আক্রান্তদের বড় অংশ তরুণ, ৮৩% ঢাকার বাসিন্দা
Back to Top

ঢাকা, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০ | ২৬ আষাঢ় ১৪২৭

আক্রান্তদের বড় অংশ তরুণ, ৮৩% ঢাকার বাসিন্দা

প্রীতম সাহা সুদীপ ৭:৫৬ অপরাহ্ণ, মে ০২, ২০২০

আক্রান্তদের বড় অংশ তরুণ, ৮৩% ঢাকার বাসিন্দা
দেশে করোনা ভাইরাস আক্রান্তদের মধ্যে ২৬ শতাংশই ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সী। তরুণদের মধ্যে আক্রান্ত হওয়ার ‘আশঙ্কাজনক’ এই হারের পেছনে তাদের সামাজিক দূরত্ব না মানার প্রবণতাকেই ‘বড়’ কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

শনিবার স্বাস্থ্য বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আরও পাঁচজনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৫ জনে।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৬ হাজার ১৯৩টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ৮৮৭ নমুনা পরীক্ষা করে আরও ৫৫২ জনের মধ্যে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৭৯০ জনে।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট- আইইডিসিআরের তথ্য মতে, দেশে করোনা ভাইরাস আক্রান্তদের মধ্যে ২৬ শতাংশই ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সী। এছাড়া ৩ শতাংশ শিশু, যাদের বয়স ১০ বছরের নিচে। ১১ থেকে ২০ বছর বয়সীদের হার ৮ শতাংশ।

আক্রান্তদের মধ্যে ২৪ শতাংশ ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী, ১৮ শতাংশের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। ১৩ শতাংশ রোগীর বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছর এবং ৮ শতাংশের বয়স ৬০ বছরের বেশি।

মারা যাওয়া রোগীদের মধ্যে ৩ শতাংশের বয়স ২১-৩০ বছর:

আইইডিসিআরের পরিসংখ্যান থেকে আরও জানা গেছে, মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, ৬০ শতাংশ। এরপর ২৭ শতাংশের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ১৯ শতাংশের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ৭ শতাংশের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে।

মারা যাওয়া রোগীদের মধ্যে ৩ শতাংশের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে, যে বয়স গ্রুপে সংক্রমণ হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। আর ২ শতাংশের বয়স ১০ বছরের নিচে। তবে ১১ থেকে ২০ বছরের বয়সী আক্রান্তদের মধ্যে কেউ মারা যায়নি।

যে কারণে তরুণরা বেশি আক্রান্ত:

ঢাকা শিশু হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. রিজওয়ানুল আহসান বিপুল বলেন, ‘ঘরে থাকার ব্যাপারে তরুণরা এখনো উদাসীন। ২০ থেকে ৫০ বছর বয়সীরা বেশি বাইরে যান। বাজারে যান। যেখানেই দেখবেন তরুণরাই বসে আড্ডা মারছে অথবা জটলা পাকিয়ে আছে। এখনকার অবস্থায় এটা প্রচণ্ড ভয়াবহ একটা দিক বয়ে আনবে বলে আমি মনে করি। এ জন্যই ২০ থেকে ৫০ বছর বয়সীদের মৃত্যুর সংখ্যাও বেশি হচ্ছে এবং আক্রান্তের সংখ্যাও বেশি।’

ডা. রিজওয়ানুল আহসান বলেন, ‘আমরা প্রথম দিকে ধারণা করেছিলাম যে ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের আক্রান্তের আশঙ্কা বেশি। দেখা যাচ্ছে, এই যে কমিউনিটি ট্রান্সমিশনটা হচ্ছে এবং হয়ে গেছে। সরকারের পক্ষ থেকে সব সময়ই ঘরে থাকার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু যারা মানছেন না তাদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।’


আক্রান্তদের মধ্যে ৮৩.০৭ ভাগ ঢাকার বাসিন্দা:

সারাদেশে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হওয়া ৮ হাজার ৭৯০ জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছেন ঢাকা বিভাগে, যার পরিমাণ ৮৩.০৭ ভাগ। আর সর্বনিম্ন রোগী আছেন রাজশাহী বিভাগে যার পরিমাণ ১.৫৩ ভাগ।

শনিবার দৈনিক স্বাস্থ্য বুলেটিনে নাসিমা সুলতানা বলেন, ঢাকা বিভাগেই সর্বোচ্চ পরিমাণ করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। ১ মে’র রিপোর্ট অনুযায়ী, শনাক্ত রোগী ৮৩.০৭ ভাগ ঢাকা বিভাগের, ৪.৬ ভাগ চট্টগ্রাম বিভাগের, ১.৫৭ ভাগ সিলেট বিভাগের, ১.৮০ ভাগ রংপুর বিভাগের, ২.২০ ভাগ খুলনা বিভাগের, ৩.৭১ ময়মনসিংহ বিভাগের, ১.৬৯ ভাগ বরিশাল বিভাগের এবং রাজশাহী বিভাগের ১.৫৩ ভাগ।

বুলেটিনে নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘন্টায় দেশে আরও ৩ জন করোনামুক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে ১৭৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি গেছেন।

তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টার নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ। আগের দিনের নমুনা পরীক্ষায় ১০ দশমিক ২৪ শতাংশ রোগী শনাক্ত হয়েছিল। গত দিনের তুলনায় আমাদের সামান্য হলেও শনাক্ত রোগীর হার কমেছে।

আইসোলেশনে ১ হাজার ৬৩২ জন, কোয়ারেন্টিন ১ লাখ ৯০ হাজার:

বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ১৬৮ জনকে। এখন পর্যন্ত মোট আইসোলেশনের সংখ্যা ১ হাজার ৬৩২ জন। ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৫৮ জন, এখন পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ১ হাজার ২২ জন।

সারাদেশে আইসোলেশন শয্যা রয়েছে ৯ হাজার ৭৩৮টি। ঢাকার ভেতরে রয়েছে ৩ হাজার ৯৪৪টি। ঢাকা সিটির বাহিরে শয্যা রয়েছে ৫ হাজার ৬৯৪টি। আর দেশে আইসিইউ সংখ্যা রয়েছে ৩৪৯টি, ডায়ালাসিস ইউনিট রয়েছে ১০২টি।

গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম কোয়ারেন্টিন মিলে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে ১ হাজার ৫৪৩ জনকে। এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৯০ হাজার ৪৪৩ জনকে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে। কোয়ারেন্টিন থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড় পেয়েছেন ২ হাজার ৮৫০ জন, এখন পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৩৪৯ জন। বর্তমানে মোট কোয়ারেন্টিনে আছেন ৬৯ হাজার ৯৪ জন।

সারাদেশের ৬৪ জেলা এবং সেখানকার উপজেলায় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৬০১টি প্রতিষ্ঠান। এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে ৩০ হাজার ৬৩৫ জনকে কোয়ারেন্টাইন সেবা দেয়া যাবে বলে বুলেটিনে জানান নাসিমা সুলতানা।

পিএসএস

 

: আরও পড়ুন

আরও