প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী এসপি বালা সুব্রামানিয়াম আর নেই
Back to Top

ঢাকা, সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০ | ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী এসপি বালা সুব্রামানিয়াম আর নেই

পরিবর্তন ডেস্ক ১:৪৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২০

প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী এসপি বালা সুব্রামানিয়াম আর নেই
তিনি সুর ছোঁয়ালে গান যেন নতুন জীবন পেতো। ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন হয়ে ছুঁয়ে যেত ‘তুমসে মিলনে কী তমন্না’, ‘রূপ সুহানা লগতা হ্যায়’, ‘সুন বেলিয়া’। ‘হম আপকে…’ তো ইতিহাস। এই কিংবদন্তি শিল্পী কণ্ঠের পরিধি ছাড়িয়েছে বহুদূর। ১৬টি ভাষায় গাওয়া ৪০ হাজারের বেশি গানে হয়ে উঠেছিলেন কণ্ঠের জাদুকর।

উপমহাদেশের প্রখ্যাত এই সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা এসপি বালা সুব্রামানিয়াম চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

শুক্রবার দুপুর একটা নাগাদ চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ভারতীয় এই কিংবদন্তি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৭৪ বছর।

ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ৫ আগস্ট চেন্নাইয়ের এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এই বর্ষীয়ান সঙ্গীতশিল্পী। এক মাস পর ৮ সেপ্টেম্বর তার করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। তা সত্ত্বেও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে তাকে ভেন্টিলেশন থেকে বের করা যায়নি। পরের  তাকে ভেন্টিলেশনের পাশাপাশি ‘একমো সাপোর্ট’ (কৃত্রিম উপায়ে বাড়তি অক্সিজেন সরবরাহ) দেয়ারও ব্যবস্থা করা হয়েছিলো।

মনে করা হচ্ছিলো, তার অবস্থার উন্নতি ঘটছে। গত মঙ্গলবারই শিল্পীর পুত্র এসপি চরণ টুইট করে জানিয়েছিলেন, তার বাবার অবস্থার ক্রমশই উন্নতি হচ্ছে। জানিয়েছিলেন তার বাবা বাড়িও ফিরতে চাইছেন। কিন্তু বুধবার চেন্নাইয়ের হাসপাতালের অ্যাসিস্ট্যান্ট মেডিক্যাল ডিরেক্টর অনুরাধা ভাস্করনের সাক্ষরিত বুলেটিনে বলা হয়, ‘২৪ ঘণ্টায় তার অবস্থার অবনতি ঘটেছে। তিনি অত্যন্ত সঙ্কটজনক। তাকে সর্বোচ্চ লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে’। এস পি সঙ্কটাপন্ন হওয়ার খবর পেয়েই হাসপাতালে গিয়েছিলেন দক্ষিণী ছবির প্রবীণ অভিনেতা কমল হাসন। দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছিলেন ইন্ডাস্ট্রির সহকর্মী এবং অজস্র অনুরাগীরা।কিন্তু শেষরক্ষা হলো না। দীর্ঘ লড়াইয়ের শেষে না ফেরার দেশে বর্ষীয়ান এই সঙ্গীতশিল্পী।

সংগীত জগতের কাছে এটা একটা অপূরণীয় ক্ষতি। কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী এসপি বালা সুব্রামানিয়ামের মৃত্যুতে এক শোকবার্তায় ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লিখেছেন, ‘এসপি সুব্রামানিয়ামের মৃত্যু দুর্ভাগ্যজনক। সঙ্গীত জগতের কাছে এটা একটা অপূরণীয় ক্ষতি। ভারতজুড়ে প্রায় বেশিরভাগ পরিবারের কাছেই তার নাম পরিচিত। তার সুরেলা কণ্ঠ এবং সঙ্গীত কয়েক দশক ধরে শ্রোতাদের মোহিত করেছে। এই কঠিন সময়ে আমি তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। তার আত্মার শান্তি কামনা করছি। ওম শান্তি।’

কিংবদন্তী গায়ক এসপি সুব্রামানিয়ামের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ সংগীতজগত। শোকপ্রকাশ করলেন সুর সম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকর ও খ্যাতনামা গায়িকা আশা ভোঁসলে।

এসপি বালা সুব্রামানিয়ামের মৃত্যুর খবরে শোকাহত লতা লেখেন, ‘প্রতিভাশালী গায়ক, মধুরভাষী এবং একজন ভালো মানুষ, বালা সুব্রামানিয়ামেরর স্বর্গবাসের খবরে আমি ব্যথিত। আমরা অনেক গান একসঙ্গে গেয়েছি। একসঙ্গে অনেক শো করেছি। ওই কথাগুলো ভীষণভাবে মনে পড়ছে। ঈশ্বর ওর আত্মাকে শান্তি দিক, ওর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।’

