সেতুর উপর বাঁশের সাঁকো, দুর্ভোগে ৬ গ্রামবাসী
Back to Top

ঢাকা, শনিবার, ১৯ জুন ২০২১ | ৫ আষাঢ় ১৪২৮

সেতুর উপর বাঁশের সাঁকো, দুর্ভোগে ৬ গ্রামবাসী

আব্দুল্লাহ আল নোমান ৩:৫৮ অপরাহ্ণ, জুন ০৬, ২০২১

সেতুর উপর বাঁশের সাঁকো, দুর্ভোগে ৬ গ্রামবাসী
টাঙ্গাইলের নাগরপুরে নোয়াই নদীর ওপর নির্মিত সেতু ভেঙে পড়ার ৪ বছরেও চালু হয়নি। ফলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ৬ গ্রামের মানুষদের।
শুস্ক মৌসুমে শুকিয়ে যাওয়া নদী দিয়ে বিকল্প রাস্তা বানিয়ে চলাচল করছেন গ্রামবাসী। বর্ষায় এই রাস্তাও ডুবে যায়। তখন সেতুর উপর এক বাঁশের সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়।
 
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুটির উত্তর পাশের মাটি সরে গিয়ে একটি গার্ডার ভেঙে পানিতে পড়ে গেছে। দীর্ঘদিনেও সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ না হওয়ায় সেতুর বিমগুলোরও ভঙ্গুরদশা। রেলিং ভেঙে গেছে। 

নোয়াই নদীর ওপরে এই সেতু দিয়ে বিহালী খামার, জাঙ্গালিয়া, সিংদাইর, কাশিনারাসহ ৬  গ্রামের মানুষ চলাচল করত।

বিহালী খামার গ্রামের মাসুদ রানা পরিবর্তনকে বলেন, ‘সেতুটি নির্মাণের পর ছয় থেকে সাত বছর লোকজন পারাপার হয়েছে। তারপর বন্যায় প্রথমে সেতুর উত্তর পাশের একটি অংশ দেবে যায়। সেটা আর মেরামত করা হয়নি। পরের বছর বন্যায় বিমসহ সেতুটি নদীতে দেবে যায়। এরপর থেকে বর্ষায় এক বাঁশের সাঁকো আর শুকনা মৌসুমে চলাচলের জন্য নদীর বুক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে গ্রামবাসী ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।’

কাশিনারা গ্রামের শাহ আলম বলেন, ‘সেতু ভেঙে যাওয়ায় আমাদের সমস্যার শেষ নেই। শত শত কৃষক তাদের ফসল বাজারে নিতে সমস্যায় পড়ে। বেশি ভাড়া দিয়ে ঘোড়ার গাড়িতে করে কৃষিপণ্য বাজারে নিতে হয়। এই সেতু পার হয়ে এসব গ্রামের লোকজন পার্শ্ববর্তী দৌলতপুর উপজেলা শহরে যাতায়াত করতো।’

সিংদাইর গ্রামের আবদুল খালেক বলেন, ‘গ্রামগুলোর ৩শ থেকে ৪শ শিক্ষার্থী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। অনেক রাস্তা ঘুরে তাদের চলাচল করতে হয়। যানবাহন চলাচল না করায় অনেক সময় দীর্ঘ পথ হাঁটতে হয়।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য মুসলেম উদ্দিন পরিবর্তনকে বলেন, ‘২০০৮ সালে ভাদ্রা-বিহালী খামার রাস্তার নোয়াই নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়। ২০১৭ সালের দিকে বন্যায় সেতুটি ভেঙে পড়ে। সেতুটি পুনর্নির্মাণ বা সংস্কারের জন্য আমি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নাগরপুর উপজেলা কার্যালয়ে ঘোরাফেরা করছি। কিন্তু তারা এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান দিতে পারেনি।’

নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সেতুটি অনেক আগেই ভেঙে গেছে। ভেঙে যাওয়া সেতুটি সংস্কারের সুযোগ নেই। সেখানে ভেঙে যাওয়া সেতুটি আগে অপসারণ করতে হবে। পরে নতুন সেতু নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হবে। ওই প্রস্তাব অনুমোদন হলে সেখানে নতুন সেতু করা হবে।’

এইচআর
 

আরও পড়ুন

আরও