কুলসুমের হয়ে জেল খাটা সেই মিনুর মুক্তির নির্দেশ
Back to Top

ঢাকা, শনিবার, ১৯ জুন ২০২১ | ৫ আষাঢ় ১৪২৮

কুলসুমের হয়ে জেল খাটা সেই মিনুর মুক্তির নির্দেশ

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৬:২৯ অপরাহ্ণ, জুন ০৭, ২০২১

কুলসুমের হয়ে জেল খাটা সেই মিনুর মুক্তির নির্দেশ
চট্টগ্রামে একটি খুনের মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি কুলসুম আক্তার ওরফে কুলসুমীর পরিবর্তে প্রায় তিন বছর ধরে কারাগারে থাকা মিনু আক্তারকে সন্তুষ্টি সাপেক্ষে মুক্তি দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।একইসঙ্গে কুলসুমের স্বাক্ষর নকল করে যারা হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেছেন, সেই আইনজীবী ও তদবিরকারীদের তলব করেছেন আদালত।আগামী ২৮জুন হাইকোর্টে হাজির হয়ে এ বিষয়ে উপযুক্ত ব্যাখ্যা সহ জবাব দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।
বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ সোমবার এ আদেশ দেন। 
 
বিচারিক আদালতের সাজার বিরুদ্ধে কুলসুম হিসেবে মিনু আপিল করেন।আপিলটি দায়ের করেছিলেন আইনজীবী ইকবাল হোসেন। শুনানিতে ইকবাল হোসেন বলেন, চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২ এর স্পেশাল পিপি এম এ নাসের ২০১৯ সালের মার্চে আপিল করার জন্য মামলাটি তাঁর কাছে পাঠান। এম এ নাসেরের জুনিয়র আইনজীবী নূরুল আনোয়ার তাঁর সঙ্গে দেখা করে নথি দিয়ে যান। সময়ক্ষেপণের কারণে অপেশাদারত্বের অভিযোগ তুলে গত  বছর এম এ নাসের আরেক জুনিয়র বিবেকানন্দ চৌধুরী সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক বরাবরে তাঁর (ইকবাল) বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে সৌরভ নামের এম এ নাসের ক্লার্ক (আইনজীবী সহকারী) অনাপত্তিপত্র ছাড়াই তাঁর (ইকবাল) কাছে মামলার ফাইল নিয়ে যান।

হাইকোর্ট ওই তিন আইনজীবী ও ক্লার্ককে তলব করেছেন। ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিতে প্রতারণার অভিযোগ বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা জানাতে ২৮ জুন সকাল সাড়ে ১০টায় স্পেশাল পিপি এম এ নাসের, আইনজীবী নূরুল আনোয়ার ও বিবেকানন্দ চৌধুরী এবং ক্লার্ক সৌরভকে আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ২৮ জুন পরবর্তী আদেশের জন্য দিন রেখেছেন আদালত।

আদালতে মিনুর পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ। 

জেলে থাকা নিরপরাধ মিনুর পুরো ঘটনা শুনানিতে তুলে ধরে আইনজীবী শিশির মনির বলেন, ‘বিগত দুই বছরে আমাদের দেশে এমন ২৬টি ঘটনা ঘটেছে। একজনের নামে আরেকজন জেলে থাকে।’ তিনি বলেন, ‘আসল আসামি শনাক্তে অনেক পদ্ধতি আছে। এ বিষয়ে আমি আরও লিখিতভাবে আদালতকে জানাব।’ মিনুর ঘটনার পেছনে একটি বড় চক্র কাজ করছে সেটি তদন্তে  বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশনা দাবি করেন তিনি। 
 
আদালত বলেন, ‘আমরা মনে করি এভাবে যদি আসল কালপ্রিট অর্থের বিনিময়ে হোক, অথবা বিভিন্ন কৌশলের মাধ্যমে নিজেকে বাঁচিয়ে অন্য নিরপরাধ লোককে জেলের মধ্যে আটক রাখে সেটা দুর্ভাগ্যজনক।’
 
চট্টগ্রামে হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কুলসুমের পরিবর্তে মিনুর সাজা খাটার ঘটনায় মামলার নথি হাইকোর্টে আসে ২৪ মার্চ।
 
কারা কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মিনুকে আদালতে হাজির করা হলে নতুন করে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। সেই সঙ্গে মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক শরীফুল আলম ভূঁঞা। পরে নথি একদিনের মধ্যেই হাইকোর্টে আসে।
 
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, মুঠোফোন নিয়ে কথা কাটাকাটির জের ধরে ২০০৬ সালের ৯ জুলাই চট্টগ্রাম নগরের রহমতগঞ্জ এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় পোশাককর্মী কোহিনুর বেগমকে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় ২০০৭ সালের ২৬ অক্টোবর কারাগারে পাঠানো হয় কুলসুমকে। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ (চতুর্থ আদালত) আদালত থেকে ২০০৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পান কুলসুম। ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর বিচারিক আদালত ওই মামলার রায় দেন। রায়ে কুলসুমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এরপর ২০১৮ সালের ১২ জুন কুলসুম সেজে আত্মসমর্পণ করে কারাগারে আসেন মিনু আক্তার। ২০১৯ সালের ৩০ এপ্রিল বিচারিক আদালতের সাজার বিরুদ্ধে কুলসুম হিসেবে হাইকোর্টে আপিল করা হয়। এই আপিল হাইকোর্টের কার্যতালিকায় ওঠে। গতকাল রোববার ও আজ সোমবার শুনানিতে ওই আদেশ দেওয়া হয়।

এদিকে আদালতে হাজির হয়ে তিন সন্তানের জননী মিনু তার জবানবন্দিতে বলেন, ২০১৮ সালের রমজান মাসে একদিন ইফতারি দেয়ার কথা বলে কুলসুম ও মর্জিনা নামের দুজন  আদালতে মিনুকে নিয়ে যান। মিনুকে বলা হয়েছিল ‘কুলসুম’ নাম ডাকা হলে তিনি (মিনু) যেন হাত তোলেন। সে অনুযায়ী হাত তোলার পর কর্তৃপক্ষ তাকে ‘কুলসুম’ হিসেবে চিহ্নিত করে কারাগারে পাঠায়। মিনুকে এভাবে কৌশলে অপরাধী সাজানো হয়। আড়ালে থেকে যায় প্রকৃত অপরাধী কুলসুম।

এসবিসি 
 

আরও পড়ুন

আরও