জাল টাকা দিয়ে পাওনাদারদের ঋণ শোধ করতো সাহেদ!
Back to Top

ঢাকা, শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২০ | ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭

জাল টাকা দিয়ে পাওনাদারদের ঋণ শোধ করতো সাহেদ!

প্রীতম সাহা সুদীপ, ঢাকা ৪:২৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৬, ২০২০

জাল টাকা দিয়ে পাওনাদারদের ঋণ শোধ করতো সাহেদ!
উত্তরায় রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদ করিমের গোপন কার্যালয় থেকে যেসব জাল টাকা উদ্ধার করেছে র‍্যাব, সেগুলো তিনি পাওনাদারদের পাওনা পরিশোধে ব্যবহার করতেন।

উত্তরার ওই কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে বুধবার ১ লাখ ৪৬ হাজার জাল টাকা উদ্ধারের পর এ বিষয়ে সাহেদকে জিজ্ঞাসাবাদ করে র‍্যাব।

জিজ্ঞাসাবাদে সাহেদ র‍্যাবকে জানায়, উত্তরার ওই গোপন অফিসকে সে নিজের ল' চেম্বার হিসেবে পরিচয় দিত। সেখান থেকে যেসব জাল টাকা পাওয়া গেছে, যেসব পাওনাদারদের টাকা না দিলেই নয় তাদেরকে সেসব জাল টাকা ধরিয়ে দেয়া হত।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেন, সাহেদ জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে, তার কাছে যারা টাকা পেত তাদের এই জাল টাকা দিয়ে সে ঋণ পরিশোধ করতো। পরবর্তীতে তাদের কেউ যদি জাল টাকা বুঝতে পেরে অভিযোগ নিয়ে আসতো, তখন সাহেদ তাদের বলতো আপনারা মামলায় যান।

৫০ লাখ টাকায় সীমান্ত পাড়ির চুক্তি সাহেদেরঃ

এছাড়া সাতক্ষীরায় মাছের ঘেরের মালিক ও মানবপাচারকারী হিসেবে পরিচিত ফেরদৌস ওরফে আলফার মাধ্যমে ৫০ লাখ টাকার চুক্তিতে সীমান্ত পাড়ি দেয়ার পরিকল্পনা ছিল সাহেদের।

এ বিষয়ে র‍্যাব কর্মকর্তা আশিক বিল্লাহ বলেন, সে বিভিন্ন উৎসের কাছে জানিয়েছে ৫০ লাখ টাকায় সাহেদকে সীমান্ত পাড়ির চুক্তির কথা। চুক্তি অনুযায়ী সে একটি এসি রুমে সাহেদকে বিগত চারদিন রেখেছিল। এ রকম একটি তথ্য আমরা র‍্যাবের নজরে এসেছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।

জাল টাকা উদ্ধারের ঘটনায় র‍্যাবের মামলাঃ

এদিকে সাহেদের উত্তরা কার্যালয় থেকে জাল টাকা উদ্ধারের ঘটনায় পৃথক একটি মামলা করেছে র‍্যাব।

বুধবার রাতে র‌্যা‌ব-১ কর্মকর্তা ম‌জিবুর রহমান বা‌দী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় সাহেদকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া রিজেন্টের গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ পারভেজকেও আসামিকে ২ নম্বর আসামিসহ অজ্ঞাতনামাদের আসামি করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত করছেন উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাউসার।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তপন চন্দ্র সাহা পরিবর্তন ডটকমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, সাহেদের উত্তরা অফিস থেকে জাল টাকা উদ্ধারের ঘটনায় র‍্যাব বাদি হয়ে একটি মামলা করেছে। মামলাটি তদন্তাধীন আছে।

'কোভিড টেস্টের ভুয়া রিপোর্ট দেয়ার কথা স্বীকার করেছেন সাহেদ'

এদিকে কোভিড-১৯ টেস্ট নিয়ে প্রতারণার কথা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদ করিম স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিবির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি করেন গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. আব্দুল বাতেন।

তিনি বলেন, কোভিড-১৯ পরীক্ষার যেসব রিপোর্ট রিজেন্ট হাসপাতাল থেকে দেয়ার হয়েছে, তার বেশিরভাগই ভুয়া ছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। তাছাড়া সাহেদ যে এসব প্রতারণা করেছে তার যাবতীয় তথ্য প্রমাণ আমরা সংগ্রহ করছি।

ডিবি পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, রিজেন্ট হাসপাতালে র‌্যাবের অভিযান শুরুর আগে কিছু মেশিনারিজ হাসপাতাল থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। আমরা সেসব যন্ত্রপাতি উদ্ধারের চেষ্টা করছি। যদি প্রয়োজন হয় তবে সাহেদকে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

সাহেদকে রিমান্ডে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে জানিয়ে ডিবির এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, যারা সাহেদের কাছে প্রতারণার শিকার হয়েছেন অভিযোগ করতে চাইলে ডিবি পুলিশ তাদের অভিযোগ নেবে। আমরা ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা দেব।

সাহেদ-মাসুদের ১০ দিনের রিমান্ডঃ

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ করিম এবং এমডি মাসুদ পারভেজকে ১০ দিনের রিমান্ড দেন আদালত।

এছাড়া সাহেদের আরেক সহযোগী ও রিজেন্ট হাসপাতালের কর্মী তরিকুল ইসলাম ওরফে তারেক শিবলীর পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে আবার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসীম শুনানি শেষে রিমান্ডের এই আদেশ দেন।

এর আগে বুধবার (১৫ জুলাই) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সাতক্ষীরার দেবহাটা সীমান্ত থেকে অবৈধ অস্ত্রসহ সাহেদকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। তার বিরুদ্ধে দেবহাটা থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারের পরই তাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়।

করোনা ভাইরাস পরীক্ষা না করেই সার্টিফিকেট দেওয়াসহ নানা প্রতারণার অভিযোগে রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদ করিমকে প্রধান আসামি করে ১৭ জনের বিরুদ্ধে গত ৭ জুলাই উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করে র‌্যাব। সেই মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন মোট আটজন। সাহেদ, মাসুদ পারভেজ ও তারেক শিবলীসহ এখন পর্যন্ত ১১ জন এই মামলায় গ্রেফতার আছেন।

গত ৬ জুলাই রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর কার্যালয়ে অভিযান চালায় র‌্যাব। পরীক্ষা ছাড়াই করোনার রিপোর্ট ও সনদ দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল হাসপাতালটি। পরে ৭ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশে রিজেন্ট হাসপাতালের দুই শাখা ও তার মূল কার্যালয় সিলগালা করে দেওয়া হয়।

পিএসএস

 

: আরও পড়ুন

আরও