দৈনিক ৬০ টাকায় নৈশপ্রহরী-ঝাড়ুদার!
Back to Top

ঢাকা, রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ১১ আশ্বিন ১৪২৮

দৈনিক ৬০ টাকায় নৈশপ্রহরী-ঝাড়ুদার!

তোফাজ্জল হোসেন ১২:৫৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২১

দৈনিক ৬০ টাকায় নৈশপ্রহরী-ঝাড়ুদার!
আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন নিবন্ধন অধিদফতর পরিচালিত রেজিস্ট্রেশন বিভাগের অধীনে সারা দেশের ৫০৪টি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রায় সাড়ে পাঁচশ উমেদার পিওন নামমাত্র ৬০ টাকা মজুরি ভিত্তিতে কাজ করেন।

এ ছাড়া প্রায় ৫০০ জন নৈশপ্রহরী, ঝাড়ুদারও দৈনিক ৬০ টাকা মজুরিতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাদের বেতনভাতা বাড়ানোর দাবি জানানো হলেও এ বিষয়ে নেওয়া হয়নি উদ্যোগ।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আন্তরিকতার অভাবে ১০৫০ কর্মচারী পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থায় এ ধরনের বৈষম্য দূর করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

জানা গেছে, ২০১৬ সালে ৮ আগস্ট মজিবুর রহমান নামে এক নৈশপ্রহরী কাম ঝাড়ুদার, নিবন্ধন অধিদফতরের মহাপরিদর্শক বরাবর মজুরি বৃদ্ধির আবেদন জানিয়ে একটি পত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে নিবন্ধন অধিদপ্তরের মাধ্যমে পত্রটি আইন মন্ত্রণালয় হয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। আইন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. আনোয়ারুল হক স্বাক্ষরিত ওই পত্রের বাস্তবায়ন করা হয়নি।

সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ২৪ জুলাই ৩৪ নং স্বারক মূলে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত সব সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নৈশপ্রহরী কাম ঝাড়–দারদের মজুরি বৃদ্ধির আবেদন করা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পত্রটি নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক বরাবরে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু আজও বিষয়টি সমাধান করা হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে উমেদার পিওন, নৈশপ্রহরী, ঝাড়ুদারের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে। কিন্তু বিষয়টি এখনো আলোর মুখ দেখেনি।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, দেশের প্রতিটি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে মাত্র ৬০ টাকা মজুরি ভিত্তিতে ১০৫০ কর্মচারী কাজ করছেন। বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া জরুরি। রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি সংস্থা নিবন্ধন অধিদপ্তর। সরকার এখান থেকে প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে থাকেন। কিন্তু এসব কর্মীদের দৃষ্টি দিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বর্তমান দ্রব্যমূল্যের বাজারে ৬০ টাকা মজুরি দিয়ে একজন মানুষের রুটি-রুজির কীভাবে দুর্মূল্যের বাজারে প্রতিদিনের চা চক্রের বিল হবে না। বিষয়টি নিয়ে খামখেয়ালি করা হচ্ছে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা। ফলে নিবন্ধন অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট বিভাগের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে নৈশ প্রহরীদের নেতা শামীম আহমদ বলেন, সরকার চাইলে নৈশপ্রহরীদের মজুরি দ্রুত বাড়াতে পারে। কিন্তু যথাযথ উদ্যোগের অভাবে বিষয়টি বাস্তবায়ন হচ্ছে না। বিষয়টির সমাধানে আইনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

এইচআর
 

আরও পড়ুন

আরও