আম্ফান তাণ্ডবে ঝরে পড়েছে রাজশাহীর ২৫% আম
Back to Top

ঢাকা, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৩ আশ্বিন ১৪২৭

আম্ফান তাণ্ডবে ঝরে পড়েছে রাজশাহীর ২৫% আম

রাজশাহী ব্যুরো ৩:৫০ অপরাহ্ণ, মে ২১, ২০২০

আম্ফান তাণ্ডবে ঝরে পড়েছে রাজশাহীর ২৫% আম
ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের কারণে রাজশাহীতে গাছের ডালপালা ভেঙে বহু আম ঝরে পড়েছে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছেন বাগান মালিকরা।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখনো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি বলে দিচ্ছে শতকরা ২০ থেকে ২৫ ভাগ আম নষ্ট হয়েছে। করোনার কারণে আম বাজারজাতকরণ নিয়ে চিন্তায় ছিলেন বাগান মালিকরা। এবার এ ঘূর্ণিঝড় মরার ওপর খাড়ার ঘাঁয়ের মত কৃষকদের কাছে।

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তাণ্ডব রাজশাহীতে আঘাত না হানলেও এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। বুধবার দিবাগত রাতের এই ঝড়ে রাজশাহীতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে মাথায় হাত পড়েছে আমচাষিদের। আমবাগানগুলোতে ঝরে পড়া আমের স্তুপ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এছাড়াও কলা, ভুট্টা, পেঁপে ও ধানসহ অন্যান্য ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানান এ অঞ্চলের চাষিরা।

জেলার পুঠিয়া, দুর্গাপুর, বাঘা, চারঘাট, পবা, বাগমারা, গোদাগাড়ী, মোহনপুর ও তানোরেও ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার সকালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে পবা, বাঘা, চারঘাট, পুঠিয়া ও দূর্গাপুরের আমচাষিদের।

পবা উপজেলার নওহাটা গ্রামের আম চাষি ফরিদুল হক বলেন, আর কয়েকদিন পর আম নামানো শুরু হত। কিন্তু বুধবার রাত থেকে শুরু হওয়া ঝড় বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত তাণ্ডব চালিয়েছে। এতে বাগানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে আম। এখন আচারের জন্য দুই থেকে পাঁচ টাকা কেজি দরে এসব আম বিক্রি করতে হবে।

পুঠিয়ার কলাচাষি তাইজুল ইসলাম বলেন, ‘কলা বাগানের কলাগাছগুলো মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। এলাকায় ভুট্টা, পেঁপেসহ বিভিন্ন ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন না অনেকেই।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শামসুল হক বলেন, রাতেই বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়ে জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে কমপক্ষে ২০ শতাংশ আম ঝরে পড়েছে। তবে সকালে বিভিন্ন বাগান পরিদর্শন করে দেখা গেছে ক্ষতির পরিমাণ মহানগরীতে ১০ শতাংশ। অন্যান্য এলাকায় ১৫ শতাংশ। বাঘা উপজেলায় বেশি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে চাষিরা যদি আমের ভাল দাম পায় তাহলে হয়তো এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে।

তিনি আরও জানান, ঝড়ে রাজশাহীর অন্য ফসলের তেমন ক্ষতি হয়নি। মাঠে পাকা ধান আছে। সেগুলো মাটিতে শুয়ে গেছে। তবে ধান পেকে যাওয়ায় চাষিরা তা এখন কেটে নেবেন। শুক্রবার থেকে রোদ উঠলে ধানের ক্ষতি হবে না। তবে কিছু ধান ঝরে যেতে পারে।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক লতিফা হেলেন জানান, আম্ফান রাজশাহীতে আঘাত করেনি। তবে বৃহস্পতিবার রাত ২টা ৫৫ মিনিট থেকে ২টা ৫৮ মিনিট পর্যন্ত বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৫৯ কিলোমিটার। তবে অন্য সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ৪২ থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত। বুধবার ভোর ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৮১ মিলিমিটার।

বিএইচ/পিএসএস

 

 

: আরও পড়ুন

আরও