তামাশা থেকে আ’লীগের জন্ম: মির্জা ফখরুল
Back to Top

ঢাকা, শনিবার, ১৯ জুন ২০২১ | ৫ আষাঢ় ১৪২৮

তামাশা থেকে আ’লীগের জন্ম: মির্জা ফখরুল

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৭:১২ অপরাহ্ণ, জুন ১০, ২০২১

তামাশা থেকে আ’লীগের জন্ম: মির্জা ফখরুল
‘জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় গণতন্ত্র ছিল তামাশা’, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশে বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় গণতন্ত্র যদি ‘তামাশা’ হয়, তাহলে আপনাদের জন্মইতো সেই ‘তামাশা’ থেকে।আপনারাতো বাকশাল করে নিজেদেরকে নাই ঘোষণা করে দিয়েছিলেন’  

বৃহস্পতিবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব এসব প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কমিটির উদ্যোগে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪০তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাহেব অনেক কথা বলেন, তার একটা কথার উত্তর না দিলে অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। তিনি বলেছেন, ‘জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় গণতন্ত্র ছিল নাকি তামাশা। ’ আরে আপনাদের জন্মইতো ওই বহুদলীয় গণতন্ত্র থেকে। ৭৫ সালে আপনাদের নেতা এবং আপনারা বাকশাল করে নিজেদেরকে নাই ঘোষণা করে দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, আমরা বাকশাল, আওয়ামী লীগ নাই। পরে যখন জিয়াউর রহমান সাহেব আপনাদের সুযোগ দিলো তখন আপনারা নিবন্ধন করেছেন। আপনাদের তিনি আবার নিয়ে এসেছেন ওই বহুদলীয় গণতন্ত্রের মাধ্যমে। এখন বলেন তামাশা?

হাসানুল হক ইনু একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি আওয়ামী লীগ থেকে বের হয়ে অস্ত্র হাতে ‍তুলে নিয়েছিলেন। গণবাহিনী তৈরি করেছিলেন। আওয়ামী লীগের অনেককে হত্যা করেছেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। ওই হাসানুল হক ইনুকেই আপনারা মন্ত্রী বানিয়েছেন। কালেরচক্রে তিনিই   সবচেয়ে বড় দালালে পরিণত হন। তিনি জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে কথা বলেন,  দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কথা বলেন।

নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে আন্দোলনের জন্য দলকে ‘সর্বাত্মক’ প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এখন আর সময় নাই। আগামী দিনের জন্য নিজেকে তৈরি করে ফেলেন। শক্ত হয়ে দাঁড়াই নিজেদের পায়ে,জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করি।

মির্জা ফখরুল বলেন, দাবি একটাই বাংলাদেশকে রেহাই দিন। আমাদের পরিষ্কার কথা,অবিলম্বে পদত্যাগ করুন। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে,  নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে, নিরপেক্ষ অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন দিন। তা না হলে এই বাংলাদেশের মানুষ কীভাবে তাদের অধিকার আদায় করতে হয় তারা তা জানে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সরকারদলীয় একজন এমপি কিছুদিন আগে পার্লামেন্টে বলেছেন, বড় চোরদের চুরি দেখে ছোট চোররা এখন লজ্জা পাচ্ছে। বড় চোর হচ্ছে ওদের মন্ত্রী, বড় বড় নেতারা। করোনা মানুষের জীবন নিয়ে যাচ্ছে। মানুষের জীবনের প্রশ্ন, বাঁচার প্রশ্ন, মরার প্রশ্ন; সেখানেও তারা চুরি করছে। করছে টেস্টে চুরি, মাস্কে চুরি, পিপিইতে  চুরি, ডাক্তার-নার্সদের টাকা দেয়ার বেলায় চুরি, আইসিইউ বেডে চুরি- শেষ পর্যন্ত হাসপাতাল চুরি, একটা হাসপাতাল নাই, উধাও হয়ে গেছে।’

তিনি যোগ করেন, ‘আবার নতুন করে একটা হাসপাতাল তৈরি করবে,  আবার ওখানে চুরি করবে, আবার কমিশন নেবে। আর ওই টাকা পাঠাবে কানাডা, মালয়েশিয়া, ইংল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে। আমার কথা নয়, আপনারাই এখন বলতে শুরু করেছেন পার্লামেন্টে, বিভিন্ন জায়গায়.. এই যে অর্থপাচার হচ্ছে -এটা ভয়াবহ। আমাদের অর্থনীতিবিদরা বলছেন যে, ছয় লাখ কোটি টাকা গত কয়েক বছরে দেশ থেকে পাচার হয়ে গেছে; এটাই হলো আওয়ামী লীগ। 

সরকারি দলের নেতাকর্মীদের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘চারিদিকে, আপনাদের আশপাশে তাকিয়ে দেখবেন, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা রাতারাতি সব আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছে। এদের হাতে যদি দেশ বেশিদিন থাকে, এই দেশের অস্তিত্ব থাকবে না, এ দেশ টিকবে না। ছোট বেলা আমরা পড়তাম, গানও শুনেছি- ছেলে ঘুমালো, পাড়া জুড়ালো বর্গী এলো দেশে। সেই হলো বর্গী এরা।

ওএস/এসবিসি 
 

আরও পড়ুন

আরও