ব্যস্ত সময় পার করছেন 'চাই' তৈরির কারিগররা
Back to Top

ঢাকা, রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১ | ১০ শ্রাবণ ১৪২৮

ব্যস্ত সময় পার করছেন 'চাই' তৈরির কারিগররা

বাগেরহাট প্রতিনিধি ৯:৩৮ অপরাহ্ণ, জুন ২৯, ২০২১

ব্যস্ত সময় পার করছেন 'চাই' তৈরির কারিগররা
বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিতে নদী, খালে, বিলে, মাঠে, ঘাট পানিতে ভরে যায় আর এ সময় মাছ শিকারীরা মাছ ধরার কাজে ব্যস্ত হয়ে যায়। আর এ সময় মাছ শিকারের জন্য মাছ শিকারের খাজার ব্যাপক চাহিদা থাকে।

মাছ শিকারিদের মাছ শিকারে খাঁচা চাহিদার কারনে বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় খাচা তৈরী কারিগরেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। তৈরীর চেয়ে চাহিদা বেশি থাকায় কারিগড়দের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। তাই এখন মাছ শিকারের খাঁচা তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শরণখোলা উপজেলার উত্তর কদমতলা গ্রামের (মাছ ধরার খাঁচা) তৈরীর কারিগরা। বেশী চাহিদা থাকায় (মাছ শিকারের খাঁচা) তৈরী ও বিক্রি বেড়েছে খাঁচা তৈরীর কারখানা গুলোতে।

উত্তর কদমতলা গ্রামের মাছ শিকারের খাঁচা তৈরি কারিগর জামাল মুন্সি জানিয়েছেন, বছরের বৈশাখ, জৈষ্ঠ্য ও আষাঢ় এ তিন মাস আমি দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরার ‘চাঁই’ বা  ‘খাঁচা’র ব্যবসা করি। তবে, বিক্রির আগে মাঘ মাসে  উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বাঁশ ও অন্যান্য উপকরণ কিনে মাছ শিকারের খাঁচা (চাঁই) বুনানোর কাজ শুরু করি। ৩ থেকে ৪ মাসে এক হাজারের বেশি ‘চাঁই’ তৈরি করি। জৈষ্ঠ্য-আষাঢ মাসের বৃষ্টিতে মাঠ ঘাট পানিতে তলিয়ে যায় তখনই  সেই মাছ শিকারের খাঁচা (চাঁই) গুলো  বেচা কেনার ধুম পড়ে যায়। এ উপজেলা পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকার মানুষ ‘চাঁই’ কিনে নিয়ে খাল বিল মাঠ ঘাটে  পেতে মাছ ধরেন।

তিনি আরো বলেন, বছরে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার ‘চাঁই’ বিক্রি করেন। এতে তার প্রায় লাখ টাকা লাভ হয় । আর ওই টাকায় সংসার চলে। তবে, চলতি  বছর  খরা ও বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় মাঠে ঘাটে পানি না ওঠায়  শুরুতে ‘চাঁই’ তেমন বিক্রি হয় নাই। যার ফলে এনজিওর কাছে কিছু টাকা  ঋণগ্রস্ত হয়ে আছি। তবে, হঠাৎ করে বৃষ্টিপাত বেড়ে যাওয়ায় এলাকার সব ব্যবসায়ীদের বেচা-কেনা খুব ভালো হচ্ছে।

ব্যবসায়ী হালিম হাওলাদার, হাবিব হাওলাদার ও হারুন মুন্সি  সহ একাধিক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, এ গ্রামে প্রায় অর্ধশত পরিবার ৩০ বছর ধরে মাছ ধরার  ‘চাঁই’ (খাঁচা) তৈরি করে আসছেন। শরনখোলা উপজেলা ছাড়া পার্শ্ববর্তী মোড়েলগঞ্জ, সন্যাসী, তুষখালী, মঠবাড়ীয়া, ভান্ডারিয়া সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লোক এসে পাইকারী দরে হাজার হাজার ‘চাঁই’ কিনে নিয়ে যায়। একটি ‘চাঁই’ ১০০  টাকা থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হয়। বছরে  এখানে ২৫/৩০ লাখ টাকার ‘চাঁই’ বেচাকেনা হয়ে থাকে।

তবে, আমরা (ব্যাবসায়ীরা) এনজিও এবং মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে কাঁচামাল (চাঁই) বানানোর উপকরণ কিনে থাকি। তাদের দাবি বিনা সুদে ঋণ পেলে এ শিল্পকে আরো উন্নত করতে পারবেন।

এসকে

 

আরও পড়ুন

আরও