ইসলামের মহান সাহাবী মুয়াজ বিন জাবাল (রা.)
Back to Top

ঢাকা, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০ | ২৯ আষাঢ় ১৪২৭

ইসলামের মহান সাহাবী মুয়াজ বিন জাবাল (রা.)

মুবাশ্বিরা ৪:৩৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২০

ইসলামের মহান সাহাবী মুয়াজ বিন জাবাল (রা.)

জর্ডানে অবস্থিত মুয়াজ বিন জাবাল (রা.) এর কবর।

সাহাবী হযরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) বলতেন, “আমি (রাতে) ঘুমাই এবং নামাজে দাঁড়াই, ঘুমকেও ইবাদত গণ্য করি, যেভাবে ইবাদত গণ্য করি জাগ্রত থেকে নামাজ আদায়কে”। (বুখারী, হাদীসনং: ৩৯৯৮)

হযরত মুয়াজ বিন জাবাল (রা.) একটি নাম, একটি অনুপ্রেরণা। যে সকল মহান সাহাবী ইসলামের প্রচার, প্রসার ও নীতি অনুসরণে অগ্রগামী ছিলেন, তিনি ছিলেন তাঁদের অন্যতম একজন।

রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর সম্পর্কে বলেছেন, “হালাল ও হারাম সম্পর্কে উম্মতের সবচেয়ে জ্ঞানী ব্যক্তি মুয়াজ”।

মুয়াজ (রা.) একজন আনসারী সাহাবী ছিলেন। আকাবার রাতে নবীজির হাতে বাইয়াত হয়ে তিনি ইসলামে প্রবেশ করেন। এরপর ধীরে ধীরে নিজ কর্মে হয়ে ওঠেন উম্মতের জন্য আলোর মশাল।

নবীজি (সা.) যখন মদীনায় এলেন, মুয়াজ (রা.) সর্বক্ষণ তাঁর কাছে কাছে ছায়ার মতো লেগে ছিলেন। তিনি নবীজির কাছেই কুরআন ও দ্বীনী শিক্ষা অর্জন করেছেন। এভাবে তিনি বড় কারী ও জ্ঞানী হয়ে ওঠেন।

ইয়াযিদ ইবনে কুতবাহ বলেন, আমি হিমসের মসজিদে কোকড়ানো চুলের এক তরুণকে ঘিরে মানুষের জটলা দেখতে পেলাম। তরুণটির কথায় যেনো মুক্তো ঝরছিল। তিনি ছিলেন হযরত মুয়াজ বিন জাবাল (রা.)।

ইয়েমেনের রাজাদের দূত দল যখন ইসলামে দীক্ষিত হলেন, বিদায়ের সময় তারা রাসূল (সা.) এর নিকট এমন কোনো ব্যক্তিকে চাইলেন যিনি তাদেরকে দ্বীন শিক্ষা দেবেন। তখন রাসূল (সা.) প্রিয় মুয়াজকেই বাছাই করলেন।

আলোর পথের এই দূত দলকে বিদায় দিতে নবীজী (সা.) নিজে বের হলেন। পাশে পায়ে হেঁটে চলছিলেন প্রিয় মুয়াজ। বিদায়ের মুহুর্তে নবীজী (সা.) মুয়াজ (রা.) কে এক ঐতিহাসিক অসিয়ত করলেন।

নবীজি (সা.) বললেন, মুয়াজ! এ বছরের পর হয়তো তোমার সাথে আমার আর দেখা হবে না। তুমি যখন মদীনায় ফিরে আসবে, আমার মাসজিদের পাশে বিচরণ করবে, আমার কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করবে...।

প্রিয় নবীজির মুখে একথা শুনে বিচ্ছেদ-যাতনায় কেঁদে ফেললেন মুয়াজ।

কিছুদিন পর নবীজীর বাণী সত্য হলো। মুয়াজ (রা.) ইয়েমেন থেকে ফেরার আগেই প্রিয় নবী (সা.) ইহকাল ত্যাগ করলেন।

এর কয়েক বছর পরের কথা। তখন দ্বিতীয় খলীফা হযরত ওমর (রা.) এর শাসনামল। মুয়াজ (রা.)কে দ্বীন প্রচারের জন্য তিনি ফিলিস্তিনে পাঠান। সে সফরেই জর্ডানে ৩৮ বছর বয়সে ১৮ হিজরীতে প্লেগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন ইসলামের এ মহান সাহাবী। রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু।

এমএফ/

 

: আরও পড়ুন

আরও