প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নেতাদের জন্য ছাত্রলীগের চমক
Back to Top

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২ | ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

>

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নেতাদের জন্য ছাত্রলীগের চমক

সালাহ উদ্দিন জসিম ৩:০১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ০৪, ২০২১

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নেতাদের জন্য ছাত্রলীগের চমক
গৌরব, ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও সাফল্যের ৭৩ বছর উদযাপন করছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। এবার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ছাত্রলীগ সাদামাটাভাবেই করছে। আগের মতো দেশব্যাপী ক্যাম্পাস ও শহরে সাজ সাজ রব থাকছে না। হচ্ছে না বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাও।

করোনা মহামারির কারণে সংগঠনটির সাংগঠনিক নেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশেই শোভাযাত্রা করছে না সংগঠনটি। তবে এবার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে চমক রেখেছে ছাত্রলীগ।

১৯৪৮ সালের এই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আত্মপ্রকাশ ঘটে ছাত্রলীগের। বাংলাদেশের নানা আন্দোলন-সংগ্রাম ও সংকটে দায়িত্বশীল ভূমিকা ছিল সংগঠনটির। তবে নানা সময়ে বিতর্কও ছিল চোখে পড়ার মতো। শিক্ষা-শান্তির মশালবাহী সংগঠনটি সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে আপন ঐতিহ্য সমুন্নত রাখতে সক্ষম হয়েছে। যার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত; ২০২০ সালে করোনা মহামারিতে দেশব্যাপী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মানবিক দায়িত্ব পালন।

এবারে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর গতানুগতিক কর্মসূচি; বঙ্গবন্ধু প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, কার্জন হলে কেক কাটা, শীতবস্ত্র বিতরণ, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, স্বেচ্ছায় রক্তদান ও আলোচনা সভা। এ ছাড়া করোনা মহামারিতে সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ ও গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনও কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছে। আরও বড় চমক থাকছে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী দিনগত রাত বা পরদিন।

ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া নেতাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল বিতর্কিতদের সংগঠন থেকে বাদ দেওয়া। বর্তমান সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য ভারমুক্ত হওয়ার আগেই ৩২ বিতর্কিত নেতাকে অব্যাহতি দিয়েছে। এরপরই দাবি ওঠে পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া নেতাদের দিয়ে শূন্য পদ পূরণের। এটি হবে, হচ্ছে করে কেটে গেছে এক বছরের বেশি সময়। বিক্ষুব্ধরা সভাপতি-সম্পাদককে দুষলেও তারা দুষছেন করোনা মহামারিকে। এই সময়ে তারা কাজ করতে পারেননি। তবে এখন সে কাজ চূড়ান্ত করেছেন বলে ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য পরিবর্তন ডটকমকে নিশ্চিত করেছেন।

সংগঠনের নানা কর্মসূচির বিবরণ দিয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, ‘অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে বাংলার তরুণ প্রজন্মের আলোকবর্তিকা হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। গৌরব ঐতিহ্য সংগ্রাম ও সাফল্যের ৭৩ বছরেও একই লক্ষ্য নিয়ে সব সময়ের মতো এগিয়ে যাব।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব পালনকালে করোনা মহামারিতে সাধারণ শিক্ষার্থী ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোসহ প্রাপ্তি অনেক, সাংগঠনিক কিছু বিষয়ে অপ্রাপ্তিও আছে। করোনার কারণে যে কাজগুলো করতে পারিনি তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো; কেন্দ্রের শূন্য পদ পূরণ। আগামী দু-একদিনের মধ্যে সেটি আমরা করব, ইনশাআল্লাহ।’

এ বিষয়ে সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, আমরা গতানুগতিক সব কর্মসূচিই রেখেছি। শুধু নেত্রীর নির্দেশে করোনায় স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য শোভাযাত্রা বাতিল করেছি। নতুন কর্মসূচি হিসেবে সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছি।

এ ছাড়া আপনারা জানেন, আমাদের কিছু নেতাদের বিরুদ্ধে বিতর্ক উঠেছিল, আমরা ভারপ্রাপ্ত থাকতেই সেটির সমাধান করেছি। তাদের অব্যাহতি দিয়েছি। আমরা ভারমুক্ত হওয়ার পর শূন্যপদ পূরণে কাজ করছিলাম। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে সেটি হয়ে ওঠেনি। অবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার কারণে আমরা এখন সেটির চূড়ান্ত পর্যায়ে আছি। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শূন্যপদগুলো পূরণের চিন্তা করছি।

দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর রাতে (৪ জানুয়ারি) বা পরদিন ওই পদ পূরণ করা হবে। এ লক্ষ্যে সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

প্রসঙ্গত, ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যদিও প্রতিষ্ঠাকালীন এটির নাম ছিল পূর্বপাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ। এটির প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়ক ছিলেন নাঈমউদ্দিন আহমেদ। পরে সভাপতি দবিরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক হন খালেক নেওয়াজ খান। বাংলাদেশের রাজনীতি ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির বেশিরভাগ নেতৃত্বই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের তৈরি। কালের পরিক্রমায় এ সংগঠনটির দায়িত্ব পালন করছেন সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য। তাদের হাত ধরেই ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন হচ্ছে।

এইচআর

 

আরও পড়ুন

আরও

আরও পড়ুন

               
         
close