লিটন-মিরাজের ১২৬ রানের জুটি, অতপর আত্মহুতিতে ২৯৬তে শেষ
Back to Top

ঢাকা, শনিবার, ১৯ জুন ২০২১ | ৫ আষাঢ় ১৪২৮

লিটন-মিরাজের ১২৬ রানের জুটি, অতপর আত্মহুতিতে ২৯৬তে শেষ

পরিবর্তন ডেস্ক ৪:৪৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২১

লিটন-মিরাজের ১২৬ রানের জুটি, অতপর আত্মহুতিতে ২৯৬তে শেষ
ভালো খেলতে খেলতে হঠাৎই আত্মহুতি। বিলাসি হয়ে অপ্রয়োজনী শট খেলে নিজের উইকেট বিসর্জন দিয়ে দলকে বিপদে ফেলা। বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের এটা পুরোনো রোগ। তবে মিরপুর টেস্টের আজ তৃতীয় দিনে এই রোগটা যেন বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের উপর ঝেকে বসেছিল। আজ তৃতীয় দিনেই বাংলাদেশের ৩ জন ব্যাটসম্যান এই রোগের শিকার। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, সেই ৩ জনই আউট হওয়ার আগে আশার আলো জ্বেলেছেন। ব্যাটকে আলোর মশাল বানিয়ে দলকে অনেকটা পথ টেনেছেনও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজেদের উইকেট বিসর্জন দিয়ে নাম লিখিয়েছেন খলনায়কের খাতায়!

ফল যা হওয়ার তাই হয়েছে। সম্ভাবনার দুয়ার খুলেও বাংলাদেশ অলআউট হয়ে গেছে ২৯৬ রানে। এই যে দলকে ২৯৬ রান পর্যন্ত যেতে পেরেছে, তার তার প্রধান তিন কারিগর মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ তিনটি ইনিংস খেলেছেন তারাই। তিনজনেই করেছেন হাফসেঞ্চুরি। জুটি গড়ে আলোর আলোও দেখিয়েছেন তারাই। কিন্তু ব্যাট হাতে আলো হয়ে ফোটার পর নিজেদের উইকেট আত্মহুতি দিয়ে খলনায়কের আসনেও এই তিনজনেই! কি দুর্ভাগ্য, কি পরিতাপের বিষয়!

ভালো খেলতে খেলতে তাদের এই আত্মহুতির মাশুল কিভাবে দলকে গুণতে হয়েছে, সেটি ছোট্ট একটা তথ্যেই স্পষ্ট হবে। এই আত্মহুতির মিছিলের কারণেই বাংলাদেশ শেষ ৪ উইকেট হারিয়েছে মাত্র ১৫ রানের ব্যবধানে। এক পর্যায়ে ৬ উইডকেটেই বাংলাদেশ পৌঁছে যায় ২৮১ রানে। লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজের ঝলসানো ব্যাট তখন বাংলাদেশকে ৩৫০-এর স্বপ্নই দেখাচ্ছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন চুরমার হয়ে গেছে মুহূর্তেই। ৩৫০ দূরের কথা, বাংলাদেশ ৩০০-ও ছুঁতে পারেনি।

এই যে শেষ দিকে ১৫ রানে ৪ উইকেট পতনের ঝড়, এর দায়টা লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজের। দুজনেই নিজেদের উইকেট ক্যারিবীয়দের উপহার দিয়েছেন অপ্রয়োজনী শট খেলে। অথচ তার আগ পর্যন্ত কি দুর্দান্তই খেলছিলেন তারা জুটি বেঁধে। সকালে ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে যখন আউট হন মুশফিকুর রহিম, বাংলাদেশের দলীয় রান তখন ১৫৫। তখনো ফলোঅন এড়াতে বাংলাদেশের দরকার ছিল ৫৫ রান। হাতে ছিল ৪টি উইকেট।

যাদের প্রায় সবাই বোলার। স্বাভাবিকভাবেই মুশফিকের বিদায়ের পর ফলোঅন শঙ্কাটা নতুন করে ঝেকে বসে বাংলাদেশ শিবিরে। লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ জুটি বেঁধে সেই শঙ্কা শুধু মুছেই ফেলেননি, ২১০ রানের ফলোঅন সীমানা পেরিয়ে দুজনে মিলে দলকে নিয়ে যান ২৮১ রানে। এই পথে দুজনে মিলে সপ্তম উইকেটে গড়েছেন ১২৬ রানের অতিমূল্যবান এক জুটি। দুজনের ব্যাটেই ঠিকরে বোরোচ্ছিল আত্মবিশ্বাস ও প্রতিশ্রুতির ঝলকানি। যা ক্রিকেটপ্রেমীদের আরও ভালো কিছুই স্বপ্নই দেখাচ্ছিল।

দেশবাসীর সেই স্বপ্ন, প্রত্যাশা নিজেরাই গুঁড়িয়ে দিয়েছেন লিটন ও মিরাজ, নিজেদের উইকেট বিলিয়ে দিয়ে। শেষ বিকালে আত্মহুতির মিছিলটা শুযরু করেন লিটন। হাফসেঞ্চুরি পেরিয়ে তিনি সেঞ্চুরির পথেই হাঁটছিলেন। কিন্তু ৭১ রানে দাঁড়িয়ে হঠাৎই তার মাথায় যেন কোন ভূত ভর করে। রাহকিম কর্নওয়ালের লেগ স্টাম্পের বাইরে পড়া যে বলটি খেলারই দরকার ছিল না, সেটি খেলতে গিয়ে প্রথম স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন লিটন।

