বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের ১২১ তম জন্মদিন
Back to Top

ঢাকা, রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১ | ১০ শ্রাবণ ১৪২৮

বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের ১২১ তম জন্মদিন

পরিবর্তন ডেস্ক ১:১২ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৯, ২০২১

বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের ১২১ তম জন্মদিন
কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ও কবি বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের আজ জন্মদিন। তিনি বনফুল ছদ্মনামেই অধিক পরিচিত ছিলেন। ১৮৯৯ সালের ১৯ জুলাই অবিভক্ত ভারতবর্ষের বিহার রাজ্যের মণিহারীতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাদের আদি নিবাস অধুনা পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলার শিয়াখালা গ্রাম। তাদের পরিবার ‘কাঁটাবুনে মুখুজ্জ্যে’ নামে পরিচিত ছিলো। পিতা সত্যচরণ মুখোপাধ্যায় ছিলেন পূর্ণিয়া জেলার মণিহারী ডিস্ট্রিক্ট বোর্ড হাসপাতালের ডাক্তার। মায়ের নাম মৃণালিনী দেবী। কর্মসূত্রে বনফুলের পিতা সত্যচরণ মুখোপাধ্যায় বিহারের পূর্ণিয়া জেলায় থাকার সময় তার জন্ম হয়।

শিক্ষাজীবন শুরু হয় প্রথমে মণিহারী স্কুলে। পরে সাহেবগঞ্জ উচ্চ ইংরেজী বিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং এই স্কুল থেকে ১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রবেশিকা (এন্ট্রান্স) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি আই,এস,সি, পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন হাজারীবাগ সেন্ট কলম্বাস কলেজ থেকে। একই বছরে তিনি কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হন। ইতিমধ্যে বিহারের পাটনায় মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো। বিহার থেকে আসা ছাত্র হিসেবে তিনি এ নব প্রতিষ্ঠিত কলেজে স্থানান্তরিত হন এবং সেখান থেকে এমবিবিএস (১৯২৮) পাস করেন।

কর্মজীবনের শুরু করেছিলেন কলকাতার একটি বেসরকারি ল্যাবরেটরিতে। পরে মুর্শিদাবাদের আজিমগঞ্জের মিউনিসিপ্যালিটি হাসপাতালে মেডিক্যাল অফিসার পদে কিছুকাল দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি ভাগলপুরের খলিফাবাগে নিজ উদ্যোগে The Secro-Bactro Clinic নামে একটি ল্যাবরেটরি  প্রতিষ্ঠা করেন এবং এখানে তিনি খ্যাতিমান ডাক্তার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। এরপর ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দে তিনি কলকাতায় চলে আসেন এবং স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় কৈশোর থেকেই লেখালেখি শুরু করেন। শিক্ষকদের কাছ থেকে নিজের নাম লুকোতে তিনি বনফুল ছদ্মনামের আশ্রয় নেন। ১৯১৫ খ্রিষ্টাব্দে সাহেবগঞ্জ স্কুলে পড়ার সময় মালঞ্চ পত্রিকায় একটি কবিতা প্রকাশের মধ্য দিয়ে তার সাহিত্যিক জীবনের সূত্রপাত ঘটে। শনিবারের চিঠিতে ব্যাঙ্গ কবিতা ও প্যারডি কবিতা লিখে সাহিত্য জগৎতে নিজের আসন স্থায়ী করেন। এছাড়াও নিয়মিত প্রবাসী, ভারতী এবং সমসাময়িক অন্যান্য পত্রিকায় ছোটগল্প প্রকাশ করতেন।

লেখক হিসেবে বনফুল হাজারেরও বেশি কবিতা, ৫৮৬টি ছোট গল্প, ৬০টি উপন্যাস, ৫টি নাটক, জীবনী ছাড়াও অসংখ্য প্রবন্ধ রচনা করেছেন। তার রচনাবলীসমগ্র ২২ খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে ।

সাহিত্য-সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি শরৎস্মৃতি পুরস্কার (১৯৫১), রবীন্দ্র পুরস্কার (১৯৬২), বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক (১৯৬৭) লাভ করেন। ১৯৭৩ খরিষ্টাব্দে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ডিলিট উপাধি প্রদান করে। ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ভারত সরকারের কাছ থেকে পদ্মভূষণ উপাধি পান। ১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দের ৯ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 

এসকে

 

আরও পড়ুন

আরও