মনেই হয় না এখানে নদী ছিলো!
Back to Top

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২০ | ২৬ চৈত্র ১৪২৬

মনেই হয় না এখানে নদী ছিলো!

নুর আলম, নীলফামারী ১২:০৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৩, ২০২০

মনেই হয় না এখানে নদী ছিলো!

নাব্য হারিয়ে দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে ডোমার উপজেলা শহরের বুকচিরে যাওয়া শালকি নদী। বছরের প্রতিটি দিন বহমান স্রোতে ধরে রাখা এই নদীটি এখন যেন সাক্ষী হিসেবে পরিণত হচ্ছে জনসম্মুখে।

স্থানীয়রা বলছেন, বিভিন্ন স্থানে নদীটিকে দখলে নিয়ে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করায় সংকুচিত হয়েছে এর আকার। কোথাও কোথাও আবার মাটি ফেলে নিজের জায়গা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

ডোমার শহর থেকে উৎপত্তি হওয়া এই নদীটি রক্ষায় দাবি জানিয়েছেন সুধিজনেরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চিকনমাটি থেকে উৎপত্তি হয়ে প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটারের এই নদীটি মিলিত হয়েছে দেওনাই নদীতে।

উৎপত্তিস্থল থেকে শেষ মাথার বিভিন্ন অংশ অবৈধ দখলে যাওয়ায় নদীর মালিকানা অনেকটা দখলদারের কবলেই রয়েছে। আগের শালকি আর এখনকার শালকি দেখলে মনেই হবে না এটি একটি প্রবাহমান নদী ছিলো এখানে।

উপজেলা শহরের সংবাদকর্মী আনিসুর রহমান মানিক বলেন, এইতো সেদিনের কথা। নদী চব্বিশ ঘণ্টা পানিতে টুইটুম্বুর থাকতো। গোসল করতো মানুষ। কিন্তু এখন নদীটি তার যৌবন হারিয়েছে।

সাংবাদিক রায়হান অনিকেত সবুক্তবীন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নদীর কোনো কোনো স্থানে বেড়া দিয়ে ভাগ করে রাখা হয়েছে। মনে হয়েছে জায়গাটি ব্যক্তি মালিকানার হয়ে গেছে।

এই নদীটি নিয়ে মানুষের অনেক স্বপ্ন ছিলো। মাছ শিকার করতো। কিন্তু কি অবস্থায় এসেছে বিশ্বাস করাই যায় না।

স্থানীয়রা মনে করেন, উপজেলা শহরে ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত না হওয়ায় পানিতে নিমজ্জিত থাকেন বাসিন্দারা। বিশেষ করে একটু বৃষ্টি হলে গোটা শহর তলিয়ে যায়। বর্ষার সময়ে তো দুর্ভোগের শেষ নেই।

এর কারণ হিসেবেও নদীর নাব্য হারানো এবং সংকুচিত হওয়ার বিষয়টিকে দেখছেন স্থানীয়রা।

ডোমার পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ময়নুল হক মনু বলেন, শালকি নদীটি এই শহরের জন্য আশীর্বাদ হতে পারে। নদীটিকে ব্যবহার করে শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত করা যায়।

তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে যদি আমি আবারো প্রার্থী হই তাহলে নির্বাচনি ইশতেহারের অংশ হিসেবে এটিকে ব্যবহারের পরিকল্পনা থাকবে। যাতে শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা যায়।

ডোমার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ জানান, নদীটি সংস্কার করা হলে এর রুপ বদলাবে। পানি ধরে রাখতে পারবে। আবারো মাছ পাওয়া যাবে। এটি নিয়ে আমি বিভিন্ন সময় কথা বলেছি, পানি উন্নয়ন বোর্ডকেও বলেছি।

জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ড নীলফামারী বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, শালকি নদীটি দ্বিতীয় পর্যায়ে খননের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এনিয়ে একটি পিপি তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে আড়াই কোটি টাকা।

অনুমোদন হয়ে আসলে দ্রুত খনন কাজ শুরু করা হবে বলে তিনি জানান।

এইচআর

 

সমগ্রবাংলা: আরও পড়ুন

আরও