সাংবাদিক আরিফ জামিনে মুক্ত
Back to Top

ঢাকা, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২০ | ২১ চৈত্র ১৪২৬

সাংবাদিক আরিফ জামিনে মুক্ত

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৩:১৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৫, ২০২০

সাংবাদিক আরিফ জামিনে মুক্ত

ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা পাওয়া কুড়িগ্রামের স্থানীয় সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেনের আবেদনের পর রোববার (১৫ মার্চ) সকালে কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সুজাউদ্দৌলা তাকে জামিন দেন। পরে তাকে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

আরিফ জানিয়েছেন, জেল কর্তৃপক্ষ তার কাছে একটি ওকালতনামা পাঠায়। পরিবার পাঠিয়েছে বলে এতে স্বাক্ষর নেওয়া হয় তার। তবে পরিবারের কেউ ওকালতনামায় স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য জেল কর্তৃপক্ষের কাছে কোনও কাগজ পাঠাননি বলে নিশ্চিত করেছেন আরিফুলের স্ত্রী মোস্তারিমা সরদার।

পরিবারের কে আপনাকে নিয়োগ করেছে এই প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, ‘কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি আহসান হাবীব নিলু তার সঙ্গে যোগাযোগ করে দুজনে মিলে ২৫ হাজার টাকা জামানতে জামিন করিয়েছেন।

এই প্রসঙ্গে জানতে আহসান হাবি নিলুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।

স্থানীয় সংবাদকর্মী ও সূত্রগুলো বলছে, মোবাইল কোর্টের সাজা নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা হওয়ায় চাপের মুখে জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন নিজের লোকজনদের দিয়ে আরিফের পরিবারের সঙ্গে কথা না বলেই কৌশলে তার কাছ থেকে স্বাক্ষর নিয়ে তাকে জামিন দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।

এর আগে রোববার সকালে আরিফুল ইসলামকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড দেওয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ১৭ জনকে রিটে বিবাদী করা হয়। বাংলা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক হারুন উর রশীদের পক্ষে আইনজীবী ইশরাত হাসান জনস্বার্থে রিটটি দায়ের করেন।

ইশরাত হাসান বলেন, ‘বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি সরদার মো. রশিদ জাহাঙ্গীরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি হতে পারে।’

এছাড়াও রিটে ফৌজদারি কার্যবিধি, ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন এবং সংবিধানের ৩১,৩২,৩৫ এবং ৩৬ অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘনের বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) মধ্যরাতে বাড়িতে হানা দিয়ে মারধর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় আরিফুল ইসলামকে। তার বাসায় আধা বোতল মদ ও দেড়শ’ গ্রাম গাঁজা পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ আনা হয়। এরপর গভীর রাতে জেলা প্রশাসকের অফিসে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। কুড়িগ্রাম জেলা কারাগারেই রাখা হয়েছিল তাকে।

ওএস/এমএফ

 

সমগ্রবাংলা: আরও পড়ুন

আরও