এসপির দায়িত্ববোধ ও ৪ অসহায় পরিবারের বাড়ি ফেরার গল্প
Back to Top

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২০ | ২৯ আষাঢ় ১৪২৭

এসপির দায়িত্ববোধ ও ৪ অসহায় পরিবারের বাড়ি ফেরার গল্প

নুর আলম, নীলফামারী প্রতিনিধি ১০:০৭ অপরাহ্ণ, মে ২৩, ২০২০

এসপির দায়িত্ববোধ ও ৪ অসহায় পরিবারের বাড়ি ফেরার গল্প
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমানের সহায়তায় কুষ্টিয়ায় নিজ বাড়িতে ফিরলেন নীলফামারীতে আটকে পড়া চার পরিবার।

শনিবার বিকেলে জেলা পুলিশের বিশেষ ব্যবস্থাপনায় চার পরিবারের দশজনকে কুষ্টিয়া পাঠানো হয়।

সদর উপজেলার পলাশবাড়ি ইউনিয়নের পলাশবাড়ি ভূমি অফিস সংলগ্ন এলাকা থেকে কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে মাইক্রোবাসে যাত্রা করেন তারা।
এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক আজমিরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র জানায়, গেল তিন মাস ধরে পলাশবাড়ি ভূমি অফিস সংলগ্ন পুকুর পাড়ে অস্থায়ী প্যান্ডেল বানিয়ে বসবাস করছিলেন কুষ্টিয়া জেলার মীরপুর উপজেলার খন্দকবারি আশ্রয়ন প্রকল্প এলাকার গোপন চন্দ্র রায়, নিপেন চন্দ্র রায়, গৌড় চন্দ্র রায় ও হাসি রানীর পরিবার। চার পরিবারে তাদের সদস্য সংখ্যা দশজন।

বাঁশের জিনিসপত্র বানিয়ে বিক্রি করে সংসার চালাতো তারা। এরই মধ্যে গেল মার্চ মাস থেকে করোনা শুরু হওয়ায় তাদের জীবিকার পথ বন্ধ হওয়ায় অর্থ সংকটে পড়েন। ধার দেনা করে কোন রকমে দিন কাটাচ্ছিলেন তারা। তিন মাস অতিবাহিত হওয়ায় চরম বিপাকে পড়ে ওই চার পরিবার।

এরই মধ্যে নিজ এলাকায় ফিরতে তাদের আকুতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি পুলিশ সুপারের নজরে আসে।

আটকে পড়া গোপন চন্দ্র রায় বলেন, আমার পরিবারের সদস্য সংখ্যা তিনজন। বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বাঁশের ডালি, মুরগীর খাঁচা, ফুলদানি বিক্রি করে সংসার চালাই। এখানে তিন মাস ধরে অবস্থান করছি। যা টাকা ছিল সব শেষ। করোনার কারণে বাহিরে যাওয়া যায় না। জিনিসপত্র বানানো কিংবা বিক্রিও বন্ধ, কেউ আমাদের খবরও রাখে না। চরম অনিশ্চয়তায় আছি। কয়েক দিন আগে এসপি স্যার আমাদের সবার জন্য সাত আট দিনের খাদ্য সামগ্রী পাঠিয়েছেন। সেগুলো দিয়েই চলছে।

হাসি রানী জানান, এখানে আসার আগে পাঁচ মাস ডোমারের আমবাড়িতে ছিলাম। আট মাস আমরা আমাদের জেলার বাইরে। সেখানে সবাই রয়েছে। কয়েকদিন আগে পুলিশ ভাইয়েরা এসে টাকা ও খাবার দিয়ে গেছেন। আমাদের বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। আজ সেটি পুর্ণতা পেল।

পলাশবাড়ি ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা পার্থ প্রতিম রায় জানান, পরিবারগুলোর কষ্ট দেখে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়। এরই মধ্যে বিষয়টি জানতে পারেন পুলিশ সুপার। গোয়েন্দা পুলিশ পরিদর্শক আজমিরুজ্জামানের মাধ্যমে সংবাদ নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেন তিনি।পুলিশ সুপারের কারণেই নিজ এলাকায় ফিরতে পারছে অনিশ্চয়তায় থাকা এই পরিবারগুলো। অনেক মহৎ একটি কাজ করেছেন তিনি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম জানান, শনিবার বিকালে পুলিশ সুপারের ব্যবস্থাপনায় নিজ খরচে আটকে পড়াদের একটি মাইক্রোবাসে কুষ্টিয়ায় পাঠানো হয়। পথে তাদের খাবার খরচ দিয়ে দেয়া হয় এবং তাদের তৈরি করা অবিক্রিত বাঁশের সামগ্রীও কিনে নেয়া হয়। যার মূল্য তিন হাজার টাকা।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান বলেন, শুধু পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে নয়, একজন সচেতন মানুষ হিসেবেও তো আমার কিছু দায়িত্ববোধ রয়েছে। একজন মানুষ বিপদে পড়েছেন অথচ আমার সুযোগ থাকার পরও আমি তাদের উপকার করছি না এমনটি হওয়া ঠিক নয়।
নিজেদের তাগিদেই আটকে পড়া মানুষদের উপকার করেছি যাতে তারা পরিবার পরিজনের কাছে ফিরতে পারে। বিষয়টি জানার পরই সবার আগে তাদের খাদ্যের ব্যবস্থা করেছি, যাতে তারা অভুক্ত না থাকে।

পুলিশ সুপার জানান, করোনার কারণে খাদ্য সংকটে রয়েছে অনেক পরিবার, যারা লজ্জায় কিছু বলতে পারেনা, সাহায্য চাইতে পারেনা। আমরা এ রকম মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য হট লাইন নাম্বার চালু করেছি এবং তথ্য জানা মাত্র গোপনে ওই মানুষগুলোকে খাদ্য দিয়ে আসছি।

পিএসএস

 

: আরও পড়ুন

আরও