করোনায় ভালো নেই নড়াইলের সাংস্কতিক কর্মীরা
Back to Top

ঢাকা, বুধবার, ১২ মে ২০২১ | ২৯ বৈশাখ ১৪২৮



করোনায় ভালো নেই নড়াইলের সাংস্কতিক কর্মীরা

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৩, ২০২১

করোনায় ভালো নেই নড়াইলের সাংস্কতিক কর্মীরা
করোনা থাবায় কঠিন সময়ের মুখোমুখি থিয়েটার পেশাজীবী ও কর্মীরা। করোনায় ভালো নেই নড়াইলের ৩৫টি সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রশিক্ষক, শিল্পী, বাদক এবং নাট্যকর্মীরা। সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো বিভিন্ন ধরণের সমস্যার ভিতর দিয়ে জীবনযাপন করেছেন।
২৫টি স্কুলে সংগীতের বিভিন্ন শাখার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বন্ধ থাকায় প্রশিক্ষকদের জোড়াতালি দিয়ে চলছে সংসার। অনেকে পেশাও ছেড়ে দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছেন। 

এমনই একজন সাংস্কৃতিক কর্মী সন্তু বৈরাগী। তিনি নড়াইলের মূর্ছনা সংগীত নিকেতনে ১০ বছর ধরে তবলার প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন। সম্প্রতি ঢাকায় গিয়ে বিভিন্ন বাসা ও প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তবলা শিখিয়েছেন । করোনা সংকট শুরুর পর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বন্ধ থাকায় নড়াইলে এসে সম্পূর্ণ বেকার হয়ে পড়েছেন। বাধ্য হয়ে এখন তিনি পেশা পরিবর্তনের কথা ভাবছেন। 

তিনি জানিয়েছেন, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত মানুষ আবার তাদের কর্মে ফিরেছেন। ব্যতিক্রম শুধু আমাদের ক্ষেত্রে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নড়াইল জেলায় সাংস্কৃতিক সংগঠন রয়েছে ৩৫টির মতো। এর মধ্যে সংগীত কন্ঠ, যন্ত্র সংগীত তবলা, নৃত্য, চিত্রাংকন, কবিতা আবৃত্তি ও গীটার শেখানোর প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে ২৫টির মতো। 

এসব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষক রয়েছেন শতাধিক। শিল্পী, বাদক এবং নাট্য কর্মী সংগঠকের সংখ্যা প্রায় ৩শ। এছাড়াও জেলায় আরও দু’শতাধিক জারি গান, কবি গান, কীর্ত্তন ও বাউল শিল্পী, কবি, সাহিত্যিক চিত্রশিল্পী রয়েছেন। 

করোনাকালীন সংকটের প্রথম দিকে এসব পরিবারের কেউ কেউ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দু’একবার খাদ্য সহায়তা পেলেও এখন আর কেউ খোঁজ নিচ্ছে না।

সংগীতের বিভিন্ন শাখার একাধিক প্রশিক্ষক এবং নাট্য কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, গণজাগরণ মঞ্চ ও জঙ্গিবাদ বিরোধী আন্দোলন, নড়াইল মুক্ত দিবস,আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ, বিজয় দিবসসহ বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠানে নিজেদের সর্বস্ব ঢেলে দেই। পরম মমতায় ছেলেমেয়েদের সংগীত, নৃত্য, ছবি আঁকা, কবিতা আবৃত্তি  ইত্যাদি শেখালেও এখন আর কেউ খোঁজ নেয় না। আমাদের অনেকেরই প্রশিক্ষণের আয়ের ওপর সংসার চলে। এখন এই বিপদের সময় তেমন কেউ খোঁজ-খবর নিচ্ছেন না।     

মূর্ছনা সংগীত নিকেতনের সভাপতি শামীমূল ইসলাম টুলু জানিয়েছেন, সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর নিজস্ব কোনো ভবন বা ঘর নাই। প্রত্যেক সংগঠনের ঘর ভাড়া নিয়ে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে হয়। ছাত্র-ছাত্রীরা বেতন ও সদস্য চাঁদা বা ভর্তুকি না দেওয়ায় আমাদের ১ বছরের বেশি ঘর ভাড়া বকেয়া পড়েছে। তারপরও আমরা অন লাইন ক্লাস কার্যক্রম চালু করি। কিন্তু পূনরায় লকডাউনের কারণে সমস্ত কার্যক্রম আপাতত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

নড়াইল সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক চিত্রা থিয়েটারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরফুল আলম লিটু জানান, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং শিল্পকলা একাডেমি থেকে যেসব অসচ্ছল শিল্পী অনুদান পাচ্ছেন তাদের অনেকেরই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দেলনে তেমন কোনো ভূমিকা নেই। এসব অনুদানে দাবিদার প্রকৃত অনেক শিল্পী অনুদান থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। শিল্পীদের তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে এসব বিষয় দেখা উচিত।
এ ব্যাপারে জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক মলয় কুণ্ডু বলেন, জেলায় অনেক জারি ও বাউল শিল্পী, কবি সাহিত্যিক চিত্রশিল্পী অসহায়ভাবে দিন কাটাচ্ছেন। করোনাকালে প্রণোদনা হিসেবে এ পর্যন্ত ৫০জন দুস্থ অসহায় সংগীত শিল্পী, কবি ও নাট্য কর্মীকে ৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। পরে আরও ৪০জনের তালিকা পাঠানো হয়েছে। 

এছাড়া সংস্কৃতি মন্ত্রনালয় থেকে এবছর জেলার অসচ্ছল ৬৯জন কবি, সাহিত্যিক ও শিল্পীকে ১০ লাখ ৬২ হাজার টাকা  এবং ২৩টি সংস্কৃতিক সংগঠনের জন্য ৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। 

তিনি আরো জানিয়েছেন, ২০২১ সালে ৮২ জন কে ১০,০০০ টাকা করে অনুদান দিয়েছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। তবে ৮২ জনের মধ্যে অধিকাংশ প্রকৃত শিল্পীরা এই অনুদান পায় নি।

নড়াইল জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক মলয় কুন্ডু সাথে কথা বলে জানা গিয়েছে, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অসচ্ছল শিল্পীদের তালিকা সঠিকভাবে করা শুরু হয়েছে।

এসকে/
 

আরও পড়ুন

আরও