নওগাঁ-৬ আসনের উপনির্বাচন: বিএনপি প্রার্থীর বর্জনের ঘোষণা
Back to Top

ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০ | ১৫ কার্তিক ১৪২৭

নওগাঁ-৬ আসনের উপনির্বাচন: বিএনপি প্রার্থীর বর্জনের ঘোষণা

নওগাঁ প্রতিনিধি ৬:১৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৭, ২০২০

নওগাঁ-৬ আসনের উপনির্বাচন: বিএনপি প্রার্থীর বর্জনের ঘোষণা
নওগাঁ-৬ (রাণীনগর ও আত্রাই) আসনের উপনির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি সকালে বেশি হলেও দুপুরের পর ছিল কম। নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন বিএনপির প্রার্থী রেজাউল ইসলাম।

আজ শনিবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

সকাল থেকে রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি সকালে বেশি থাকলেও দুপুরের পর কম।

দুপুর ১২টায় আত্রাই উপজেলার ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রটিতে ভোটারদের কোনো সারি নেই। কিছুক্ষণ পরপর একজন-দুইজন করে ভোটার ভোট দিয়ে যাচ্ছেন। ওই কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ হাজার ৩৭৮জন। দুপুর ১২টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ২৮০টি। যা মোট ভোটারের ১২ শতাংশের কিছু কম। ওই কেন্দ্রে ছয়টি বুথের কোনোটিতে বিএনপির এজেন্ট পাওয়া যায়নি। ওই কেন্দ্রের বাইরে আব্দুর কাদের নামে এক ব্যক্তি দাবি করেন তিনি বিএনপি প্রার্থীর এজেন্ট ছিলেন।

প্রিজাইডিং অফিসার মোজাম্মেল হক বলেন, সকালে বিএনপির এজেন্টরা তালিকা দিয়ে ভোট কক্ষে বসেছিলেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর তারা নিজেরাই চলে যান। তাদেরকে বের দেওয়ার কোনো অভিযোগ পাইনি। সকাল থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাররা ভোট দিয়েছেন।

বিকেল ৩টায় আত্রাই উপজেলার আহসানগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ওই কেন্দ্রের ৮টি বুথে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ভোট পড়েছেন ৬৫৮টি। ওই কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩ হাজার ৪৫৬ জন।

এই হিসেবে বিকেল ৩টা পর্যন্ত কেন্দ্রটিতে ভোট পড়েছে ১৯ শতাংশ। বিভিন্ন কেন্দ্রে সাধারণ ভোটারদের ভোট দানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে, বিকেল সাড়ে ৩টায় আত্রাই উপজেলার সদরের নাহার গার্ডেন মার্কেটে সংবাদ সম্মেলন করে নানা অনিয়মের অভিযোগে এই নির্বাচনকে প্রহসনের নির্বাচন উল্লেখ করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন বিএনপি প্রার্থী রেজাউল ইসলাম।

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে দুই তিন দিন ধরে বিএনপির নেতাকর্মীদের মারধর করে ভোটের মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে আওয়ামী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকেরা। ভোটের দিন সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোতে বিএনপির সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দেয় আওয়ামী প্রার্থীর লোকজন।

তিনি বলেন, ১০৪টি ভোট কেন্দ্রের প্রত্যেকটি বুথে ধানের শীষের এজেন্ট দেওয়া হয়েছিল। ৯টার সময় ভোট শুরুর পর পরেই আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকেরা বিএনপির এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেয়। অনেক কেন্দ্রে বিএনপির সমর্থক হিসেবে পরিচিত এবং কোনো দল করে না এমন অনেক সাধারণ ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে।

রাণীনগন ও আত্রাই উপজেলা নিয়ে গঠিত এই নির্বাচনী এলাকায় মোট ভোটার ৩ লাখ ৬ হাজার ৭২৫ জন। ১০৪টি কেন্দ্রে ইলেক্ট্রনিং ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোট নেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থী ছাড়াও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) প্রার্থী ইন্তেখাব আলম নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান বলেন, ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশের স্বার্থে ম্যাজিস্ট্রেট ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মীরা সার্বক্ষণিক মাঠে ছিলেন। এছাড়া প্রতিটি ভোটকেন্দ্র এবং ভোটারদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ, র্যা ব, বিজিবি এবং আনসার বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। আর প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেছেন। কোথাও কোন ধরনের অপ্রিতীকার ঘটনা ঘটেনি।

উল্লেখ্য, গত ২৭ জুলাই এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম মারা গেলে আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।

এসবি

 

আরও পড়ুন

আরও