শুক্র গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনা!
Back to Top

ঢাকা, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৫ আশ্বিন ১৪২৭

শুক্র গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনা!

পরিবর্তন ডেস্ক ১২:২০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২০

শুক্র গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনা!
পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের শুক্র গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা। গ্রহটির মেঘে ফসফিন গ্যাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এ থেকেই গ্রহটিতে অণুজীবের অস্তিত্ব থাকতে পারে বলে আশাবাদী বিজ্ঞানীরা।

সোমবার আন্তর্জাতিক গবেষক দল এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর বিবিসির

ফসফিন গ্যাস পৃথিবীতে উৎপন্ন হয় ব্যাকটেরিয়া থেকে। অক্সিজেন রয়েছে-এমন পরিবেশে থাকা ব্যাকটেরিয়া এই গ্যাস নিঃসরণ করে। শুক্র গ্রহে ফসফিনের অস্তিত্বের পেছনে এমন কোনো কারণ থাকলে, সেখানে প্রাণের উৎপত্তি বিকাশের পরিবেশ রয়েছে বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা।

গবেষক দল প্রথমে হাওয়াই দ্বীপে স্থাপিত জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল টেলিস্কোপে শুক্র গ্রহের মেঘপুঞ্জে ফসফিন গ্যাস দেখতে পান। এরপর চিলির আতাকামা মুরুভূমি থেকে এএলএমএ রেডিও টেলিস্কোপ দিয়ে তা নিশ্চিত হন।

নেচার অ্যাস্ট্রনমি সাময়িকীতে এই আবিষ্কার নিয়ে একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। নিবন্ধের মূল লেখক যুক্তরাজ্যের কার্ডিফ ইউনিভার্সিটির গবেষক জ্যোতির্বিজ্ঞানী গেন গ্রেভস বলেছেন, পৃথিবীতে কিছু ব্যাকটেরিয়া প্রাকৃতিকভাবে ফসফরাসের সঙ্গে হাইড্রোজেনের মিলন ঘটিয়ে এই গ্যাস তৈরি করে। তবে পৃথিবীতে কারখানায় বা রসায়নাগারে ফসফিন গ্যাস তৈরি করা যায়, কিন্তু শুক্র গ্রহে তো কোনো কারখানা নেই। তাহলে সেখানে এই ফসফিন গ্যাস কেমন করে এলো?

বহু বছর ধরে বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্বের সন্ধান করছেন। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি নজর দেয়া হয়েছে মঙ্গল গ্রহের দিকে। এই প্রেক্ষাপটে শুক্র গ্রহে ফসফিনের উপস্থিতি শনাক্ত একটি বড় ঘটনা।

গবেষণা নিবন্ধের সহলেখক ও ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) আণবিক জ্যোতির্পদার্থবিদ ক্লারা সুসা-সিলভা বলেন, শুক্র গ্রহ সম্পর্কে আমরা এই মুহূর্তে যা জানি এবং ফসফিন গ্যাসের অস্তিত্বের যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা যা হতে পারে, তা হচ্ছে সম্ভবত সেখানে প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে।

এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে, যদি এটা ফসফিন হয়, তবে সেখানে প্রাণ আছে। এর অর্থ হচ্ছে, আমরা একা নই। আর তা যদি হয়, তবে শুধু শুক্র গ্রহে নয়, এই সৌরমণ্ডলে আরও অনেক প্রাণ রয়েছে।’

শুক্র গ্রহ পৃথিবীর চেয়ে সূর্যের অনেক কাছে বলে এর তাপমাত্রা অনেক বেশি। এর পৃষ্ঠে ৪৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো তাপমাত্রায় কোনো জীবের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা দেখেন না বিজ্ঞানীরা। তবে শুক্রের পৃষ্ঠ ছাড়িয়ে অনেক উপরে যেখানে কিনা তাপমাত্রা পৃথিবীর মতোই ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সেখানে ফসফিন গ্যাসের এই আবরণের পেছনে কোনো অনুজীবের অবদান উড়িয়ে দিয়ে পারছেন না তারা।

শুক্র গ্রহের বায়ুমণ্ডলে যে ফসফিনের অস্তিত্ব রয়েছে, তার ঘনত্ব ২০ পিপিবি (পার্টস পার বিলিয়ন)। এটিই একমাত্র আশা দেখাচ্ছে। এর বাইরে আগ্নেয় শিলা, উল্কা বা ধাতবখণ্ডসহ বিভিন্ন অজৈব উপাদানের রাসায়নিক বিশ্লেষণ করে অবশ্য হতাশ হতে হয়েছে বিজ্ঞানীদের। এখন বিজ্ঞানীরা ফসফিনের অস্তিত্বকে ধরে প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে কিনা, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছেন।

এ বিষয়ে ক্লারা সুসা-সিলভা বলেন, ‘শুক্রে প্রাণ থাকলে, তার স্বরূপ কী হবে, তা অনুমানের চেষ্টা করছি। একেবারে বাসযোগ্যহীন গ্রহটিতে অন্য কোনো প্রাণের পক্ষে থাকা সম্ভব নয়। যদি থাকে, তবে তাদের সবকিছুই চেনা প্রাণ থেকে আলাদা হবে।’

ওএস/এইচআর

 

: আরও পড়ুন

আরও