সংগঠনে রয়ে গেছে কিছু অসঙ্গতি: ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক
Back to Top

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১ | ৭ বৈশাখ ১৪২৮



সংগঠনে রয়ে গেছে কিছু অসঙ্গতি: ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক

সালাহ উদ্দিন জসিম ২:২৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ০৪, ২০২১

সংগঠনে রয়ে গেছে কিছু অসঙ্গতি: ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক
ছাত্রলীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ ৪ জানুয়ারি। বাংলাদেশের জন্মেরও আগে প্রতিষ্ঠিত এ সংগঠনটির প্রাপ্তির ঝুলি বেশ ভারী। কালেকালে অপ্রাপ্তি বা বিতর্কও কম ছিল না।

তবে বাংলাদেশের আন্দোলন-সংগ্রাম ও সাফল্যের গৌরবান্বিত ইতিহাস-ঐতিহ্যের বাঁকে চাপা পড়ে গেছে সব বিতর্ক। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও দুর্নীতির দুষ্টক্ষত ছাপিয়ে ছাত্রলীগ তার ঐতিহ্যের ধারা সমুন্নত রেখে গণমানুষের হৃদয় কেড়েছে।

গেল বছরে করোনা মহামারির মধ্যে ছাত্রলীগের টেলিমেডিসিন সেবা, সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ, খাদ্য সহায়তা প্রদান, বিনামূল্যে কৃষকের ধানকাটা ও লাশ দাফনের কার্যক্রম প্রশংসা কুড়িয়েছে।

তবে সংগঠনটির সাংগঠনিক দুর্বলতাও চরমে। মেয়াদোত্তীর্ণ শত ইউনিটের কমিটি করতে না পারা, ঢাকার ৫ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের সম্মেলন হলেও কমিটি গঠনে ব্যর্থতা, কেন্দ্রীয় কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেলেও ৫০টি শূন্যপদ পূরণ করতে না পারা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের দায়িত্ব বণ্টন না করতে পারা- এসবের মধ্য দিয়ে সাংগঠনিক নাজুক অবস্থা ফুটে উঠেছে।

এসব প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর নানা আয়োজন নিয়ে পরিবর্তন ডটকমের সঙ্গে কথা বলেছেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।

পরিবর্তন ডটকম : এবার ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনে কী কী কর্মসূচি থাকছে?

লেখক ভট্টাচার্য : আয়োজনে প্রতিবারের মতো ছাত্রছাত্রী, সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী এবং দুস্থ ও অসহায়দের জন্য সামাজিক কার্যক্রম; শীতবস্ত্র বিতরণ, রক্তদান কর্মসূচি ও সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করব। তাছাড়া ৪ জানুয়ারি সকালে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন, কার্জন হলে কেক কাটা, বিকেলে ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে (কেআইবি) আলোচনা সভা। সভায় প্রধান অতিথি থাকবেন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক নেত্রী, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

পরিবর্তন : এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রাণ নেই মনে হচ্ছে। অন্যান্য সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং জেলা-উপজেলায় সাজ সাজ রব থাকে। ঢাক-ঢোল পিটিয়ে র্যা লিসহ নানা কর্মকা- হয়। এবার সে আমেজ নেই, কেন?

লেখক ভট্টাচার্য : এর কারণ করোনা মহামারি। এই পরিস্থিতিতে যেন কোনো জনসমাগম বা জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিঘ্নিত না হয়, সেজন্য আমাদের মূল আকর্ষণ বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করছি না। আসলে এই শোভাযাত্রাটিই আমাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদযাপনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়। ক্যাম্পাস, শহর ও ব্যক্তির মধ্যে একটা সাজ-প্রস্তুতি চোখে পড়ে। সেটি করোনায় এ মুহূর্তে নেত্রীর নির্দেশেই আমরা করছি না।

পরিবর্তন : প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রাপ্তির হিসাব-নিকাষ হয়। অপ্রাপ্তিগুলোও উঠে আসে। আপনাদের এ সময়ে ছাত্রলীগের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি কী?

লেখক ভট্টাচার্য : আমি ও আমার সভাপতি একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে নেতৃত্বে এসেছিলাম। সেখানে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার একটা পর্যায় ছিল। ছাত্রলীগের প্রতি মানুষের যে আস্থা, তার ঘাটতি দেখা দিয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে দেশরত্ন শেখ হাসিনা আমাদের দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকে আমরা সর্বোচ্চভাবে চেষ্টা করেছি, ছাত্রলীগের প্রতি মানুষের যেসব অভিযোগ সব সময় থাকে, কিংবা আমরা দায়িত্ব পাওয়ার সময় যেসব অভিযোগ ছিল, সেগুলো কাটিয়ে উঠতে। আপনারা জানবেন, বিগত দিনে ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদকদের ব্যক্তিগত জীবনযাপন, চাল-চলনে পরিবর্তন দেখে নানা বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা সেসব করিনি। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতোই হলে থেকে সংগঠন পরিচালনা করেছি। রাস্তাঘাটে চলার সময় প্রটোকল নেওয়ার কারণে বিভিন্ন সময় বিরূপ পরিবেশের সৃষ্টি করে, আমরা সেটাও করিনি।

