঘটনা।

এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল না করলে শাহীন আলমের একমাত্র মেয়ে আত্মহত্যা করে। ওই ঘটনার পর পরই বদলে যেতে থাকেন তিনি। নামাজ আদায়ে মনোযোগী হন। এসময় আমূল পরিবর্তন ঘটে তার।

ঢাকায় বেড়ে ওঠা শাহীন আলম শুরুতে মঞ্চে অভিনয় করতেন। ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ১৯৮৬ সালে সিনেমায় পা রাখেন তিনি। ১৯৯১ সালে শাহীন অভিনীত ‘মায়ের কান্না’ সিনেমাটি মুক্তির পর নজরে আসেন তিনি। তখন একসঙ্গে সাতটি সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন শাহীন। এরপর দেড় শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন এ অভিনেতা।

শাহীন আলম অভিনীত সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘ঘাটের মাঝি’, ‘এক পলকে’, ‘প্রেম দিওয়ানা’, ‘চাঁদাবাজ’, ‘প্রেম প্রতিশোধ’, ‘টাইগার’, ‘রাগ-অনুরাগ’, ‘দাগি সন্তান’, ‘বাঘা-বাঘিনী’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘আরিফ লায়লা’, ‘আঞ্জুমান’, ‘অজানা শত্রু’, ‘গরিবের সংসার’, ‘দেশদ্রোহী’, ‘আমার মা’, ‘পাগলা বাবুল’, ‘তেজী’, ‘শক্তির লড়াই’, ‘দলপতি’, ‘পাপী সন্তান’, ‘ঢাকাইয়া মাস্তান’, ‘বিগবস’, ‘বাবা’, ‘বাঘের বাচ্চা’, ‘বিদ্রোহী সালাউদ্দিন’, ‘তেজী পুরুষ’ ইত্যাদি।

এইচআর

আরও পড়ুন...
নায়ক শাহীন আলম আর নেই, বনানীতে দাফন
বনানীতে চিরনিদ্রায় নায়ক শাহীন আলম

 

আরও পড়ুন

আরও