আন্দোলনের রোডম্যাপ চূড়ান্ত করছে বিএনপি
Back to Top

ঢাকা, রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ১১ আশ্বিন ১৪২৮

আন্দোলনের রোডম্যাপ চূড়ান্ত করছে বিএনপি

মাহমুদুল হাসান ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২১

আন্দোলনের রোডম্যাপ চূড়ান্ত করছে বিএনপি
আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের ‘কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির’ সঙ্গে বৈঠকে বসছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। ভোটের পাশাপাশি আন্দোলনের রোডম্যাপ চূড়ান্ত করতে কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের নেতাদের মতামত নিতে চান বিএনপির হাইকমান্ড।

আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে ধারাবাহিক এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। ভার্চুয়াল বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
 
গত শনিবার সন্ধ্যায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের স্থায়ী কমিটিসহ সংশ্লিষ্টরা গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে সশরীরে বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন।

প্রতিদিন বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে বৈঠক শুরু হবে। আগামীকাল মঙ্গলবার প্রথম বৈঠকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্যরা অংশ নেবেন। এরপর বুধবার সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক, সম্পাদক ও সহ-সম্পাদকদের নিয়ে বসবে বিএনপি। 

এ ছাড়া বৃহস্পতিবার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গেও বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। পর্যায়ক্রমে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গেও বিএনপির হাইকমান্ড বৈঠক করবেন।

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন গঠন ইস্যুতে আমরা একটা স্থায়ী সমাধান চাই। তার আগে নিরপেক্ষ সরকার চাই। যাদের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে। সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে এ সমাধান হতে হবে। এ জন্য দেশের গণতান্ত্রিক সব রাজনৈতিক দল ও বিশিষ্ট নাগরিকদের মতামত নিতে হবে। কাজটি এমনভাবে করতে হবে যা সবার কাছেই গ্রহণযোগ্য হয়। বিগত দিনের মতো একতরফা হলে কেউ মেনে নেবে না।’

তিনি বলেন, ‘দলীয় ফোরামে আলোচনার পর আমরা নির্বাচন কমিশন গঠন ইস্যুতে আমাদের প্রস্তাব রাষ্ট্রপতির কাছে দেব। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন যতক্ষণ পর্যন্ত না হবে আমাদের আন্দোলন চলবে। দেশের জনগণ এ সরকারের অধীনে কোনো গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে পারে বলে মনে করে না।’

বিএনপির দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‘বিএনপির নির্বাহীর কমিটির বৈঠক সাধারণ কমিটির সবার উপস্থিতিতে বড় পরিসরে হয়ে থাকে। কিন্তু বড় কোনো স্থান না পাওয়ায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

তিনি বলেন, প্রথম দিন ভাইস চেয়ারম্যান ও উপদেষ্টা, পর দিন যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক, সম্পাদক ও সহ-সম্পাদক এবং শেষ দিন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গেও বৈঠক করা হবে।

সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে হোটেল লা মেরিডিয়ানে ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি কারাবন্দি হওয়ার পর আর কোনো সভা ডাকা হয়নি।

স্থায়ী কমিটির বৈঠক সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে যে প্রস্তুতির কথা বলেছেন, তা নিয়ে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। নেতাদের প্রশ্ন, সরকারের মেয়াদ এখনো দুই বছরের বেশি সময় বাকি। এতো আগে সাধারণত ক্ষমতাসীনদের দিক থেকে নির্বাচনের কথা বলা হয় না। কেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতো আগেই নির্বাচনের কথা বলছেন, বিষয়টি ভাবতে হবে। এ অবস্থায় আগামী বছর ১৫ ফেব্রুয়ারি বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এরই মধ্যে নতুন নির্বাচন কমিশন নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকার নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে চলতি বছরে প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন। এটা নিয়ে বিএনপিকে ব্যস্ত করা হতে পারে।

বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সব নেতাই একমত হন, দেশে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে হলে একটি নিরপেক্ষ সরকারের প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ও ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন প্রমাণ করে বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় রেখে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। 

এ অবস্থায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে করণীয় ঠিক করতে হবে। সে জন্য দলের সবার মতামত নিতে হবে। স্থায়ী কমিটির নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে জাতীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও বিশিষ্টজনদের মতামতও নেওয়া হবে। 

এ নিয়ে বিএনপি দলীয়ভাবে একটি প্রস্তাবনাও তুলে ধরবে। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতি সময় দিলে তার সঙ্গেও বৈঠক করতে চায় বিএনপি। সেখানেও নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে বিএনপির দাবিগুলোও পুস্তক আকারে তুলে ধরা হবে।

ছাত্রদলের ১২ নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হচ্ছে

স্থায়ী কমিটির বৈঠকে চলমান পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে ১২ ছাত্রদল নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলাবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ১২ সদস্যকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

জানা যায়, শনিবার স্থায়ী কমিটির সভায় তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রস্তাব দেন। তা সমর্থন করেন স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও নজরুল ইসলাম খান। এরপর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। খুব শিগগির তাদের বহিষ্কারাদেশ তুলে নেওয়ার চিঠি দেওয়া হবে। সেই ১২ ছাত্রনেতা হলেন- এজমল হোসেন পাইলট, ইকতিয়ার কবির, মামুন বিল্লাহ, আসাদুজ্জামান আসাদ, বায়েজিদ আরেফিন, বাশার সিদ্দিকি, জহির উদ্দিন তুহিন, দবির উদ্দিন তুষার, গোলাম আজম সৈকত, আব্দুল মালেক ও আজীম পাটোয়ারী।

এদিকে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। 
গতকাল রোববার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দফতর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

এতে বলা হয়, জাতীয় নির্বাহী কমিটির নির্দেশক্রমে জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থা- জাসাসের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো।

এইচআর

 

আরও পড়ুন

আরও