অবশেষে রক্ষা পাচ্ছে কবি ফররুখ আহমদের বাড়ি
Back to Top

ঢাকা, শনিবার, ১৯ জুন ২০২১ | ৫ আষাঢ় ১৪২৮

অবশেষে রক্ষা পাচ্ছে কবি ফররুখ আহমদের বাড়ি

পরিবর্তন ডেস্ক ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ, জুন ১০, ২০২১

অবশেষে রক্ষা পাচ্ছে কবি ফররুখ আহমদের বাড়ি
কাঠ ও টিন দিয়ে নির্মিত ছিলো মুসলীম রেঁনেসা যুগের কবি ফররুখ আহমেদর বসত বাড়ি। মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার মাঝাইল গ্রামে জন্ম ভিটা। কবি আজ না থাকলেও রয়েছে কবির কাঠের বেড়া ও টিনের চালার ঘর। কবির পিতা খান বাহাদুর সৈয়দ হাতেম আলীর বসত বাড়ি ওটি। এখানেই তার পূর্ব পুরুষদের আদিবাস। কাঠ ও টিন দিয়ে নির্মিত সেই ঘরে রয়েছে কবির হাজারো স্মৃতি।

আজ কবির স্মৃতি বিজড়িত বসতভিটা ও জন্ম নিয়েছিলেন যে ঘরে সেই ঘরের দরজায় পড়েছে লাল কালির একটি তীর চিহ্ন। গত ২৮ মে কবির এই জন্ম ভিটার তিন পাশে তিনটি লাল নিশান পুঁতে দেয়া হয়েছে। চিহ্ন দেয়া হয়েছে কবির বাবা খান বাহাদুর সৈয়দ হাতেম আলী এবং কবি মায়ের কবরের পাশেও। এদিকে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত সেই ঘরটিসহ কবির স্মৃতি রক্ষার জন্য পরিবারের সদস্যরা আবেদন করেছেন সংশ্লিষ্ট দফতরে। আশ্বাসও মিলেছে ইতোমধ্যে।

কবির স্মৃতি বিজড়িত সেই ঘরটির আশপাশে লাল দাগ দিয়ে গেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। বাড়ির ওপর দিয়ে যাবে রেললাইন। এই রেললাইনটি ফরিদপুরের মধুখালী হতে কামারখালী হয়ে মধুমতী নদীর ওপর দিয়ে মাগুরা পর্যন্ত যাবে।

এরপর কবির ভাতিজি দিলরুবা পরিবারের পক্ষ থেকে মাগুরা জেলা প্রশাসক বরাবর একটি আবেদন করেন।

ওই আবেদনে উল্লেখ করা হয়, মাগুরা জেলায় রেললাইন স্থাপন ও কয়েক জায়গায় রেলস্টেশন নির্মাণের জন্য সরকার কর্তৃক ভূমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে। সম্প্রতি কবি ফররুখ আহমদের বসতবাড়ির ওপর রেললাইন সংযোগের জন্য সরকার কর্তৃক মাপজোখ করা হয়েছে।

কবির ভাতিজি দিলরুব বলেন, দেশের বহু স্থানে রেললাইন থাকলেও মাগুরাবাসী এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল। মাগুরাবাসী স্বপ্ন দেখত মাগুরার ওপর দিয়ে ট্রেন যাবে রাজধানীতে। মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখরের প্রচেষ্টায় মাগুরাবাসীর সেই স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। কিন্তু আমাদের ও এলাকাবাসীর দাবি কবির বসতবাড়ি অক্ষত রেখে রেললাইন তৈরি করার জন্য, যাতে কবির শেষ স্মৃতি চিহ্ন টুকু মাগুরা থেকে হারিয়ে না যায়।

মাগুরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) মো. আফাজ উদ্দিন বলেছেন, ওই প্রকল্পের পরিচালকের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের কথা হয়েছে। বাড়ির যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সে জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কয়েকবার ওই বাড়িতে যাওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ফ্লাইওভার করে নেয়া হলে কবির বসতঘরের কোনোই ক্ষতি হবে না।

মধুখালী থেকে কামারখালী হয়ে মাগুরা শহর পর্যন্ত রেললাইন স্থাপন প্রকল্পের পরিচালক আসাদুল হক  বলেছেন, রেল লাইনটি যাবে কবির বাড়ির পাশ দিয়ে। কবির বাড়ির স্থাপনা অক্ষুণ্নরাখতে ওই অংশের লাইন যাবে উড়ালসেতু হয়ে। এছাড়া রেললাইন অন্য জায়গা দিয়ে নেওয়ার প্রশ্ন উঠলে পুরো প্রকল্পের নকশায় ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হতো। সেক্ষেত্রে পুরো প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ হুমকির মধ্যে পড়তো।  

তবে ফ্লাইওভারের উপর দিয়ে গেলেও তাতে কবির বসতবাড়িটি আর আগের মতো থাকবে না। অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন কবি পরিবারের সদস্যরা।

ওএস/এসকে
 

আরও পড়ুন

আরও