জলঢাকায় কলেজ পর্ষদের সভাপতি নিয়ে তুলকালাম
Back to Top

ঢাকা, বুধবার, ১২ মে ২০২১ | ২৯ বৈশাখ ১৪২৮



জলঢাকায় কলেজ পর্ষদের সভাপতি নিয়ে তুলকালাম

নীলফামারী প্রতিনিধি ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ, মে ০৪, ২০২১

জলঢাকায় কলেজ পর্ষদের সভাপতি নিয়ে তুলকালাম
হরিশচন্দ্রপাঠ স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মনোনয়নকে কেন্দ্র করে তুলকালাম ঘটে গেছে নীলফামারীর জলঢাকায়।
সোমবার (৩ মে) দুপুরে এ হামলার ঘটনায় আহত হয়েছেন জলঢাকা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহেদ বাহাদুর ও স্থানীয় ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম।

এর মধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যানকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং অপরজনকে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

এ ঘটনায় দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। তারা হলেন হরিশচন্দ্রপাঠ সুরিপাড়া এলাকার কাল্টু মামুদের ছেলে আনিছুর রহমান (৩৫) ও একই এলাকার ঝড়– মামুদের ছেলে লোকমান হোসেন (৫০)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিচালনা পর্ষদ ছাড়াই চলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি। গত দুই মাস থেকে বেতনভাতা বন্ধ রয়েছে শিক্ষক-কর্মচারীদের। এরই মধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য মেজর (অব.) রানা মোহাম্মদ সোহেল সম্প্রতি ব্যবসায়ী মঞ্জুরুল আলম সিয়ামকে সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন দেন প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পর্ষদের জন্য। কিন্তু এই মনোনয়ন মেনে নেননি স্থানীয়রা। 

এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক বিষয় নিয়ে গতকাল সোমবার শিক্ষক ও অভিভাবকদের মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে সংসদ সদস্য, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, নীলফামারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও জলঢাকা পৌরসভার মেয়র উপস্থিত ছিলেন।

সংসদ সদস্যের মনোনীত সভাপতির প্রসঙ্গ নিয়ে মতবিনিময় সভায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে বিষয়টি হাতাহাতিতে গড়ায়। এসময় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহেদ বাহাদুর এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জাতীয় পার্টির নেতা শফিকুল ইসলাম আহত হন।

শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, দুই মাস ধরে বেতনভাতা বন্ধ প্রতিষ্ঠানটিতে। এর আগেও দেখেছি স্থানীয় কেউ না হয়ে বাইরের মানুষ এসে এখানে সভাপতির দায়িত্ব পান। আবারও সভাপতি হিসেবে এলাকার বাইরের একজনকে দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এমপির মনোনীত ব্যক্তিকে সভাপতি হিসেবে মেনে নেওয়ার জন্য জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চাপ দিচ্ছেলেন প্রতিষ্ঠান প্রধানকে। অন্যথায় বিলে সই করবেন না বলে জানাচ্ছিলেন। 

তিনি বলেন, গতকাল দুপুরে মতবিনিময় সভায় অতর্কিতে আমার ওপরে হামলা চালান উপজেলা চেয়ারম্যান ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, সিয়াম নামে যে ব্যক্তিকে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, তিনি আওয়ামী লীগও করেন না, এমনকি জাতীয় পার্টিও করেন না।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহেদ বাহাদুর বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মিত কমিটি না থাকায় যে সংকট তা নিরসনের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। কিন্তু প্রধান শিক্ষক সহযোগিতা না করায় এবং তার পরিকল্পনা অনুযায়ী আমার ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়।

খুটামারা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু সাঈদ শামীম বলেন, মূলত এমপির ডিওপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে সভাপতি হিসেবে গ্রহণ করছিলেন না স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ। প্রতিষ্ঠানটিতে স্থানীয় কেউ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করুক-সেটি চান তারা। মনোনীত ব্যক্তিকে মেনে নেওয়া না নেওয়া নিয়ে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে আমি মনে করি।

সংসদ সদস্য মেজর (অব.) রানা মোহাম্মদ সোহেল বলেন, প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে বিধি মোতাবেক যা করণীয় ওই প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আমি তাই করেছি। এ ঘটনায় কোনো স্বার্থান্বেষী মহলের ইন্ধন থাকতে পারে।

জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় ইতোমধ্যে দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন নীলফামারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম মুক্তারুজ্জামান।

এইচআর
 

আরও পড়ুন

আরও