সেই রাতের নির্যাতনের বর্ণনা দিলেন সাংবাদিক আরিফ
Back to Top

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২০ | ২৪ চৈত্র ১৪২৬

সেই রাতের নির্যাতনের বর্ণনা দিলেন সাংবাদিক আরিফ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ৬:০৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৫, ২০২০

সেই রাতের নির্যাতনের বর্ণনা দিলেন সাংবাদিক আরিফ

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসনের একটি দল রাতভর কীভাবে তাকে নির্যাতন করেছিল তার রোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম।

জামিনে মুক্ত হওয়ার পর রোববার দুপুরে হাসপাতালের বেডে শুয়ে আরিফ সাংবাদিকদের বলেন, শুক্রবার মধ্যরাতে আমার বাড়ির দরজা ভেঙে আমাকে প্রথমে আঘাত করেন

জেলা প্রশাসনের আরডিসি (সিনিয়র সহকারী কমিশনার) নাজিম উদ্দীন। ওনি আমাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন এবং টেনে হেঁচড়ে বের করে নিয়ে আসেন।

তিনি বলেন, সঙ্গে সঙ্গে আমার হাত এবং চোখ বেঁধে ফেলেন। এরপর ইনকাউন্টার দেয়ার কথা বলে আমাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। আমি অনেক আকঁতি-মিনতি করি। আমার প্রাণ ভিক্ষা চাই তাদের কাছে।

আরিফ বলেন, এরপরও তারা ক্ষান্ত হচ্ছিলেন না। আমাকে বার বার বলছিলেন যে কলমা পড়ে নে কলমা পড়ে নে। এসময় আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এরপর কোন এক জায়গা থেকে ঘুরিয়ে আমাকে আবারও ডিসি অফিসে নিয়ে আসা হয়েছে। সেখানে কোন রকম হাত দিয়ে চোখের বাঁধন আলগা করে দেখি যে আমি ডিসি অফিসে।

তিনি বলেন, এরপর আমাকে আবার শক্ত করে চোখ বেঁধে একটি রুমে নিয়ে গিয়ে আরডিসির নেতৃত্বে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং নির্যাতন করা হয়। আরডিসি নিজেই আমাকে মার দিয়েছেন। আমাকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করা হয়েছে। এরপর আমার কাছ থেকে ৪টি সিগনেচার নেয়া হয়েছে চোখ বাঁধা অবস্থায়।

নির্যাতিত সাংবাদিক বলেন, কিসের সিগনেচার নিয়েছে সেটা আমি এখন পর্যন্ত জানি না। এরপর তাড়াহুড়া করে তারা আমাকে কারাগারে নিয়ে যায়। আমাকে যে নির্যাতন করা হয়েছে তার চিহ্ন আমার সারা শরীরিরে রয়েছে।

জামিনের আবেদন করেছেন কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে জবাবে আরিফ বলেন, হাসপাতালে আসার পূর্ব পর্যন্ত যা হয়েছে সব আমার অমতে হয়েছে। আমাকে ফোর্স করে করা হয়েছে। 

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার পর জেলা প্রশাসকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমার নেতৃত্বে কয়েকজন ম্যাজিস্ট্রেট আনসার সদস্যদের নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল ইসলামের শহরের চড়ুয়া পাড়ার বাড়িতে যায়। একপর্যায়ে জোরপূর্বক দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে তার স্ত্রী সন্তানের সামনেই তাকে মারধর করে ধরে নিয়ে আসে।

পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে এসে বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও ভিডিও ধারনের পর আধা বোতল মদ ও দেড়শ গ্রাম গাঁজা রাখার অভিযোগে তাকে এক বছরের কারাদণ্ড দেয় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

এরই মধ্যে রোববার কুড়িগ্রাম ডিসি সুলতানা পারভিন স্ব-প্রণোদিত হয়ে জামিনের ব্যবস্থা করেছেন। তার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় আরিফুলের জামিনের জন্য কোন আবেদন করা হয়নি।

অন্যদিকে জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভিনসহ এ ঘটনা জড়িতদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

এ খবরে সাংবাদিকরা স্বস্তি প্রকাশ করলেও তাদের শুধু প্রত্যাহার নয় দেশের প্রচলিত আইনে বিচার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এসবি

 

সমগ্রবাংলা: আরও পড়ুন

আরও