নতুন বছরে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বিএনপি
Back to Top

ঢাকা, রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ১১ আশ্বিন ১৪২৮

নতুন বছরে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বিএনপি

মাহমুদুল হাসান ১২:৫০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৯, ২০২০

নতুন বছরে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বিএনপি
নানা সংকটের মুখেও দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখে রাজনীতির মাঠে টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। নতুন বছরে রাজনীতির মাঠে ঘুরে দাঁড়াতে চায় দলটি। এজন্য মাঠে আসার প্রস্তুতি নিয়েছে এবং বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চিন্তা করছে।

স্বাধীনতার উৎসব ঘিরে ইতিমধ্যে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে দলটি। সুবর্ণজয়ন্তী পালন কর্মসূচির মাধ্যমেই জনগণের কাছে দাবি পৌঁছে দিতে চান দলের নেতারা। ‘রাজনৈতিক প্রতিকূল পরিবেশে’ নতুন বছরে টিকে থাকার লড়াইয়ে বেশ কিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। মোটাদাগে বিএনপির চারটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন দলটির সামনে চ্যালেঞ্জ।

প্রথমত, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বছরব্যাপী কর্মসূচি পালন, দ্বিতীয়ত : নতুন বছরের মধ্যে সংগঠন গোছানোর মধ্য দিয়ে দলে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা। তৃতীয়ত দলটির পুরনো রাজনৈতিক দাবি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিকে ক্রমান্বয়ে ইস্যুতে পরিণত করা এবং সরকারবিরোধী বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলা।

নতুন বছরে বিএনপির কর্মসূচি মূলত সুবর্ণজয়ন্তীকে ঘিরেই। দলটি স্বাধীনতার এই উৎসবকে সার্বজনীন রূপ দিতে চায়। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে এই উৎসব কর্মসূচি প্রণয়নের নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের স্বাধীনতায় যাদের ত্যাগ ও আত্মদান রয়েছে তাদের অবদান তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে বিষয়ভিত্তিক ২৫টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক থেকে শুরু করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং জিয়াউর রহমানসহ স্বাধীনতার ইতিহাসের যাদের যেখানে স্থান সেই অবদান তুলে ধরতে চায় বিএনপি।

বিএনপিতে রজতজয়ন্তীর উৎসবের সূচনার জন্য আপাতত তিনটি তারিখের কথা চিন্তা করা হচ্ছে। ১৯ জানুয়ারি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী ঘিরে অনুষ্ঠানমালার সূচনা হতে পারে। অথবা স্বাধীনতা যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক দামামা বেজে ওঠার দিন ১ মার্চ কিংবা স্বাধীনতা দিবস ২৬ মার্চে সুবর্ণজয়ন্তীর বছরব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হতে পারে।

বছরব্যাপী অনুষ্ঠান সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে ইতিমধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে আহ্বায়ক ও উপদেষ্টা আব্দুস সালামকে সদস্য সচিব করে ১৩৪ সদস্যের জাতীয় কমিটি করা হয়েছে। একটি স্টিয়ারিং কমিটিও করা হয়েছে। এই দুইটি কমিটিতে স্থায়ী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্যসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের রাখা হয়েছে। এর বাইরেও ১৫টি বিষয়ভিভিত্তিক কমিটি এবং ১০টি বিভাগীয় কমিটি করা হয়েছে।

বিষয়ভিত্তিক ১৫টি কমিটির মধ্যে অন্তত চারটি কমিটি এমন রয়েছে, যেগুলোকে দুটি কমিটিতে রূপ দিলে কাজ সূচারুভাবে হতো বলে কেউ কেউ মনে করছেন। সেক্ষেত্রে প্রচার ও মিডিয়া কমিটি আলাদা না হয়ে একটি এবং প্রকাশনা ও স্মরণিকা কমিটি পৃথক না হয়ে একটি কমিটি করা যেত বলে তাদের মত। প্রচার কমিটির দায়িত্বে রয়েছেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। মিডিয়া কমিটির আহবায়ক ইকবাল হাসান মাহমদ টুকু ও সদস্য সচিব শামা ওবায়েদ। প্রকাশনা কমিটির দায়িত্বে রয়েছেন আবদুল্লাহ আল নোমান ও হাবিবুল ইসলাম হাবিব এবং স্মরণিকা কমিটির দায়িত্বে আছেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আব্দুস সালাম।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ প্রসঙ্গে পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে সুবর্ণজয়ন্তী পালনকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছি। এর কারণ বিএনপি স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দল এবং মুক্তিযোদ্ধাদের দল। এজন্য আমাদেরই সুবর্ণজয়ন্তী পালন দায়িত্ব মনে করি। আমাদের কর্মসূচি থাকবে বছরব্যাপী। প্রত্যেক সিটি করপোরেশন, জেলা সদর এবং উপজেলায় কর্মসূচি পালন করব। বিভিন্ন দেশের রাজধানীতেও অনুষ্ঠান করব।

২০২১ সালে সংগঠন গোছানোর কাজ পুরোপুরি শেষ করতে চায় বিএনপির হাইকমান্ড। এ নিয়ে দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের দিক-নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। নতুন এই বছরে সীমিত পরিসরে হলেও একটি কাউন্সিল করার চিন্তা করা হচ্ছে। শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তন না আসলেও কেন্দ্রীয় কমিটির বিভিন্ন পদে কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে পরিবর্তন আনা হতে পারে। কাউন্সিল অনুষ্ঠানে বিলম্ব হওয়ায় বেশ কিছু শূন্যপদে ইতিমধ্যে নিয়োগ দিতে শুরু করেছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। এই প্রক্রিয়া আগামীতেও অব্যাহত রাখতে চান তিনি।

বিএনপি বর্তমান প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দলের ঐক্য ধরে রাখার বিষয়টিতেও সর্বোচ্চ নজর দিচ্ছে। এজন্য প্রয়োজনে কঠোর সিদ্ধান্তও নিতে হচ্ছে হাইকমান্ডকে। দলের দুই প্রভাবশালী ভাইস চেয়ারম্যানকে সম্প্রতি শোকজ করা হয়েছে। এ শোকজের মধ্য দিয়ে শীর্ষ নেতৃত্ব সংগঠনের সব পর্যায়ে একটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। সেটি হচ্ছে, দলের চেইন অব কমান্ডই মুখ্য, এক্ষেত্রে কোনো ব্যত্যয় ঘটানো যাবে না।

এইচআর

 

আরও পড়ুন

আরও