টাঙ্গাইলে দেড় শতাধিক ঘর-বাড়ি নদীগর্ভে
Back to Top

ঢাকা, রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১ | ১০ শ্রাবণ ১৪২৮

টাঙ্গাইলে দেড় শতাধিক ঘর-বাড়ি নদীগর্ভে

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ১২:০৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০২১

টাঙ্গাইলে দেড় শতাধিক ঘর-বাড়ি নদীগর্ভে
বর্ষায় টাঙ্গাইলে যমুনা নদীর পানি প্রতিদিনই অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথেই টাঙ্গাইলের ৩টি উপজেলায় দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন।

গত এক সপ্তাহে প্রায় দেড় শতাধিক ঘর-বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। 

ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে ভাঙন কবলিত মানুষজন। অনেকে ঘর বাড়ি সরিয়ে নেয়ার সুযোগটুকু পাচ্ছে না। এসব ভাঙন কবলিত মানুষ ঘর বাড়ি ও ফসলি জমি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। 

সদর উপজেলার মাহমুদ নগর ইউনিয়নের মাকরকোল, কুকুরিয়া, কাতুলী ইউনিয়নের ইছাপাশা, খোশালিয়া; হুগড়া ইউনিয়নের মসপুর, চকগোপাল ও এবং কাকুয়া ইউনিয়নের কাকুয়া ও চরপৌলীসহ কয়েকটি গ্রাম, কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়নের আলীপুর এবং দুর্গাপুর ইউনিয়নের বল্লভবাড়ী, নাগরপুর উপজেলার সলিমাবাদ ইউনিয়নের পাইকশা মাইঝাইল, খাস তেবাড়িয়া, চর সলিমাবাদ; ভারড়া ইউনিয়নের শাহজানি, পাঁচতারা, আগদিঘলীয়া এবং দপ্তিয়র ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর এবং ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের ভালকুটিয়া গ্রামে ভাঙন দেখা দিয়েছে। 

ভাঙন কবলিত এলাকাবাসী জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি কোনো প্রকার ত্রাণ সহায়তা পায়নি। 

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক সদর উপজেলার চর পৌলী এলাকায় মাত্র ৩শ’ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করা হলেও তা কোনো কাজে আসছে না। কাজের গুণগতমান ও অপিরিকল্পিতভাবে কাজ করায় যেখানে জিওব্যাগ ফেলা হয়েছে সেখানেও ভেঙে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ এলাকাবাসীর।  

গত বৃহস্পতিবার এক রাতে শুধুমাত্র সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডের শতাধিক বাড়িঘর, তাঁত ফ্যাক্টরি, স’মিল ও হাট যমুনার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ সময় তিনটি ইউনিয়ন পরিষদের সাথে বঙ্গবন্ধুসেতুর যোগাযোগের সংযোগের অসমাপ্ত শেখ হাসিনা সড়কের একাংশ যমুনার পেটে চলে গেছে। 

এছাড়া গত দুইদিনে কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়নের আলীপুর এবং দুর্গাপুর ইউনিয়নের ভৈরববাড়ী গ্রামে ১৭টি ঘরবাড়ি ও ২৬টি দোকান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। 

সদর উপজেলার উত্তর চরপৌলী গ্রামের নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, দেড় একর জায়গায় তার তাঁত ফ্যাক্টরি ছিলো। ফ্যাক্টরিতে ৫০টি পাওয়ারলোম চালু অবস্থায় ছিলো। বৃহস্পতিবার রাতে যমুনার ভাঙনের কবলে পড়ে। 

তিনি শ্রমিকদের নিয়ে ফ্যাক্টরির তাঁতগুলো কোনো রকমে সরিয়ে নিতে পারলেও ঘরটি নদীর পেটে চলে গেছে। 

হাটখোলা এলাকার গৃহবধূ মিনা আক্তার জানিয়েছেন, তাদের ৬০ শতাংশের বসতবাড়ি ছিলো। সম্প্রতি ভাঙনের শিকার হয়ে এখন ১২-১৩ শতাংশ ভূমির উপর মাত্র একটি ঘর টিকে আছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে সেটাও নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। তারা বর্তমানে চরপৌলী খামার পাড়া এলাকায় সরকারি খাসজমিতে বসবাসের জন্য ঘর নির্মাণ করছেন। 

কবরস্থান পাড়ার আব্দুল গফুর মণ্ডল ও আজিজ মণ্ডল জানিয়েছেন, মাত্র ৩০মিনিটের মধ্যে ৬০ শতাংশের বাড়িঘর নদীর পেটে চলে গেছে। 

কাকুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জানিয়েছেন, ভাঙনের শিকার হয়ে আমার ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। গত ৩-৪ দিনের ভাঙনে ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় গ্রাম চরপৌলীর বহু স্থাপনা ও বাড়িঘর যমুনার যমুনা গিলে খেয়েছে। ইতিমধ্যেই অনেকে শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙনরোধে জিওব্যাগ ফেললেও তা কোনো কাজে আসছে না। 

তিনি আরো জানিয়েছেন, প্রায় ২৫ থেকে ৩০ বছর ধরে নদী ভাঙছে। ১৬ থেকে ১৭টি গ্রাম নিয়ে কাকুয়া ইউনিয়ন। বিগত সময়ে নদীভাঙনের কারণে বর্তমানে ৯টি গ্রাম রয়েছে। বাকিগুলো নদী গর্ভে চলে গেছে। এ অবস্থায় ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ অতি জরুরি। 

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম পরিবর্তনকে জানিয়েছেন, টাঙ্গাইলের চরাঞ্চলের বিশাল এলাকা প্রতি বছরই যমুনার ভাঙনের শিকার হয়। জরুরি ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো রক্ষায় জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এ কাজগুলো হচ্ছে জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ী কাজ। কারণ এখন কোনো প্রজেষ্ট ও  বরাদ্দ নেই। 

তিনি আরও জানান, এসব ভাঙনরোধে একটি স্থায়ী বাঁধের প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু করোনার কারণে দেড় বছরেও প্রকল্পটি অনুমোদন না হওয়ায় কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। অনুমোদন পেলে ভাঙন রোধে দ্রুতই স্থায়ী কাজ করা হবে।  
এসকে/এইচআর
 

আরও পড়ুন

আরও