জনমানুষ সাধারণ শিক্ষার্থীদের যেভাবে গ্রহণ করে, সেভাবে ছাত্রলীগকেও গ্রহণ করার মতো পরিবেশ আমরা তৈরি করেছি। আমাদের সাংগঠনিক নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আমাদের পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের প্রতি যে নির্দেশনা দিয়েছিলাম, তা তারা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে ছাত্রলীগের রাজনীতির আদর্শকে ধারণ করেছে। আপনারা দেখেছেন, করোনা মহামারির সময় কীভাবে নেতাকর্মীরা জীবনের মায়া ত্যাগ করে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ছাত্রছাত্রীরা যখন যে সমস্যায় পড়েছে, আমরা সমাধান করেছি।

যেসব ছাত্র মেসে থাকে, তাদের মেস ভাড়া মওকুফ করা বা ছাড় দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। টেলিমেডিসিন সেবা, লাশ দাফন/সৎকার, ধান কাটা ও নিম্ন ও মধ্যবিত্তের নাম গোপন করে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিয়েছি। যেহেতু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সব বন্ধ ছিল, আমরা সাংগঠনিক কাজ করতে পারিনি। সামাজিক ও মানবিক কাজে মনোনিবেশ করেছিলাম। এতে আমরা অনেকটাই সফল বলে মনে করি। তবে যেহেতু শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমাদের সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের অবস্থান প্রতিষ্ঠানে না থাকায় আমাদের কমিটি প্রদানসহ সাংগঠনিক কার্যক্রম ঠিকঠাক চালাতে পারিনি। সাংগঠনিক কাঠামোতে কিছু অসঙ্গতি ছিল আগে থেকেই, সেগুলো কাটিয়ে উঠতে পারিনি। কিন্তু প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী থেকে শপথ নেব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলার সঙ্গে সঙ্গে যেন সারা বাংলাদেশে সাংগঠনিক কাঠামোকে শক্তিশালী করে স্থাপন করতে পারি।

পরিবর্তন : আপনাদের সামাজিক ও মানবিক কাজগুলো প্রশংসা কুড়িয়েছে। আমরাও সালতামামিতে লিখেছি। পাশাপাশি সাংগঠনিক কিছু অসামঞ্জস্যতা কাটিয়ে ওঠা, সাংগঠনিক কাঠামোর মজবুতির জন্য যে কাজটা, সেটাতে চরম গ্যাপ। যেমন : মেয়াদোত্তীর্ণ ১১১ ইউনিটের মধ্যে মাত্র ১১টিতে কমিটি দিয়েছেন, ঢাকার ৫ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের সম্মেলন হলেও কমিটি হয়নি দীর্ঘদিন যাবৎ, কেন্দ্রেীয় কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও এখনো পূরণ হয়নি ৫০টি শূন্য পদ। এগুলো কবে নাগাদ করতে পারবেন?

লেখক ভট্টাচার্য : আপনারা জানেন, কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বিতর্ক উঠেছিল, আমরা ভারপ্রাপ্ত থাকতেই সমাধান করেছি। আমরা ভারমুক্ত হওয়ার পর শূন্যপদ পূরণে কাজ করছিলাম। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে সেটি হয়ে ওঠেনি। অবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার কারণে আমরা এখন সেটির চূড়ান্ত পর্যায়ে আছি। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শূন্যপদগুলো পূরণের চিন্তা করছি। এ ছাড়া ঢাকা ৫ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কমিটি করা বাধ্যতামূলক, এগুলো ছাত্রলীগের শক্তিশালী ইউনিট। এগুলোর সম্মেলন হয়েছে, ফাইনাল করার আগেই করোনা চলে আসল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেল। বন্ধ প্রতিষ্ঠানে তো আমরা কমিটি দিতে পারি না। সেক্ষেত্রে নেত্রীর সঙ্গে কথা বলেছিলাম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাদে যে জায়গাগুলো আছে, জেলা ও মহানগর; সেখানে কমিটি করার জন্য কথা বলেছিলাম। সেভাবেই আমরা ধীরস্থিরে আগাচ্ছি। কিছু কমিটি করেছি, করছি। ধারাবাহিকতা আছে। কাঠামোগতভাবে যেখানে কমিটি নেই, সেগুলো করব। আর জেলাসমূহে যতদিন সফর করতে পারছি না, সেগুলো করা যাচ্ছে না। জেলাগুলোতে আমরা সফর করে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি দেব।

পরিবর্তন : ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন নিয়ে নানা সময় নানা গল্প শুনি; নেত্রীর সঙ্গে আপনার কথা হয়েছে, তিনি বলেছেন ধীরে চলো, ইত্যাদি ইত্যাদি। আসলে সম্মেলনের বিষয়ে কোনো অগ্রগতি আছে কি না?

লেখক ভট্টাচার্য : আমরা নেত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। আমাদের সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গেও কথা বলেছি, তারাও এ বিষয়ে নেত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। সম্মেলনের ব্যাপারে কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত দেননি। তিনি এই করোনা মহামারিতে সবকিছু বাদ দিয়ে মানুষের সেবা করার নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা সেভাবেই চলছি। কবে নাগাদ সম্মেলন হবে, কীভাবে হবে, সেটির সিদ্ধান্ত একমাত্র নেত্রীই দেন, তিনিই দেবেন। এটি সব সময় এভাবেই হয়ে আসছে।

পরিবর্তন : আমাদের সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

লেখক ভট্টাচার্য : আপনিসহ পরিবর্তন ডটকম পরিবারকেও ধন্যবাদ।

এইচআর

 

আরও পড়ুন

আরও