পুঁজিবাজার উন্নয়নে বাজেটে ৮ প্রস্তাব দিবে বিএসইসি
Back to Top

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২ মার্চ ২০২১ | ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭

পুঁজিবাজার উন্নয়নে বাজেটে ৮ প্রস্তাব দিবে বিএসইসি

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৩:৪৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২১

পুঁজিবাজার উন্নয়নে বাজেটে ৮ প্রস্তাব দিবে বিএসইসি
আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য মার্জিন ঋণের সুদ হার কমিয়ে আনাসহ ৮টি বিষয়ে প্রস্তাবনা থাকবে বলে জানিয়েছেন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।

সোমবার বিএসইসির সম্মেলন কক্ষে দুবাইয়ে রোড শো পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বাজেটে প্রস্তাবনা নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, আগামী বাজেটে (২০২১-২২) পুঁজিবাজারের জন্য ৮টি প্রস্তাবনা রাখা হবে। এরমধ্যে উল্লেখ্য বিষয়গুলো হচ্ছে ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্তিতে কর্পোরেট কর এ অতালিকাভুক্তি কোম্পানির সাথে সর্বনিম্ন ১৫% ব্যবধান, মার্জিন ঋণের সুদহার ১২% থেকে আরো কমিয়ে আনা, মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর কর কমানো, দ্বৈত কর প্রত্যাহার, আইসিবিকে পুনর্গঠনের জন্য ফান্ডসহ আরো কিছু ছোটখাটো বিষয় মিলিয়ে ৮টি প্রস্তাব থাকবে।

তিনি বলেন, গত বাজেটের (২০২০-২১) প্রস্তাব হয়ে যাওয়ার পরে বর্তমান কমিশন দায়িত্ব গ্রহণ করে। তারপরও আমরা খুব জোর দিয়ে দুটি বিষয়ে পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছিলাম। এবার বাজেটের আগে প্রস্তাবের অনেক সময় পেয়েছি। আশা করছি প্রস্তাবনার অধিকাংশ বিষয়ে পাশ হবে। ৮টি বিষয়ের মধ্যে থেকে যদি ৫টি বিষয়েও অনুমোদন হয়, তবে আমরা মনে করবো অগ্রসর হয়েছি।

দুবাইতে রোড শো নিয়ে তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সরকারের বড় বড় প্রজেক্টে স্বল্প সুদে ঋণ দিতে আগ্রহী। তারা আমাদের পাওয়ার প্লান্ট এবং ইনফ্রাচক্ট্রাচারেও আসতে আগ্রহী। তবে তারা শর্টটামে নয়, লংটার্মে বিনিয়োগে আসতে চায়।

অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত বলেন, আমরা রোড শো’তে আমাদের অর্থনৈতিক সূচকের চিত্র তুলে ধরেছি, তারা তথ্যগুলো সঠিকভাবে গ্রহণ করেছে। কিছু কিছু জায়গায় ওরা আমাদের অনেক প্রশ্ন করেছে, অনেক কিছু জানল এবং সামনাসামনি অনেক কিছু শোনার পরে ওরা ডিসিশন নিল এখন ওরা কি করবে। এখন আমাদের প্রত্যেক দিন মেইল আসে। তাদের মধ্যে কিছু কিছু মিউচ্যুয়াল ফান্ডে ইনভেস্ট করতে চায়। সেখানে কি কি কারেকশন দরকার সেটার বিষয়ে ওরা সাজেশন দিচ্ছে।

তিনি বলেন, আমাদের যে প্রজেক্টগুলো আসছে সেগুলোর সাইজ ৫০০ কোটি, হাজার কোটি, দুই হাজার কোটি, চার হাজার কোটি এরকম বিরাট বিরাট সাইজ। শুধু ইক্যুইটি মার্কেট দিয়ে এটার কোনো সলিউশন দেয়া সম্ভব না বলেই আমার বন্ডের কাজ করছি।

তিনি বলেন, আমরা যখন এই প্রেজেন্টেশনটা করলাম, প্রেজেন্টেশনের পরে এরা প্রত্যেকেই আমাদের সাথে আলাদা আলাদা মিটিং করেছে। প্রত্যেকেই বড় বড় বিনিয়োগকারী। রোড শোতে বিশ্বের বড় বিনিয়োগারী প্রতিষ্ঠান এসেছে। যাদের পোটফলিও কয়েক ট্রিলিয়ন। তারা বিনিয়োগের জন্য ভালো জায়গা খুঁজছে। তাদের দেশে বিনিয়োগ করে তারা তেমন কোনো রিটার্ন পাচ্ছে না। এই জন্য তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চায়।

বাংলাদেশের প্রতি বিদেশীদের একটা নেগেটিভ ভাবমূর্তি ছিল উল্লেখ করে বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, আগে তারা আমাদের নিয়ে কেমন একটা ভাবতো। কিন্তু আমরা চেষ্টা করছি দেশের ঠিক পজিশনটা সবার কাছে তুলে ধরতে। সেজন্যই আমরা দুবাইতে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে বাংলাদেশর সঠিক ডেটা তুলে ধরলাম। তারা আমাদের ডেটা দেখে অবাক হয়েছে। তারা জনতে চেয়েছে আমার ঠিক বলেছি কিনা, আমরা বলেছি এগুলো সব সঠিক। কোথাও তোমাদের সন্দেহ থাকলে গুগল সার্চ করে দেখতে পারো। তখন তারা বিশ্বাস করা শুরু করল। এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে দুইবাইতে অবস্থানরত দুই তিন জন বাংলাদেশী ব্যবসায়ী বলল আমরা এখানে খুব সম্মান পাচ্ছি। যখন কোনো কাজে ব্যাংকে যাই তারা আমাদের সম্মানের চোখে দেখে। আগের মতো তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে না। এভাবেই আমাদের ভাবমূর্তিটা আস্তে আস্তে উজ্জল হবে।

তিনি বলেন, আমরা যদি বিভিন্ন জায়গায় অর্থাৎ ফাইন্যান্সিয়াল হাব যেগুলো দুবাই, লন্ডন, নিউ ইয়ার্ক, হংকং বা সিঙ্গাপুর এসব জায়গায় যদি বাংলাদেশের সঠিক তথ্য মানুষের কাছে, বিয়োগকারীর কাছে, বিদেশের সংবাদপত্র বা বিদেশের ব্যবসায়ীদের সামনে তুলে ধরতে পারে তাহলে বাংলাদেশ সম্পর্কে যে একটা নেতিবাচক মনোভাব অনেক বছর ধরে রয়ে গেছে সেখান থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে পারব। আমাদেরকে মানুষ সম্মানের চোখে দেখবে। এখনো তারা ভাবে আমরা বোধহয় মানুষের ডোনেশনের উপর চলি। আমাদের যে এখন ডোনেশন লাগে না সেটা তারা জানে না।

জেডএস

 

আরও পড়ুন

আরও