যন্ত্রপাতির অভাব, তবু করোনাযুদ্ধে আন্তরিক চিকিৎসকরা
Back to Top

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২০ | ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

যন্ত্রপাতির অভাব, তবু করোনাযুদ্ধে আন্তরিক চিকিৎসকরা

মো. আল মামুন, মুন্সীগঞ্জ ১০:১৯ অপরাহ্ণ, মে ০৮, ২০২০

যন্ত্রপাতির অভাব, তবু করোনাযুদ্ধে আন্তরিক চিকিৎসকরা
‘আমরা আমাদের সাধ্যমত সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমাদের কাজে কোন গাফিলতি নেই, যতটুকু আছে তা দিয়েই আন্তরিকভাবে কাজ করছে মুন্সীগঞ্জের স্বাস্থ্য বিভাগ। আমরা চাইনা একজন মানুষও মারা যাক, কোন ডাক্তারই চায় না। যদি আমাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয় তাহলে আমরাও জনসাধারণকে সুরক্ষিত রাখতে পারবো। সরকারী স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমাদের সাহায্য করুন।’

মুঠোফোনে পরিবর্তন ডটকমের কাছে এভাবেই দৃঢ়কণ্ঠে নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করছিলেন আইসোলশনে থাকা চিকিৎসক মৃদুল কুমার দাস প্রিন্স। তিনি বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী এই মহামারি দক্ষিণ এশিয়াতে ২ বছর থাকতে পারে। আমাদের অবশ্যই বাস্তবমুখী পরিকল্পনা দরকার।’

করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে যাওয়া এই সম্মুখযোদ্ধা বলেন, ‘মুন্সীগঞ্জে করোনা ওয়ার্ডে ১০ দিন দায়িত্ব পালন শেষে নিয়ম অনুযায়ী ১৪ দিন আইসোলশনে থাকতে হচ্ছে দায়িত্বরত চিকিৎসক, নার্স আর সংশ্লিষ্টদের। নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও তারা সেবা দিচ্ছেন করোনা রোগীদের এবং চালু আছে হাসপাতালের অন্য সেবাও।’

ডা. মৃদুল জানান, স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা মতে গত ২২ এপ্রিল মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের পূর্বপাশে নবনির্মিত ভবনে (যা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হয়নি) মুন্সীগঞ্জের করোনা ওয়ার্ড চালু হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা মোতাবেক রোস্টার ও রোটেশনের মাধ্যমে ডাক্তার, নার্স, ওয়ার্ডবয়দের মাধ্যমে দায়িত্ব বন্টন করা হয়েছে। প্রথমদিকে ছয় তলা ভবনের ২য় ও ৩য় তলায় করোনা রোগীদের জন্য ওয়ার্ড ও কেবিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রোগীর চাপ বাড়লে সেবার পরিসর আরো বাড়ানোর পরিকল্পনাও আছে।

মুন্সীগঞ্জে করোনা ওয়ার্ডে প্রথম দফায় দায়িত্ব পালন করেছেন ডা. মৃদুল কুমার দাস, ডা. আসাদুজ্জামান, ডা. মো. তাজুল ইসলাম, ডা. মো. বিদ্যুৎ হোসেন। সাথে ছিলেন চারজন স্টাফ নার্স ও দুইজন এমএলএসএস। ১ম দফায় দায়িত্বরত একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন। ওই টিমের সবাই সরকার নির্ধারিত ভবনে কোয়ারেন্টিনে আছেন।

দ্বিতীয় দফায় কাজ করছেন ডা. আরাফাত, ডা. সম্পা, ডা. শিমুল, ডা. ফাতেমা এবং ৪ জন নার্স ও ২ জন এমএলএসএস। ঘুরে ফিরে এভাবেই আবার ১ম টিমও দায়িত্ব পালন করবে।
করোনার সম্মুখ যোদ্ধারা বললেন কিছু কষ্টের কথা- ‘দেখুন, আমরা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। আমরা দায়িত্ব পালন করতে পিছপা হচ্ছিনা। কিন্তু আমাদের জন্য সরবরাহকৃত নিরাপত্তা সরঞ্জামগুলো আমরা ব্যবহার করতে পারিনি। সেগুলো আমাদের কাছে মান সম্পন্ন মনে হয়নি। নিজেরা অন্য মাধ্যম থেকে পিপিই ও মাক্স সংগ্রহ করে দায়িত্ব পালন করেছি। আমাদের সুরক্ষা নিশ্চিত না হলে বা আক্রান্ত হলে মানুষকে সেবা দিবো কিভাবে? শ্বাস কষ্টের চিকিৎসা দেয়ার সরঞ্জাম আমাদের এখানে নেই। মধ্যম অবস্থার রোগীদের আমরা এখানে চিকিৎসা দিতে পারছি। জরুরী রোগীদের রেফার্ড করে দিতে হচ্ছে। আমাদের ডাক্তার যথেষ্ট নেই তাই সেবা দিতে হলে আমাদের আগে সুস্থ থাকতে হবে।’

শুক্রবার (৮ এপ্রিল) পর্যন্ত মুন্সীগঞ্জে চিকিৎসক, পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তা কর্মচারীসহ ২৪৩ জন আক্রান্ত। এদের অধিকাংশকেই বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। শ্বাসতন্ত্রে মোটামুটি সমস্যা হলে তাদের মুন্সীগঞ্জের করোনা ইউনিটে ভর্তি করা হচ্ছে। যাদের এখানে চিকিৎসা সম্ভব না তাদের রেফার্ড করা হচ্ছে। বর্তমানে করোনা ওয়ার্ডে ৭ জন রোগী ভর্তি আছেন।

মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. শাখাওয়াত হোসেন জানান, ‘আমরা খুব বিপদে আছি। মুন্সীগঞ্জ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। আমাদের হাসপাতালের অধিকাংশ ডাক্তার এবং বেশ কয়েকজন সিনিয়র নার্স কোয়ারেন্টিনে আছেন। দুইজন অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার ও তিন কর্মচারী এবং একজন নার্সের করোনা পজেটিভ। আমার নিজেরও স্বাস্থ্য স্বাভাবিক মনে হচ্ছেনা। আমরা সাধ্যমত চেষ্টা করছি। সকলের কাছে অনুরোধ সবাই যেন সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলে। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’

এএম/পিএসএস

 

: আরও পড়ুন

আরও