টবেও হতে পারে বাগানবিলাস
Back to Top

ঢাকা, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৫ আশ্বিন ১৪২৭

টবেও হতে পারে বাগানবিলাস

পরিবর্তন ডেস্ক ৩:১৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২০

টবেও হতে পারে বাগানবিলাস
বাগানবিলাসের রূপই এমন। লাল, আলতা-সিঁদুরে গোলাপি কিংবা সাদা বাগানবিলাস ধরা দেয় আলাদাভাবে। রাস্তার ধারে কিংবা কোনো বাড়ির পাঁচিলে বাগানবিলাস বেড়ে ওঠে সহজেই। কিন্তু বাড়ির টবে পুঁততে গেলেই বাঁচে না বাগানবিলাস— এমন ধারণা আছে অনেকের। তবে তা একেবারেই ঠিক নয়। কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখলে বাড়িতেও তরতরিয়ে বেড়ে উঠবে বাগানবিলাস। আসুন তাহলে জেনে নেই বাগানবিলাস টবে তৈরি করার কিছু টিপস।

গাছের যত্নআত্তিবাগানবিলাস বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন আলো, মাটি, পানি, সার। কেমন হবে সেগুলো?

আলো: বাগানবিলাসের চাই ভালো আলো। অন্ততপক্ষে ছয় ঘণ্টা সূর্যের কড়া আলোয় এই গাছ রাখা জরুরি। শুধু আলো নয়, তাপও সহ্য করতে পারে বাগানবিলাস। তাই ছাদ, বেশি রোদ-আলো ঢোকে এমন বারান্দায় রাখুন এই গাছ। যত আলোয় থাকবে বাগানবিলাস, তত উজ্জ্বল রং ধরবে তার গায়ে।

 মাটি: দোআঁশ মাটির সঙ্গে শুকনো চা পাতা, পাতা পচা, শিং কুচি, রক্তসার একসঙ্গে মিশিয়ে রোদে শুকিয়ে নিন। তার পরে হাত দিয়ে ঝুরো ঝুরো করে সেই মাটিতে বসাতে পারেন গাছ।

পানি: যেহেতু বাগানবিলাস রোদে থাকে, তাই মাটিও শুকিয়ে যায় তাড়াতাড়ি। গরমকালে প্রত্যেক দিন পানি দেওয়া প্রয়োজন। তবে পানি যেমন গাছের গোড়ায় দাঁড়াবে না, তেমনই পুরো পানি আবার বেরিয়েও যাবে না। খেয়াল রাখতে হবে, মাটি যেন পানি শোষণ করে এবং একেবারে ভিজে ভিজে না থাকে। শীতকালে এক দিন অন্তর পানি দেওয়া যেতে পারে।

 সার: একটি টবে মাসে এক বার এক টেবিল চামচ সরষের খোল দিলেই চলে। আলাদা করে অন্য কোনো সারের দরকার নেই। তবে দু’-তিন সপ্তাহ অন্তর মাটি সামান্য খুঁচিয়ে দিলে ভালো হয়।

প্রপ্যাগেশন

হাট থেকে অনেক সময়েই বাগানবিলাসের চারা কিনে এনে ঠকে যান কেউ কেউ। অনেক ক্ষেত্রে চারাগাছের বদলে শুধু মাত্র ডাল কেটে মাটিতে পুঁতেও বিক্রি করে দেওয়া হয়। ফলে বাড়িতে ফিরে দেখা যায়, রি-পটিং করার পরেও গাছ বাঁচে না। একটি একটি করে পাতা ঝরে গিয়ে শূন্য ডাল পরে থাকে। তবে ভগ্ন মনোরথ না হয়ে ধৈর্য ধরা দরকার। এ রকম অবস্থাতেও গাছ শিকড় তৈরি করে ফের বেঁচে উঠতে পারে। তার জন্য আলো, মাটি, পানি, সারের খেয়াল রাখতে হবে। আর সমস্ত পাতা ঝরে গেলে গাছের আগার দিক বেশ খানিকটা ছেঁটে দিতে হবে। নিয়মিত পানি, আলো পেলে দেখা যাবে ধীর ধীরে কচি পাতা জন্মাচ্ছে। এমনকি ঋতু পরিবর্তনের সময়েও একইভাবে ধৈর্য ধরে রাখতে হবে। ডাল কেটে ফের গাছ তৈরি করাকে বলে প্রপ্যাগেশন। এ ক্ষেত্রে সমস্ত পাতা ঝরে গেলেও প্রপ্যাগেশন পদ্ধতিতেই ফের জন্মাতে পারে গাছ।

এক টব, হরেক রং

গোলাপি, লাল, সাদা, হলুদ... নানা ধরনের রঙের জন্য আলাদা আলাদা টবে পুঁততে পারেন বাগানবিলাস। চাইলে একটি বড় টবেও দু’টি ভিন্ন-কালারের গাছ বসাতে পারেন। এতে আসবে নতুনত্ব।

ফুল কিন্তু ফুল নয়

বাগানবিলাসের ফুল বলতে যে লাল, গোলাপি, সাদা রং দেখি... তা কিন্তু আদতে ফুল নয়। সেগুলো আসলে হল ব্র্যাক্ট। পাতাগুচ্ছের রংই বদলে অমন রঙিন দেখায়। তার মাঝে থাকে ছোট্ট ছোট্ট ফুল।

 কৃত্রিম রঙে নয়, বারান্দা বা বাইরের দেওয়াল ভরাতে পারেন রঙিন বাগানবিলাসে। তার জন্য দরকার শুধু ধৈর্য আর স্নেহ।

 ওএস/ইসি/ 

 

 

 

: আরও পড়ুন

আরও