ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে খাদ্য বিভাগ, নেই সুরক্ষা সামগ্রী
Back to Top

ঢাকা, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০ | ২৬ আষাঢ় ১৪২৭

ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে খাদ্য বিভাগ, নেই সুরক্ষা সামগ্রী

আবদুল্লাহ আল-মামুন, ফেনী প্রতিনিধি ১:২০ অপরাহ্ণ, মে ১২, ২০২০

ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে খাদ্য বিভাগ, নেই সুরক্ষা সামগ্রী
চলমান করোনাভাইরাস দুর্যোগে দেশের বিভিন্ন জেলার মতো ফেনীর ঘরবন্দি মানুষের মুখে খাবার তুলে দেয়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা ও ত্রাণ বিতরণসহ ব্যাপক কর্মসূচি পরিচালনা করছে সরকার। সরকারের এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করছেন জেলা প্রশাসন, খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

বৈশ্বিক মহামারির এ চরম দু:সময়ে খাদ্য অধিদপ্তরের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোন নিরাপত্তা সামগ্রী ছাড়াই দিন-রাত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহ, মিলের কাছ থেকে চাল সংগ্রহ, ভিজিডি, ভিজিএফ, জিআর, বিভিন্ন সরকারি বাহিনীর রেশন সামগ্রী, খাদ্যবান্ধব, বিশেষ ওএমএসসহ অন্যান্য কার্যক্রমগুলো মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা করে আসছে।

জরুরি এসব সেবা দিতে গিয়ে খাদ্য বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চরম ঝুঁকির মধ্যে সরকারি নির্দেশনা মেনে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

এই দুর্যোগকালে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকরা ঢাল-তলোয়ারবিহীন যোদ্ধার মতো হলেও বীরদর্পে কাজ করে যাচ্ছেন। কেননা দাপ্তরিক উদ্যোগে তারা কোনো ধরনের হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক, গ্লাভস বা ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী পাননি। খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নেই কোন স্বীকৃতি, নেই কোন ঝুঁকিভাতা। তাদের দাবি প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী খাদ্য বিভাগকে স্বাস্থ্য বিভাগের ন্যায় জরুরি বিভাগ ঘোষণা করে ঝুঁকিভাতা প্রদান করা হোক।

ফেনী জেলা প্রশাসন ও জেলা খাদ্য অধিদপ্তরের দেয়া তথ্যমতে- ফেনী জেলার ছয়টি উপজেলা ও পাঁচটি পৌরসভায় ১ লাখ ২১ হাজার ২০০ পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। ফেনী জেলায় মুজিববর্ষ ও করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় খাদ্যবান্ধব খাতে ১১ হাজার ৬শ পরিবারকে ৩০ কেজি হারে ৩শ ৪৮ মেট্রিক টন চাল ১০ টাকা কেজি দরে বিতরণ করা হয়েছে।

এদিকে বিশেষ ওএমএস খাতে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রতি পরিবারকে কার্ডের মাধ্যমে ১৮ হাজার ৪০০ পরিবারকে ২০ কেজি করে ৩শ ৬৮ মেট্রিক টন চাল বিতরণ কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। ঈদ পূর্ববর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে জেলার ২০ হাজার পরিবার এ সুবিধা পাবে। আর সরকারের এ কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নে কর্মহীন ঘরবন্দি মানুষের মুখে খাবার তুলে দেয়ার লক্ষ্যেই মহামারি করোনার ঝুঁকি নিয়েই দিন-রাত নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

জেলা খাদ্য গুদাম সূত্র জানায়, এবার ফেনী জেলায় সরকার নির্ধারিত মূল্যে বোরো ধান মৌসুমে ৫ হাজার ১শ ৯৬ মেট্রিক টন ও ৪ হাজার ৫শ ৫০ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করবে। ধান ক্রয় করবে ফেনী সদরে ৯শ ৪৬ মেট্রিক টন, ছাগলনাইয়ায় ৪শ ৫৬ মেট্রিক টন, দাগনভূঞায় ৭শ ৭৬ মেট্রিক টন, পরশুরামে ৩শ মেট্রিক টন, ফুলগাজীতে ৫শ ৩৪ মেট্রিক টন, ও সোনাগাজীতে ফেনী সদরে ১শ ৩৮ মেট্রিক টন।

এদিকে চাল ক্রয় করবে ফেনী সদরে সিদ্ধ চাল ১ হাজার ৩৫ মেট্রিক টন ও আতপ চাল ৮শ ১৭ মেট্রিক টন, ছাগলনাইয়ায় সিদ্ধ চাল ১ হাজার ৩৫ মেট্রিক টন ও আতপ চাল ৪শ ৮২ মেট্রিক টন, দাগনভূঞায় সিদ্ধ চাল ৬শ মেট্রিক টন ও আতপ চাল ১শ ৩৭ মেট্রিক টন, পরশুরাম সিদ্ধ চাল ১শ ৫১ মেট্রিক টন ও আতপ চাল ২শ ৯৬ মেট্রিক টন, ফুলগাজীতে সিদ্ধ চাল ২শ ৬৮ মেট্রিক টন ও আতপ চাল ৯৬ মেট্রিক টন ও সোনাগাজীতে সিদ্ধ চাল ৬৯ মেট্রিক টন ও আতপ চাল ২৫ মেট্রিক টন।

ফেনী জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজজামান জানিয়েছেন, মার্চ মাসের ৮ তারিখে দেশে করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকারের নির্দেশনায় দেশের মানুষ হয়ে পড়েন ঘরবন্দি। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েন খেটে-খাওয়া ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো। এ দুর্যোগে একজন মানুষও যেন অনাহারে না থাকে সে লক্ষ্যে অন্যান্য জেলার মতো ফেনীতেও ত্রাণ বিতরণে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করে সরকার। খাদ্য মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ঘোষণার আলোকে ফেনী জেলায় বেকার জনগোষ্ঠী, কর্মহীন ও অসহায় মানুষকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করতে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ রয়েছে।

সদর উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহীন মিয়া বলেন, খাদ্য বিভাগের জরুরি সেবা দেয়ার জন্য বিভিন্ন গুদামে নিরবছিন্নভাবে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। করোনাভাইরাসের ঝুঁকি নিয়ে তারা বাইরে আছে। তাদের মধ্যে দিয়েই ত্রাণের খাবার বিলি-বন্টন হচ্ছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী খাদ্য বিভাগকে স্বাস্থ্য বিভাগের ন্যায় জরুরি বিভাগ ঘোষণা করে ঝুঁকিভাতা প্রদানের দাবি জানান।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (রু. দা) সহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে কর্মহীন ঘরবন্দি মানুষের মুখে খাবার তুলে দেয়ার লক্ষ্যেই মহামারী করোনার ঝুঁকি নিয়েই দিন-রাত নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।


পিএসএস

 

: আরও পড়ুন

আরও