বল যে আগে তার ব্যাটে লেগে পরে প্যাডে লেগেছে, সেটি বুঝতেই পারেননি লিটন। তাই তিনি জীবন ফিরে যেতে রিভিউ নিয়েছিলেন। কিন্তু অবিবেচকের মতো শট খেলার পাশাপাশি তার রিভিউ নেওয়াটাও ছিল অবিবেচকের মতো! রিপ্লেতে পরিষ্কার দেখা যায়, বল প্যাডে লাগার আাগে বল তার ব্যাটে লেগেছে। সুতরাং পরিষ্কার আউট। লিটনের বিদায়ের পরপরই ডাক মেরে ফিরে যান নাঈম হাসান। বাংলাদেশ ওই ২৮১ রানে দাঁড়িয়েই হারায় ২ উইকেট। মানে লিটনের আত্মহুতির ফলে ৬ উইকেটে ২৮১ থেকে বাংলাদেশ মুহূর্তেই পরিণত হয় ৮ উইকেটে ২৮১ রানের দলে।

একটু পর মেহেদী হাসান মিরাজও হাঁটলেন লিটনের পথেই। অদরকারী শট খেলে নিজের উইকেটটি তুলে দিলেন ক্যারিবীয় পেসার শেনন গ্যাব্রিয়েলকে। তিনি ৫৭ রান করে ফিরলেন দলীয় ২৮৩ রানে।

সেখান থেকে তাইজুল ও আবু জায়েদ দলকে নিয়ে যান ২৯৫ রানে। তাইজুল হয়তো ৩০০ পেরোনোর স্বপ্নই দেখছিলেন। কিন্তু আবু জায়েদের কারণে তা হয়নি। আলজারি জোসেফের শিকার হয়ে মাত্র ১ রানেই করেই প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন আবু জায়েদ। ১৩ রানে অপরাজিত থেকে তার প্যাভিলিয়ন যাত্রার সঙ্গী হন তাইজুল।

লিটন-মিরাজের আগে একই কাজ করেছেন মুশফিক। ক্যারিবীয়দের ৪০৯ রানের জবাব দিতে নেমে বাংলাদেশ এক পর্যায়ে ৭১ রানেই হারায় ৪ উইকেট। সেখান থেকে দলকে পথ দেখানো শুরু করেন মুশফিক। মোহাম্মদ মিঠুনকে সঙ্গে নিয়ে গড়ে তোলেন জুটি। দ্বিতীয় দিন শেষে তারা অবিচ্ছিন্ন ৩৪ রানের জুটি গড়ে দলকে পৌঁছে দেন ১০৫ রানে। এখান থেকে শুরু করে আজ সকালে দলকে তারা নিয়ে যান ১৪২ রানে।

মানে দুজনে মিলে ৬৯ রানের জুটি গড়ে দলকে আশা দেখাচ্ছিলেন। কিন্তু মিঠুনের বিদায়ের মধ্যদিয়ে ভেঙে যায় তাদের জুটি। দলকে ১৪২ রানে রেখে ফিরে যান মিঠুন, ব্যক্তিগত ১৫ রান করে। তার বিদায়ে মুশফিকের দায়িত্ব যেন আরও বেড়ে যায়। মুশফিক খেলছিলেনও দুর্দান্ত। কিন্তু ক্যারিয়ারের ২২তম হাফসেঞ্চুরির পরই যেন তার কি হয়ে যায়! কর্নওয়ালকে রিভার্স-সুইপ করতে গিয়ে নিজের উইকেট বিসর্জন দিলেন দলীয় ১৫৫ রানে। ব্যক্তিগত ৫৪ রান করে আউট হন বড় অসময়ে! ওয়ানডে ক্রিকেটেই এমন ঝুঁকিপূর্ণ শট সহজে ব্যাটসম্যানরা খেলার সাহস দেখান না। অথচ মুশফিক সেই শট খেলতে গেলেন টেস্টে, এবং সেটা এমন একটা সময়ে, তখন উইকেট হাতে রেখে ধীরেসুস্থে দলকে এগিয়ে নেওয়ার দাবি ছিল দলের।

যাই হোক, বাংলাদেশকে ২৯৫ রানে গুটিয়ে দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংসে পেয়েছে ১১৪ রানের লিড। তাদের সেই লিডটা বেড়ে হয়ে গেছে ১৪৭। কারণ নিজেদের দ্বিতীয ইনিংস শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ (এই প্রতিবেদন লেখার সময়) ২ উইকেট হারিয়েছে করেছে ৩৩ রান। উইকেট দুটি তুলে নিয়েছেন নাঈম হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজ। নাঈম ফিরিয়ে দিয়েছেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক ক্রেইগ ব্রাফেটকে (৬)। মিরাজ আউট করেছেন শাইনি মোসেলিকে (৭)। এই প্রতিবেদন লেখার সময় জন ক্যাম্পবেল ১৫ ও এনক্রুমাহ বোনার ব্যাট করছেন ৭ রান নিয়ে।

কেআর

 

আরও পড়ুন

আরও