আশা ভোঁসলে বলেন, ‘এই বছরটা অনেক দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটে গেছে। বালা সুব্রামানিয়ামের মৃত্যুর খবর আমায় কষ্ট দিয়েছে। তিনি একজন অসাধারণ, বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী শিল্পী। দক্ষিণের পর হিন্দিতে লক্ষ্মীকান্ত-প্যায়ারেলালের সঙ্গে ওর প্রথম গানটি অসাধারণ। লতা দিদির সঙ্গে ওর ডুয়েটগুলিও স্মরণীয়। আর ডি বর্মনের অনেক গান বালু গেয়েছেন। ওনাদের বেশ ভালো বন্ধুত্ব ছিল। তামিল সুরকার ইল্লায়রাজার গানের উচ্চারণের জন্য অনেক সাহায্য করেছিলেন আমায়। ওর মৃত্যুতে সঙ্গীতজগতে বড় শূন্যতা তৈরি হল। ওর আত্মার শান্তি কামনা করি।’

বালা সুব্রামানিয়ামের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন সুর সম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকর ও খ্যাতনামা গায়িকা আশা ভোঁসলে। শোকাহত লতা লিখেছেন, ‘প্রতিভাশালী গায়ক, মধুরভাষী এবং একজন ভালো মানুষ, এসপি বালা সুব্রামানিয়ামজির স্বর্গবাসের খবরে আমি ব্যথিত। আমরা অনেক গান একসঙ্গে গেয়েছি। একসঙ্গে অনেক শো করেছি। ওই কথাগুলো ভীষণভাবে মনে পড়ছে। ঈশ্বর তার আত্মাকে শান্তি দিক, তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।’

১৯৪৬ সালের ৪ জুন মাদ্রাসে (অধুনা চেন্নাই) জন্ম হয় তার। ছোট থেকেই সঙ্গীতের প্রতি ছিল বিশেষ অনুরাগ। ১৯৬৬ সালে ‘শ্রী শ্রী মর্যাদা রামান্না’ নামে এক তেলুগু ছবির মধ্যে দিয়েই সঙ্গীত জগতে হাতেখড়ি হয় তার। এরপর একে একে নানা হিন্দি, তামিল তেলুগু ছবিতে গান গেয়ে ইন্ডাস্ট্রির প্রথম সারির গায়কের তকমা পেয়ে যান এসপি। এক দিনে ২১টি গান রেকর্ড করার রেকর্ড রয়েছে তার ঝুলিতে। সালমান খানের বলিউডে উত্থান মূলত  এসপির হাত ধরেই।

১৯৮৯ সালে ‘ম্যায়নে প্যায়ার কিয়া’ ছবির মাধ্যমে নায়ক হিসেবে বলিউডে আত্মপ্রকাশ সালমানের। ওই ছবিতে সালমানের গলায় সবক’টি গানই বালা সুব্রামানিয়ামের গাওয়া, যার মধ্যে ‘আতে যাতে’, ‘দিল দিওয়ানা’ এবং ‘মেরে রঙ্গ মে’-র মতো সুপারহিট হয়েছিলো। এর পর ১৯৯১ সালেই ‘পাত্থর কে ফুল’ ছবিতে সালমানের হয়ে সাতটি গানে গলা দেন বালা সুব্রামানিয়াম। এর মধ্যে ‘কভি তু ছালিয়া লগতা হ্যায়’ এবং ‘তুমসে জো দেখতে হি প্যায়ার হুয়া’ গান দু’টি সুপার হিট হয়। ওই বছরই ‘সাজন’ ছবিতে এসপি’র গলায় গাওয়া ‘বহুত প্যায়ার করতে হ্যায়’, ‘তুমসে মিলনে কি তমন্না হ্যায়’, ‘পহেলি বার মিলে হ্যায়’ আজও শ্রোতাদের মনে ভাস্বর। পড়ে অবশ্যে বিশেষ কারণে ভেঙে গিয়েছিল সালমান-এসপি জুটি। সালমানের রোম্যান্টিক ইমেজের সব ম্যাজিক শিল্পীর কণ্ঠজাদুর জোরে।

এস পি বালা সুব্রামানিয়ামের মৃত্যুতে ইন্ডাস্ট্রিতেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এ আর রহমান থেকে অক্ষয় কুমার, লতা মঙ্গেশকর, মহেশ বাবু শোকপ্রকাশ করেছেন প্রিয় গায়কের মৃত্যুতে।

ভেঙে পড়েছেন সালমান খানও। এদিন তিনি টুইটারে লেখেন, ‘এই খবরে হৃদয় ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে। আপনার কাজের মধ্য দিয়েই আপনি বেঁচে থাকবেন। পরিবারের প্রতি সমবেদনা।’

এসকে/এইচআর

 

আরও পড়ুন

আরও