ওসির নেতৃত্বে মানবিকতা জলঢাকায়
Back to Top

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২০ | ২৯ আষাঢ় ১৪২৭

ওসির নেতৃত্বে মানবিকতা জলঢাকায়

নুর আলম, নীলফামারী ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ০১, ২০২০

করোনাকালে নীলফামারীর জলঢাকা এলাকার অভাবী আর দরিদ্র মানুষদের বাড়িতে বাড়িতে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা, করোনায় আক্রান্ত কিংবা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের জানাযা ও দাফন স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী সম্পন্ন করাসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে মানবিকতার এক অন্য রকম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ।

আর ফ্রন্টলাইনে থেকে এসব মানবিক কাজের নেতৃত্ব দিয়েছেন জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান। ইতোমধ্যে তার নেয়া নানা পদক্ষেপের ফলে উপকৃত হয়েছেন উপজেলার মানুষ। আর এতে এখানকার সাধারণ মানুষের কাছে জলঢাকা পুলিশ পেয়েছে বিশেষ মর্যাদা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দাফতরিক কাজের পাশাপাশি করোনাকালের শুরু থেকে সুরক্ষায় বিশেষ প্রচারণা, লিফলেট বিতরণ, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করণে বিশেষ করে দোকান পাটের সামণে বৃত্ত দিয়ে চিহিৃত করণ, কাঁচা বাজার স্থানান্তর, হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা, অবরুদ্ধ চলাকালীন সময়ে চেকপোস্টের মাধ্যমে প্রবেশ ও বর্হিগমন বন্ধ নিশ্চিত করা, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দোকানপাট বন্ধ করণে কার্যকরী ভূমিকা রাখছে জলঢাকা থানা পুলিশ।

এছাড়াও করোনায় কর্মহীন মানুষদের রাতের আঁধারে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে খাদ্য পৌঁছে দেয়া, ৯৯৯ নম্বর থেকে খাদ্য চাওয়া ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিক খাদ্য সরবরাহ করাসহ বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে।

করোনায় এসব অতিরিক্ত দায়িত্বের মধ্যেও নিয়মিত টহল, অপরাধ কর্মকান্ড রোধে বিশেষ চোখ রাখছে পুলিশ। যে কারণে করোনাকালে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি কিংবা অপরাধ প্রবণতা বাড়ার মত কোন কিছুই লক্ষ্য করেনি জলঢাকার মানুষ।

স্থানীয় সংবাদকর্মী মনিরুজ্জামান লেবু বলেন, ওসি হিসেবে মনিরুজ্জামান যোগদানের পরই প্রতিটি এলাকা নখদর্পণে নেন তিনি। এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রবণতা কমিয়ে আনা, ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত না করার ক্ষেত্রেও বিশেষ উদ্যোগ নেন তিনি।

তিনি বলেন, যেখানে কোন খবর পেয়েছেন তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ নিয়েছেন ওসি। এটা ব্যতিক্রম আমাদের জন্য।

জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আমরা খুবই কঠোরভাবে কাজ করছি। করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি নারায়ণগঞ্জ চলে গিয়েছিলেন, তাকে আমরা নিয়ে এসে আইসোলেশন নিশ্চিত করেছি। করোনাকালে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্য পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে করোনায় আক্রান্ত কিংবা উপসর্গ নিয়ে যে ব্যক্তিরা মারা গিয়েছিলেন, তাদের জানাযা কিংবা দাফনে বাঁধা দেয়া হয়েছিল। আমরা সেখানে গিয়ে তাদের জানাযা দাফনের ব্যবস্থা করেছি। মেয়ের লাশ নিতে চাচ্ছিল না বাবা, আমরা তাকে দাফন করেছি। এটা করা হয়েছে মানবিকতা থেকে। কারণ মানুষ মানুষের জন্য।

জলঢাকা থানার ওসি আরও বলেন, জুনের প্রথম দিন থেকে সীমিত আকারে যানবাহন চলাচল শুরু হওয়ায়, পরিবহনগুলোতে সরকারি আদেশ মানা হচ্ছে কিনা সেটি নিশ্চিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কিনা সেটিও প্রতিনিয়ত নজরদারি করছি আমরা। আর এসব মানবিককাজে প্রতিনিয়ত আমাদের অনুপ্রেরণা দিয়ে যাচ্ছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান। তার নির্দেশনায়ই আমরা এত সুসংগঠিতভাবে এই কাজগুলো করতে পারছি, এই কৃতিত্ব তার।

এদিকে জলঢাকা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহেদ বাহাদুর বলেন, এ রকম ওসি এর আগে আমরা পাইনি। তিনি সর্বজনবিদিত মানুষ হিসেনে গ্রহণ যোগ্যতা পেয়েছেন সকলের কাছে।

উদাহরণ টেনে বাহাদুর বলেন, ওসি যোগদানের পরই ঘোষণা দিয়েছেন থানা সবার জন্য উন্মুক্ত। নির্দ্বিধায় আসবেন প্রয়োজনে। কোন মাধ্যম নয়, সরাসরি আসবেন। করোনায় যে সমস্ত কাজ করেছেন ওসি তা বাহবা পাওয়ার মত। আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই ওসিসহ সকল পুলিশ সদস্যকে।

উল্লেখ্য, জলঢাকা থানার ওসি হিসেবে গত বছরের ৩০ মার্চ দায়িত্ব গ্রহণ করেন মোস্তাফিজুর রহমান। এর আগে তিনি ঠাকুরগাঁও জেলায় ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এনএ/

 

: আরও পড়ুন

আরও