ভোটের পর নওগাঁয় স্বতন্ত্র প্রার্থীর বাড়িতে আগ্নিসংযোগ
Back to Top

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২ | ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

>

ভোটের পর নওগাঁয় স্বতন্ত্র প্রার্থীর বাড়িতে আগ্নিসংযোগ

নওগাঁ প্রতিনিধি ৮:১০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ০৮, ২০২২

ভোটের পর নওগাঁয় স্বতন্ত্র প্রার্থীর বাড়িতে আগ্নিসংযোগ
নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার ঘোষনগর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ভোটের পর স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা ফারজানা পারভীনের বাড়িতে আগুন দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার রাতে উপজেলার কমলাবাড়ি গ্রামে অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে। এতে ওই বাড়ির সমস্ত আসবাবপত্র-সহ গ্যারেজে থাকা ৫টি মোটরসাইকেল পুড়ে গেছে। 

ভোটের দিন সংঘর্ষের ঘটনায় ঘোষনগর ইউনিয়নের ফলাফল স্থগিত হওয়ায় প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু বক্করের কর্মীরা রাতের আঁধারে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে বলে ফারজানা পারভীনের কর্মী-সমর্থকদের অভিযোগ। 

পঞ্চম ধাপের ইউপি নির্বাচনে গত ৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ঘোষনগর ইউনিয়নে দুটি ভোটকেন্দ্রে ভোট গণনার সময় পুলিশের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারজানার সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওইদিন উত্তেজিত জনতা পুলিশের দুটি গাড়ি ও ভোটের সরঞ্জামে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় ফারজানা পারভীন-সহ ১১৩ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও আড়াই হাজার মানুষের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে পুলিশ।

ওই মামলায় ফারজানা ও তার স্বামী মতিউর রহমান-সহ এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বর্তমানে ঘোষনগর ইউপি নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত রয়েছে। ঘোষনগর ইউনিয়নের কমলাবাড়ি ও ঘোষনগর কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণ করা হবে। 

কমলাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাত ১২টার দিকে হঠাৎ করে ফারজানা পারভীনের বাড়ির গ্যারেজে আগুনের শিখা দেখতে পান স্থানীয়রা। ৫ জানুয়ারি ভোটের দিন সহিংসতার মামলায় গ্রেপ্তারের ভয়ে বর্তমানে ওই গ্রাম পুরুষশূন্য। আগুন দেখে গ্রামের নারীরা প্রথমে তা নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে খবর পেয়ে  পত্নীতলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ও মহাদেবপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে দমকল বাহিনীর দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে বাড়ির প্রায় সমস্ত মালামাল পুড়ে যায়। 

ফারজানা পারভীনের মেয়ের জামাই আতিকুর রহমান জানান, তার শাশুড়ি এবং শ্বশুর দুজনই বর্তমানে জেলে আছেন। তিনিও পরিবার নিয়ে নওগাঁ শহরে থাকেন। শ্বশুরবাড়িতে বর্তমানে কেউ নেই। এই সুযোগে রাত ১২টার দিকে দুবৃর্ত্তরা আগুন ধরিয়ে দেন।
তিনি জানান, বাড়িতে ৫টি মোটরসাইকেল ও বহু মূল্যবান আসবাবপত্র ছিল। এছাড়া ঘরভর্তি ধান ছিল। সব পুড়ে গেছে। প্রায় ১৫-১৬ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বি চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু বক্করের লোকজন রাতের আঁধারে আমার শ্বশুর বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। 

পত্নীতলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা রায়হান ইসলাম বলেন, আগুনে বাড়ির অধিকাংশ মালামাল পুড়ে গেছে। তবে ক্ষতির পরিমাণ কত হতে পারে তা এখনও নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। এটা শত্রুতা করে ধরিয়ে দেওয়া না শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ড তা সুনির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। 

পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আলম শ্হা বলেন, আগুন লাগার ঘটনার পর সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। ঘটনাটি কিভাবে ঘটলো তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা শত্রুতাবশত ঘটে থাকলে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসবি

 

আরও পড়ুন

আরও
               
         
close