দেশে সিনোফার্মের টিকা দেওয়া শুরু
Back to Top

ঢাকা, রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১ | ১০ শ্রাবণ ১৪২৮

দেশে সিনোফার্মের টিকা দেওয়া শুরু

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৯, ২০২১

দেশে সিনোফার্মের টিকা দেওয়া শুরু
সারা দেশে আজ শনিবার থেকে চীনের সিনোফার্মের টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। প্রতিটি জেলায় একটি কেন্দ্রে এই টিকা দেওয়ার মধ্য দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এ কর্মসূচি শুরু করেছে।

এর আগে এই টিকা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পৌঁছানো হয়েছে। টিকাকেন্দ্র শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। 

স্বাস্থ্য অধিদফতার থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

ঢাকা জেলায় ৪টি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে সিনোফার্মের টিকা। সেগুলো হলো ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। এসব হাসপাতালে একটি করে টিকা কেন্দ্র হবে এবং প্রতিটি কেন্দ্রে দুটি করে বুথ থাকবে। 

ইতোমধ্যে নিবন্ধন করা ব্যক্তিরা সিনোফার্মের টিকা পাবেন। এ পর্যন্ত নিবন্ধন করেছেন ৭২ লাখ ৪৮ হাজার ৮২৯ জন। এঁদের মধ্যে ৫৮ লাখ ২০ হাজার ১৫ জন অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার প্রথম ডোজ পেয়েছেন। এই টিকার দ্বিতীয় ডোজের অপেক্ষায় আছেন প্রায় ১৫ লাখ মানুষ। তাদের দ্বিতীয় ডোজ হিসেবে সিনোফার্ম বা ফাইজারের টিকা দেওয়া হবে কি না, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। 

দেশে টিকাদান কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাতৃ, নবজাতক ও শিশু স্বাস্থ্য কর্মসূচির আওতায়। 

দ্বিতীয় ডোজ ৪ সপ্তাহ পর

সিনোফার্মের টিকার প্রথম ডোজের সঙ্গে দ্বিতীয় ডোজের ব্যবধান নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ সপ্তাহ বা ২৮ দিন। এছাড়া ভ্যাকসিন কেন্দ্রের অন্যান্য ব্যবস্থাপনা আগের মতোই প্রস্তুত করার নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহে যারা আগে নিবন্ধন করেছেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রথম ডোজ ভ্যাকসিন পাননি, তাদের ভ্যাকসিন দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কেন্দ্র থেকে এসএমএস’র মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জানাতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে কেন্দ্র পরিবর্তন করে ভ্যাকসিন নেওয়ার সুযোগ থাকছে না।

সিনোফার্মের টিকা যাদের জন্য

এই টিকা দেওয়ার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ ক্যাটাগরির ব্যক্তিদের। এরমধ্যে টিকার জন্য নির্ধারিত কেন্দ্রে ইতোমধ্যে যারা টিকা নেওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো টিকা পাননি, তাদের এই টিকা দেওয়া হবে। 

অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি স্বাস্থ্যকর্মী ও পুলিশ সদস্যরা যারা আগে টিকা নেননি, অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিদেশগামী বাংলাদেশি কর্মী, যাদের বিএমইটি নিবন্ধন কিংবা কার্ড আছে, সরকারি ও বেসরকারি মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজের শিক্ষার্থীরা, সরকারি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি, সরকারি ম্যাটস ও সরকারি আইএইচটির শিক্ষার্থীরা, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা, বিডা’র আওতাধীন ও অন্যান্য জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক সরকারি প্রকল্পে (পদ্মা সেতু প্রকল্প, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্প, মেট্রোরেল প্রকল্প, এক্সপ্রেস হাইওয়ে প্রকল্প, রূপপুর বিদ্যুৎ প্রকল্প, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র) সম্পৃক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার পরিচ্ছন্নতাকর্মী, সারাদেশে কোভিড-১৯ মৃতদেহ সৎকারে নিয়োজিত ওয়ার্ড/পৌরসভার কর্মী এবং বাংলাদেশে বসবাসরত চীনা নাগরিকরা পাবেন সিনোফার্মের এই টিকা।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়, আগে অন্য কোনও কোভিড-১৯ টিকা নেওয়া থাকলে এই টিকা দেওয়া যাবে না। নিবন্ধন ছাড়া কেউ টিকা গ্রহণ করতে পারবে না। তাছাড়া অন্য কোনো দেশ থেকে প্রথম ডোজ টিকা গ্রহণ করে বাংলাদেশে এলে দ্বিতীয় ডোজ হিসেবে এ টিকা দেওয়া যাবে না। 

সরকারি ও বেসরকারি মেডিক্যাল এবং ডেন্টাল কলেজের শিক্ষার্থী, সরকারি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি, সরকারি ম্যাটস এবং সরকারি আইএইচটি শিক্ষার্থীরা জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকলে স্টুডেন্ট আইডি’র তথ্য লিপিবদ্ধ করে টিকা নিতে পারবেন, কিন্তু দ্বিতীয় ডোজের টিকা গ্রহণের আগে জাতীয় পরিচয়পত্র সুরক্ষায় ওয়েব পোর্টালে/অ্যাপে নিবন্ধন করে নিতে হবে।

যাদের টিকা দেওয়া হবে না

সিনোফার্মের এই টিকা ১৮ বছরের নিচে কাউকে দেওয়া হবে না। টিকা গ্রহণের সময় জ্বর থাকলে বা অসুস্থ থাকলে, টিকাজনিত অ্যালার্জির পূর্ব ইতিহাস থাকলে, প্রথম ডোজ গ্রহণের পর মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে তিনি এ টিকা নিতে পারবেন না। অনিয়ন্ত্রিত দীর্ঘমেয়াদি রোগ, যেমন: ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্ট্রোক, ঘা, অ্যাজমা, কিডনি রোগ, ডায়ালাইসিস নিচ্ছেন এমন ব্যক্তি, ক্যানসারে আক্রান্ত এবং স্বল্প রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জনগোষ্ঠীর টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম জানান, ১৯ জুন থেকে আবারও টিকার কার্যক্রম শুরু হবে। ঢাকায় যেসব মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট-কলেজ আছে সেখানে আমরা আবার প্রথম ডোজের টিকা দেওয়া শুরু করবো। সিনোফার্ম ও ফাইজারের টিকা দিয়ে এ কার্যক্রম চলবে। ভ্যাকসিন সরবরাহ অব্যাহত থাকলে কার্যক্রম চলতে থাকবে। 

ইতোমধ্যে বেশিরভাগ জেলাতেই সিনোফার্মের টিকা পৌঁছে গেছে বলেও জানান তিনি।

১৯ জুন থেকেই টিকা দেওয়া হবে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, বাংলাদেশকে মোট ১১ লাখ ডোজ সিনোফার্মের টিকা উপহার দিয়েছে চীন। এরমধ্যে ৩০ হাজার ডোজ এ দেশে কর্মরত নিজেদের কর্মীদের জন্য নেয় চীন। বাকি ১০ লাখ ৭০ হাজার ডোজ টিকা দেশের ৫ লাখ ৩৫ হাজার মানুষকে দেওয়া যাবে।

গত ১৩ জুন বিকাল ৫টার পর বিমানবাহিনীর দুটি উড়োজাহাজে করে চীনের উপহারের ৬ লাখ ডোড সিনোফার্মের টিকা আনা হয়।

ওএস/এইচআর

 

আরও পড়ুন

আরও