আমাদের জেলা প্রশাসকের নরসিংদীতে দুই বছর
Back to Top

ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০ | ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭



আমাদের জেলা প্রশাসকের নরসিংদীতে দুই বছর

মোঃ মাজহারুল পারভেজ ২:০৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ১০, ২০২০

আমাদের জেলা প্রশাসকের নরসিংদীতে দুই বছর
সৈয়দ বাড়ির কন্যার মুন্সিয়ানা কাজে বদলে গেছে শিল্পনগরী নরসিংদী। মেধাবী ও রুচিশীল চিন্তা চেতনা এবং সততার সমন্বয়ে সাহসিকতার সাথে কাজ করার ফলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়টি আজ মানুষের আস্থায় পরিণত হয়েছেন।

বিগত দুইটি বছরে তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় নরসিংদী জেলায় একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটেছে। তিনি এ জেলার মানুষের সকলের প্রাণের জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাই।

মমতাময়ী আমাদের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন অত্যন্ত ধর্মপরায়ন একজন মানুষ। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ছাড়াও তাহাজ্জুদের নামাজ আদায়, সপ্তাহে একদিন রোযা রাখাসহ নফল ইবাদাতে নিজেকে মত্ত রাখেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মিশন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার হাতেখড়ি শুরু হয় তার। জেলার সাবের সোবাহান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন তিনি।

অত্যন্ত সুনামের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে তিনি ২০০১ সালে হবিগঞ্জ জেলায় সহকারী কমিশনার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে হবিগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলায় দক্ষতা ও সুনামের সাথে ভূমি সেবা প্রদান করেন।

নেত্রকোনা, নীলফামারী ও ঠাকুরগাঁয়ে ১ম শ্রেণির ম্যাজিষ্ট্রেট হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার।

চৌকস এই কর্মকর্তা কিছু সময় পানিসম্পদ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়েও দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী অফিসার পদে নিযুক্ত হন।

২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগ ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের ২০১১-২০১২ অর্থ বছরের কর্মকাণ্ড মূল্যায়নের পরিপ্রেক্ষিতে দেশসেরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হওয়ার গৌরব অর্জন করেন তিনি।

ঢাকা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি)  এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকালেই ২০১৮ সালের ১১ মার্চ নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ পান সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন। 

নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট হিসেবে যোগদান করার পর তিনি প্রায় সাড়ে ৪শত কর্মহীন বেকার তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেন।

প্রাথমিক শিক্ষায় এ জেলায় ব্যাপক অবদানের জন্য তিনি দেশসেরা জেলা প্রশাসক হিসেবে ‘জাতীয় শিক্ষা পদক ২০১৮’ -এ ভূষিত হন।

একজন সৎ সরকারি কর্মকর্তার চেয়ারের যে আসলেই কতো ক্ষমতা সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন তা কাজের মাধ্যমে দেখিয়েছেন। সততা থাকলেই সরকারি কর্মকর্তারা এই দেশটা পাল্টে দিতে পারেন। তিনি তার উজ্জল দৃষ্টান্ত।

নরসিংদীর উন্নয়ন ও নরসিংদীর মানুষের প্রতি তার ভালোবাসার কোনো কমতি নেই। মায়ের মমতা দিয়ে এ জেলাকে সাজাতে ইতোমধ্যে শহরের সাটিরপাড়া মৌজায় বঙ্গবন্ধু থিম পার্ক করার জন্য ৫ একর জমি অধিগ্রহণ করেছেন। নাগরিয়াকান্দী শেখ হাসিনা ব্রিজের পাশে একটি ইনডোর ষ্টেডিয়াম ও নরসিংদীর সাংবাদিকদের জন্য প্রেসক্লাবের পাশেই একটি আবাসন প্রকল্পের কাজ শুরু করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। এবং তিনি তা পারবেন বলে বিশ্বাসও করে এ জেলার মানুষ।

সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন মুক্তিযুদ্ধের বিশিষ্ট সংগঠক ও বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহোচর এবং আদর্শবান রাজনীতিক ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রাণের মানুষ অ্যাডভোকেট মরহুম সৈয়দ সিরাজুল ইসলামের কন্যা।

১৯৭০-এর নির্বাচনে তিনি বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে জাতীয় নির্বাচনে এমপি হিসেবে জয়লাভ করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে জেলা আওয়ামী লীগকে ঢেলে সাজান। ফারহানা কাউনাইনের স্বামী মোঃ সায়েদুর রহমান ঢাকা বিভাগের পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে সুনামের সাথে কাজ করে আসছেন। এই দম্পতি দুই সন্তানের জনক।

লেখক: মোঃ মাজহারুল পারভেজ

সাধারণ সম্পাদক

নরসিংদী প্রেস ক্লাব।

লেখকদের উন্মুক্ত প্লাটফর্ম হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে মুক্তকথা বিভাগটি। পরিবর্তনের সম্পাদকীয় নীতি এ লেখাগুলোতে সরাসরি প্রতিফলিত হয় না।
 

আরও পড়ুন

আরও