পীরগঞ্জের হামলায় গ্রেপ্তার সৈকত ছাত্রলীগ নেতা
Back to Top

ঢাকা, রবিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২১ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

পীরগঞ্জের হামলায় গ্রেপ্তার সৈকত ছাত্রলীগ নেতা

রংপুর প্রতিনিধি ৯:২৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০২১

পীরগঞ্জের হামলায় গ্রেপ্তার সৈকত ছাত্রলীগ নেতা
রংপুরের পীরগঞ্জে হিন্দুপাড়ায় হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় র্যা বের হাতে গ্রেপ্তার সৈকত মণ্ডল (২৪) ছাত্রলীগ নেতা। তিনি রংপুর কারমাইকেল কলেজের দর্শন বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির ছাত্র। তিনি ওই বিভাগে ছাত্রলীগের কমিটির ১ নম্বর সহসভাপতি। হামলা-অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর তাকে ছাত্রলীগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

২০১৭ সালের ৮ আগস্ট ওই কমিটির অনুমোদন দেন কলেজ ছাত্রলীগ কমিটির সভাপতি সাইদুজ্জামান সিজার ও সাধারণ সম্পাদক জাবেদ আহমেদ।

এদিকে কারমাইকেল কলেজ শাখার পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সৈকত মণ্ডলকে ছাত্রলীগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ১৮ অক্টোবর তাকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও এটি আজ শনিবার প্রচার পেয়েছে। 

কারমাইকেল কলেজ শাখার সভাপতি সাইদুজ্জামান সিজার ও সাধারণ সম্পাদক জাবেদ আহমেদ স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে, শুক্রবার রাতে টঙ্গী থেকে সৈকত মণ্ডল ও তার সহযোগী রবিউল ইসলামকে (৩৬) গ্রেপ্তার করে র্যা ব-১৩। সৈকত মণ্ডল উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের চেরাগপুর গ্রামের রাশেদুল মণ্ডলের ছেলে।

এ নিয়ে শনিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যা ব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীর লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, রংপুরের পীরগঞ্জের সাম্প্রদায়িক হামলার উসকানিদাতা ছিলেন সৈকত মণ্ডল, এমনকি হামলায় সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন তিনি। এছাড়া সৈকতের নির্দেশেই মাইকিংয়ের মাধ্যমে লোক জড়ো করেছিলেন মসজিদের মোয়াজ্জিন রবিউল।

তিনি বলেন, সৈকত স্নাতকোত্তর শ্রেণির ছাত্র এবং তিনি একটি ফেসবুক পেজের অ্যাডমিন। ওই পেজে তার তিন হাজার ফলোয়ার আছে। তিনি প্রথমে ওই পেজে ধর্মীয় উসকানিমূলক পোস্ট দিয়ে এবং এরপর মাইকিংয়ের মাধ্যমে লোক জড়ো করে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করেন। সৈকত নিজেকে একটি অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য ফেসবুকে ধর্মীয়, সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন উসকানিমূলক পোস্ট দিতেন।

খন্দকার আল মঈন বলেন, সৈকত প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন এসব তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই করেছেন। তার নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন হামলায় সরাসরি অংশ নিয়ে বাড়িঘর ও দোকানপাটে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেন। গ্রেপ্তার হওয়া রবিউল ঘটনাস্থলের পাশে একটি মসজিদের মোয়াজ্জেন ছিলেন। সৈকতের নির্দেশেই রবিউল মাইকিং করে লোকজন জড়ো করেন। এরপর উঁচু একটি স্থানে দাঁড়িয়ে সৈকত হামলা ও অগ্নিসংযোগের জন্য সবাইকে নির্দেশনা দেন। ঘটনার পরপর সৈকত ও রবিউল দুজনই আত্মগোপনে চলে যান।

এসবি
আরো পড়ুন

 

আরও পড়ুন

আরও