দাবি আদায়ে আন্দোলনের পথে বিএনপি
Back to Top

ঢাকা, সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১ | ৩ কার্তিক ১৪২৮

দাবি আদায়ে আন্দোলনের পথে বিএনপি

মাহমুদুল হাসান ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২১

দাবি আদায়ে আন্দোলনের পথে বিএনপি
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা প্রশ্নে সরকারের মনোভাব ‘কঠোর’- এই বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নিজেদের লক্ষ্য চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। দাবি আদায়ে আন্দোলনের পথে হাঁটতে যাচ্ছে দলটি।

আন্দোলন শুরুর আগে বিএনপির ধারাবাহিক বৈঠক থেকে অঙ্গ-সংগঠনগুলো পুনর্গঠনের তাগাদা এসেছে। 

তিন দিনের বৈঠকে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলের মতো অঙ্গ-সংগঠনগুলো ‘দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কমিটি’ গঠনের জন্য নেতারা এই তাগাদা দেন বলে জানা গেছে।
 
এছাড়া দলীয় প্রধান খালেদা জিয়াসহ দলের নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে ধাপে ধাপে আন্দোলনের বিষয়ে মতামত দিয়েছেন বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতারা। এই নিয়ে দলের উচ্চ পর্যায়ের নেতারা গতকাল শনিবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠক করেন। 

লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। এছাড়া পেশাজীবী সংগঠনগুলোর সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সংলাপ করতে চান বিএনপি নেতারা। 

এরপরই আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপরেখা নিয়ে মাঠে নামবে দলটি। সারা দেশে জেলায় জেলায় সমাবেশের মধ্য দিয়ে জনগণকে আন্দোলনে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন দলের নীতি নির্ধারকরা।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের কর্মকৌশল কী হতে পারে, সংগঠনের অবস্থা কেমন ইত্যাদি বিষয় জানতে এই ধরনের ধারাবাহিক বৈঠক ডাকে দলের হাইকমান্ড। 

গত মঙ্গলবার থেকে টানা তিনদিন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই ধারাবাহিক বৈঠক হয় গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে।

ধারাবাহিক বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক নেতা বলেছেন, নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় নির্বাচন করতে হলে আগে নিরপেক্ষ সরকার দরকার। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই কেবল গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে পারে। কিন্তু সরকার এ বিষয়ে সহজে সাড়া দেবে না বলে মত দেন। যে কারণে আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। 

এছাড়া বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে সরকারের ‘কঠোর’ মনোভাব পর্যালোচনা করে দ্রুতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে চান তারা। একই সঙ্গে দলের সাংগঠনিক অবস্থাটাও বৈঠকে গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরা হয়েছে। বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের কমিটি দীর্ঘদিন ধরে পূর্ণাঙ্গ হচ্ছে না, কমিটিতে স্থান পেতে নানা তদ্বির-লবিং করতে হয়, মফস্বল থেকে ঢাকায় এসে কমিটির জন্য তদ্বির করতে হয়- ইত্যাদি বিষয়গুলোও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নজরে এনেছেন নেতারা।

নেতারা আরও বলেন, দল ও অঙ্গ-সংগঠনে কঠোর শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা না গেলে রাস্তায় নেমে কোনো লাভ হবে না। আগে আমাদের নিজেদের আন্দোলনের জন্য সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে।

বিএনপির অঙ্গ-সংগঠন ৯টি এবং ও সহযোগী সংগঠন ২টি। অঙ্গ-সংগঠনগুলো হচ্ছে- যুব দল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, উলামা দল, তাঁতী দল, মৎস্যজীবী দল। এসব অঙ্গ-সংগঠনের সবগুলোর কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ। উলামা দল, তাঁতী দল ও মৎস্যজীবী দল ভেঙে আহ্বায়ক কমিটি করে যে সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছিল তারও মেয়াদ চলে গেছে।

বিএনপির দুই সহযোগী সংগঠন হচ্ছে- শ্রমিক দল ও ছাত্রদল। এদের মধ্যে শ্রমিক দলের কমিটিও মেয়াদোত্তীর্ণ এবং ছাত্রদলের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে গতকাল শনিবার। তারা তাদের নির্ধারিত মেয়াদেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে পারেনি।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, কী করণীয় এবং আমাদের সংগঠনের অবস্থা কেমন ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আমরা বৈঠকে কথা বলেছি। আমাদের নেতা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এসব বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছেন এবং নেতাদের মতামত শুনেছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আরো কিছু সভা করব। বিশেষ করে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ ও জেলা নেতাদের নিয়েও সভা করব, তাদের মতামত শুনব। শনিবার আমাদের স্থায়ী কমিটির বৈঠক রয়েছে। সেখানেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।’

এক প্রশ্নের জবাব মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখনই বলার সময় আসেনি। আরও কিছু বৈঠক হবে। এরপর আমরা সবকিছুই আপনাদের জানাতে পারব।’

তিন দিনের ধারাবাহিক বৈঠকে মোট ২৮৬ জন নেতা উপস্থিত ছিলেন, যাদের মধ্যে ১১৮ জন নেতা বক্তব্য দেন বলে জানান দলের কেন্দ্রীয় দফতরের দায়িত্বে থাকা সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। প্রথম দিন মঙ্গলবার বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য, দ্বিতীয় দিন বুধবার যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ সম্পাদক ম-লী এবং তৃতীয় দিন অঙ্গ-সংগঠনের নেতারা ছিলেন।

২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পরে তারেক রহমান দলের হাল ধরার পর এটি দলের বড় ধরনের সভা। ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ ষষ্ঠ কাউন্সিলের পর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গঠিত নির্বাহী কমিটির বর্তমান সংখ্যা ৫০২ সদস্যের। 

২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পরে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে এটি তারেক রহমানের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।

এইচআর
 

আরও পড়ুন

আরও