বিল গেটস মেলিন্ডার সংসার ভাঙনের পেছনে পরনারী
Back to Top

ঢাকা, রবিবার, ২০ জুন ২০২১ | ৬ আষাঢ় ১৪২৮

বিল গেটস মেলিন্ডার সংসার ভাঙনের পেছনে পরনারী

পরিবর্তন ডেস্ক ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ, মে ০৬, ২০২১

বিল গেটস মেলিন্ডার সংসার ভাঙনের পেছনে পরনারী
নাম তাঁর অ্যান উইনব্ল্যাড। তিনি পৃথিবীর শীর্ষ ধনীদের একজন বিল গেটস এর একসময়ের ক্রাশ নারী,পরবর্তীর এক্স।
গেটস সম্পর্কে অবাক করা একটি তথ্য ঘুরছে বিভিন্ন প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। নিউইয়র্ক পোস্ট, ডেইলি মেইল বলছে, সদ্য সাবেক স্ত্রী মেলিন্ডা গেটসের সঙ্গে বিশেষ চুক্তি করে পুরোনো প্রেমিকার সঙ্গে প্রতি বছর সৈকতে দীর্ঘ সময় কাটাতেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা।

৬৫ বছর বয়সী গেটসের চেয়ে সেই বান্ধবী তাঁর চেয়ে পাঁচ বছরের বড়। মেলিন্ডাকে গেটস যে বছর বিয়ে করেন, সেই ১৯৯৪ সালে অ্যানের সঙ্গে তার ব্রেকআপ হয়।

বিল গেটস এই চুক্তির কথা নিজেও স্বীকার করেছেন। ১৯৯৭ সালে টাইম ম্যাগাজিনের একটি সাক্ষাৎকারে চুক্তির বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি। ওই প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ১৯৮৪ সালে অ্যানের সঙ্গে প্রথম দেখা হয় গেটসের।
অ্যান এক সময় উপলব্ধি করেন, গেটস তার বিলিয়ন ডলার সাম্রাজ্য গড়তে দিন-রাত কাজে ডুবে থাকেন। তাই তিনি অন্য কাউকে বিয়ে করতে চাচ্ছিলেন।

গেটস সেটি বুঝতে পেরে নিজে থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। টাইম ম্যাগাজিনকে তিনি তখন বলেন, ‘মেলিন্ডাকে যখন বিয়ের কথা ভাবি, তখন অ্যানকে ডেকে অনুমতি নেই।’
মেলিন্ডার বিষয়ে অ্যান টাইম ম্যাগাজিনকে বলেন, ‘আমি বলেছিলাম, সে গেটসের জন্য উপযুক্ত। কারণ তার বুদ্ধিবৃত্তিক একটা শক্তি আছে।’

উইনব্ল্যান্ড একজন সফটওয়্যার বিশেষজ্ঞ। সিয়াটলের ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট।
অ্যানের কারণে মেলিন্ডার সঙ্গে গেটসের বিচ্ছেদ হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেনি কোনো গণমাধ্যম। তবে গেটসের পুরোনো সাক্ষাৎকার থেকে বোঝা গেছে, কমপক্ষে এক দশক অ্যানের সঙ্গে তিনি সময় কাটাতে পারবেন, এমন চুক্তি ছিল মেলিন্ডার সঙ্গে।

অ্যান ১৯৯৭ সালে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, দেখা হওয়ার সময় তারা পৃথিবী নিয়ে আলোচনা করতেন। ব্যবসার বিষয়ে কথা বলতেন।
অ্যান এখন এক অভিনেতাকে বিয়ে করে সুখে আছেন।

তবে বিয়ের আগেও অন্য মেয়ের প্রেমে পড়েছিলেন মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। স্ত্রী মেলিন্ডা গেটসের সঙ্গে সাক্ষাত ও বিয়ের পূর্ববর্তী সময়ের মধ্যে মাইক্রোসফটের আরেক নির্বাহী স্টেফানি রিচেলের সঙ্গে তার ৭ মাসের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। এ সময়ে তাকে প্রচুর রোমান্টিক ইমেইল পাঠিয়েছেন বিল গেটস। যুক্তরাষ্ট্রে লং উইকএন্ড বলে পরিচিত ছুটিতে তাকে নিয়ে ছুটে গিয়েছেন লন্ডনে। সেখানে হোটেলে অবস্থান করেছেন দু’জনে। ঘুরে বেরিয়েছেন সমুদ্র সৈকতে। কখনোবা তারা ছুটে গেছেন নিষিদ্ধ পল্লীতে।

সম্পর্ক ভাঙার কারণ হিসাবে বিল-মেলিন্ডা দু’জনেই কিছু ইঙ্গিত দিয়েছেন। মেলিন্ডা বলেছেন, দিনের মধ্যে ১৬ ঘন্টা কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন বিল গেটস। পরিবারের দিকে তার মন নেই। অনেকবার এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়াও হয়েছে। অন্যদিকে মেলিন্ডা সম্পর্কে বিল গেটস বলেছেন, তার তো অনেক বয়ফ্রেন্ড আছে। আর আমার আছে মাইক্রোসফট। 

এসব নিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের সম্পর্কে ঝড় চলছিল। সেই ঝড়কে কাটিয়ে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন তারা। দাবি করা হয় যে, তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক বেশ কয়েকবার ভেঙেই পড়েছিল।

বিল গেটস এবং মেলিন্ডা গেটসকে দেখা হতো ‘পাওয়ার কাপল’ বা শক্তিধর দম্পতি হিসেবে। তাদের জীবনের শুরু ঝড়ো গতিতে। কিন্তু এই চমৎকার ভালবাসার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে বিল গেটসের মাইক্রোসফটের প্রতি অতিমাত্রায় আত্মত্যাগ। এর ফলে এই দম্পতি সুখী দাম্পত্যের সংজ্ঞা খুঁজে পেতে ব্যর্থ হন বলে লিখেছেন সাংবাদিক টম লিওনার্দ। সূত্র : ফক্স বিজনেস, নিউজউইক।

এসবিসি
 

আরও পড়ুন

আরও