নাটোরে চলনবিল পয়েন্টে মসজিদের নামে চাঁদাবাজি
Back to Top

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১ | ১৩ কার্তিক ১৪২৮

নাটোরে চলনবিল পয়েন্টে মসজিদের নামে চাঁদাবাজি

বাপ্পী লাহিড়ী, নাটোর ৩:২৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২১

নাটোরে চলনবিল পয়েন্টে মসজিদের নামে চাঁদাবাজি
নাটোরের সিংড়ায় চলনবিল পয়েন্টে জামে মসজিদের নামে পর্যটকদের নৌকা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

শুধু পর্যটকদের নৌকাই নয়, যেকোনো নৌকা ওইখানে ভিড়লেই দিতে হচ্ছে চাঁদা। চাঁদা দিতে আপত্তি করলে বা কারণ জানতে চাইলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ জরিমানাও আদায় করা হয়। এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন হুমকি ধামকি। 

এলাকার কতিপয় যুবক সঙ্গবদ্ধ হয়ে নৌকা প্রতি ১০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করছে। তাদের দাপটে কেউ কথা বলতে সাহস পায় না। এদের বিরুদ্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ না নেওয়ায় অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছেন। দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবী এলাকাবাসী সহ পর্যটকদের।

পর্যটক ফরিদ দেওয়ান জানিয়েছেন, তারা নৌকা নিয়ে ঘুড়তে ঘুড়তে এই মাজারে যান। এ সময় সেখানে নৌকা রাখতেই কোনো কিছু না বলেই ১০০ টাকা দাবী করেন। তবে কেনো টাকা নেওয়া হবে তা জানাতে ইচ্ছুক না তারা। এ সময় তাদের সাথে বাকবিতন্ডার পর সেখান থেকে ফিরে যেতে চাইলেও তাদের টাকা দিতে হবে দাবী করেন। এক পর্যায়ে গালিগালাজ সহ্য না করে নিজেদের সম্মানের কথা চিন্তা করে একশো টাকা দিয়ে সেখান থেকে ফিরে আসেন তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার অনেকেই জানিয়েছেন,  তারা এলাকার চিহ্নিত সবাই। এরা সরকারি দলের নেতাদের সাথে উঠাবসা করেন।  এদের সাথে কোনো তর্ক করলে হয়রানী হতে হয়। এখানকার টাকা অনেক উপরের নেতাও পায়। প্রতিদিন এভাবে বড় অংকের টাকা উঠে। এরা সবাই বেপরোয়া কোনো কিছু বলার নাই। 

এ বিষয়ে সিংড়ার স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা  জানিয়েছেন, তারা যা করছে এগুলো কোনো ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। শুধু নিউজ করে এদের থামানো যাবেনা। এদের থামানোর জন্য প্রতিমন্ত্রী যদি হস্তক্ষেপ করেন তবেই সম্ভব। 

জানা গেছে, চাঁদা আদায় এবং দুর্ব্যবহারের কারণে অনেক পর্যটকের নৌকা সিংড়া চলনবিল পয়েন্টে যাচ্ছে না। এর প্রতিকার হওয়া উচিত বলে অনেক ভুক্তভোগী মনে করেন। তাছাড়া সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও চলনবিল পয়েন্টে পর্যটকদের ভিড় কমে গেছে। সেই সাথে তিশিখালি, বিলসা ও কুন্দইল পয়েন্টে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

এ বিষয়ে নাটোরের জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ জানিয়েছেন, মসজিদের নামে এ ধরণের চাঁদাবাজির কোনো সুযোগ নেই। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

এসকে

 

আরও পড়ুন

আরও