সংসদে সাংবাদিক রোজিনার মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানালেন রুমিন
Back to Top

ঢাকা, শনিবার, ১৯ জুন ২০২১ | ৫ আষাঢ় ১৪২৮

সংসদে সাংবাদিক রোজিনার মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানালেন রুমিন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৫:১৩ অপরাহ্ণ, জুন ০৬, ২০২১

সংসদে সাংবাদিক রোজিনার মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানালেন রুমিন
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের করা শতবর্ষ পুরনো আইন অফিসিয়াল সিক্রেটস আ্যক্ট মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি রুমিন ফারহানা।
এ ছাড়া সচিবালয়ে সাংবাদিক রোজিনাকে  যে হেনস্তা করা হয়েছে, যারা এজন্য দায়ীদের ব্যাপারে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তাও স্পিকারের মাধ্যমে সরকারের কাছে জানতে চেয়েছেন তিনি।

রোববার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে চলতি অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে উপস্থিত ছিলেন। 

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘সম্প্রতি স্বাস্থ্যখাতের ভয়ঙ্কর দুর্নীতির খবর প্রকাশ হয়েছে। হেল্থ টেকনিশিয়ান নিয়োগে মাথাপিছু ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা নেয়া হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়। 

‘এখন এক কোটি দেব পরে আরো এক কোটি পাবেন’ এবং স্বাস্থ্য খাতের নানা অনিয়ম নিয়ে রিপোর্ট করে স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম দুর্নীতি যখন রোজিনা তুলে ধরেছেন তখন তাকে চরমভাবে হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে। 

‘মানুষের চিন্তা বাক ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং মুক্তি গণমাধ্যমের স্বার্থে প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।’ 

রুমিন বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রসঙ্গে একটা বিষয় খুব স্পষ্ট বলতে চাই, কোনো গণমাধ্যমকে তার রিপোর্ট প্রকাশের জন্য যদি হেনস্তার শিকার হতে হয়, জীবন হুমকির মুখে পড়তে হয়, তখন আর কোনো গণমাধ্যমই স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না। 

বিশ্ব গণমাধ্যম সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫২তম। মিয়ানমার এবং আফগানিস্তানের অবস্থান তার চাইতে ভালো বলে সংসদে উল্লেখ করেন রুমিন। 

এর আগে তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের বরাদ্দ বাড়লেও গত ১০ বছরের মধ্যে স্বাস্থ্যখাতের এডিপি বাস্তবায়ন এ বছরই সবচেয়ে কম। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে বাজেটের মাত্র ২৫ শতাংশ ব্যয় করেছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। অথচ করোনায় সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। অথচ তারা বরাদ্দকৃত অর্থ খরচে অদক্ষতা দেখিয়েছে।’

রুমিন বলেন, ‘স্বাস্থ্যখাতে তবুও বরাদ্দ বাড়ানোর অর্থ যে কী সেটা দেশের মানুষ খুব ভালো জানে।এ দেশে অকল্পনীয় দামে বালিশ, পর্দা, কাঁটাচামচ কিনতে মানুষ দেখেছে । এখন দেখা যাচ্ছে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে ২৫০ টাকার বিশেষ সুঁই ২ হাজার ৫০০ হাজার টাকায় কেনা হচ্ছে।’

‘গত বছরও করোনার মধ্যে বাজেট দেয়া হয়েছিল কিন্তু স্বাস্থ্যখাতে আমরা ন্যূনতম বরাদ্দ দেখতে পারিনি। জিডিপির অনুপাতে মাত্র ৯ শতাংশ বরাদ্দ ছিল। যেটা নিয়ে স্বয়ং স্বাস্থ্যমন্ত্রীও হতাশা প্রকাশ করেন। তাই বর্তমানে আমাদের এমন মাশুল দিতে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বারবার নির্দেশনা দেয়ার পরও দেশের ৪২টি জেলায় এখনো সরকারি পর্যায়ে কোনো আইসিইউ নেই কেন? চিকিৎসাসেবা এখন ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রতি বছর প্রায় ৬৬ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যায়।’

বিএনপির এই সাংসদ বলেন, ‘এই মহামারির শুরু থেকেই টিকা ব্যবস্থা নিয়ে আমরা নয়ছয় দেখেছি। সেরাম ইনস্টিটিউটের ছয় মাসে তিন কোটি ডোজ দেয়ার কথা থাকলেও এবং সে বাবদ মূল্য পরিশোধ করার পরও টিকা আসে মাত্র ৭০ লাখ পিস। বেক্সিমকো এর মধ্যেই লাভ করে নিয়েছে ৩৮ কোটি টাকা। আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীই বলেছেন,নিজের ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষায় চাপের কারণেই সরকার বিকল্প পথে যেতে পারেনি। 
এক ক্ষমতাশালী ব্যক্তিকে লাভবান করতে রাষ্ট্রের নাগরিকদের জীবন আজ হুমকির সম্মুখীন।’

এসবিসি
 

আরও পড়ুন

আরও