তাড়াশে শ্যামখৈল পাখির বিচরণ
Back to Top

ঢাকা, রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১ | ১০ শ্রাবণ ১৪২৮

তাড়াশে শ্যামখৈল পাখির বিচরণ

তাড়াশ(সিরাজগঞ্জ)প্রতিনিধি ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১০, ২০২১

তাড়াশে শ্যামখৈল পাখির বিচরণ
চলনবিল অধ্যাসিতু সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বিভিন্ন ফসলি মাঠে ঝাঁকে ঝাঁকে শ্যামখৈল পাখির বিচরণ করতে দেখা গেছে। গত এক দশক আগেও বেশ সংখ্যক শ্যামখৈল পাখি চলনবিলের মাঠে দেখা মেলেনি।

সরজমিনে দেখা যায়, নওগাঁ ইউনিয়নের চৌপাকিয়া, খোলাবাড়িয়া, সাকই, মাধাইনগর ইউনিয়নের ভাদাসঁ, সেরাজপুর সহ বিভিন্ন গ্রামের ফসলি মাঠে ঝাকেঁ ঝাকেঁ শ্যামখৈল পাখি। এদিকে প্রতিদিন সকালে বিল পাড়ের মানুষ বর্ণিল সাজে ঝাঁকে ঝাঁকে পড়া শ্যামখৈল পাখি মন ভরে দেখছেন। আবার অনেকে পাখি শিকারের জন্য ফন্দি আঁটছেন।

উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের প্রবীন ব্যাক্তি শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, চলনবিল অধ্যাষিতু তাড়াশ উপজেলাসহ চলনবিল অঞ্চলে ৭০ থেকে ৮০-এর দশকে মূলত বর্ষা শেষে কার্তিক থেকে মাঘ মাস পর্যন্ত বিভিন্ন প্রজাতির দেশি ও অতিথি পাখি খাদ্য সংগ্রহের জন্য বিলপাড়ের নিচু জমিতে ঝাঁকে ঝাঁকে আসত। সাম্প্রতিক সময়ে আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব, ফসলি মাঠে মাত্রারিক্ত কীটনাশক ব্যবহারে পাখির খাদ্যস্বল্পতা ও নির্বিচারে পাখি নিধনের ফলে পাখি আসার সংখ্যা কমে যাচ্ছে। কিন্তু অনেক দিন পর হঠাৎ করেই আষাঢ় মাসে পানিহীন চলনবিলের নয় উপজেলার বিভিন্ন অংশে ফাঁকা ফসলি মাঠে শ্যামখৈল পাখি আসতে শুরু করেছে। ছাই রঙের লম্বাটে পায়ের অধিকারী এসব পাখির ওজন এক থেকে দেড় কেজি। 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিদ্যা বিভাগের ডিন ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, শ্যামখৈল এ অঞ্চলে শামুকখৈল নামে পরিচিত। মাংসভোজী শ্যামখৈল পাখি ছোট ছোট শামুক, মাছ ও পোকামাকড় খেয়ে থাকে। এ প্রজাতির পাখি বিল অঞ্চলে এবং দেশের উত্তর অঞ্চলে বিশেষ করে সিলেট হাওর অঞ্চলে আবার ভারতের আসাম প্রদেশের বিভিন্ন অংশে জলাশয়ের পাশে অবস্থান করে। হয়ত এ বছর শ্যামখৈল পাখিদের খাদ্য ঘাটতি, তাদের আবাসস্থলের সমস্যা, প্রতিকূল পরিবেশের কারণে চলনবিলে অসময়ে পাখিগুলোর আসার কারণ হতে পারে।

এসকে
 

আরও পড়ুন

আরও