অবশেষে ঠাঁই হলো ‘প্রিয় নীড়’ প্রকল্পে
Back to Top

ঢাকা, শুক্রবার, ৫ মার্চ ২০২১ | ২১ ফাল্গুন ১৪২৭

অবশেষে ঠাঁই হলো ‘প্রিয় নীড়’ প্রকল্পে

এইচএম আলমগীর কবির, সিরাজগঞ্জ ২:২০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২১

অবশেষে ঠাঁই হলো ‘প্রিয় নীড়’ প্রকল্পে
পরিবার-পরিজনে ঠাঁই নেই। সমাজ তাদের অপয়া ভেবে দূরে সরিয়ে দেয়। বেঁচে থাকার তাগিদেই তারা বাজার থেকে সবজি তোলা, দোকান থেকে ১০-২০ টাকা নেয়া, বিয়ে বাড়িতে নেচে-গেয়ে কিছু টাকা নেয়া- এভাবেই তারা জীবন জিবিকা নির্বাহ করে।

তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদেরও অধিকার আছে, এমনটা পরিবার ও সমাজের কারও দৃষ্টিতে নেই। তবে এই অভাগিদের ভাগ্য বদলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

অবশেষে মুজিববর্ষে তাদের পাকা ঘর ও কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের স্বরসতী নদীর পাড়ে (তৃতীয় লিঙ্গের) আশ্রয়ন প্রকল্প ঘুরে দেখা যায়, এখানে তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ৩০ জনকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে জমির মালিকানাসহ পাকাঘর, গবাদি পশু ও উপার্জনের জন্য সেলাই মেশিন দেয়া হয়েছে। সেলাই মেশিন ও গবাদি পশু পালন প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে।

বর্তমানে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষেরা আশ্রয়ন প্রকল্পে নাচে-গানে, হাসি আর আনন্দে সময় পার করছেন। কেউ ছাগল, হাঁস-মুরগি ও কবুতর পালছেন। কেউ শাক-সবজি চাষ করছেন। কেউ আবার রান্না করছেন। যেন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন তারা।

পুনর্বাসিত হিজড়ারা পরিবার ও সমাজের মানুষের অবহেলা, তাড়িয়ে দেয়া ও নির্যাতনের কথা বললেন অকপটে।

 

তাদের ভাষায়, বাঁচার ইচ্ছে হতো না। তবে এখন অনেক ভালো আছেন। নতুন জীবন পেয়েছি। নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছি। এটি মূলত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণে। তিনি তাদের মমতায় জড়িয়ে নিয়েছেন।

আশা নামের এক হিজড়া বলেন, ‘আমাদের বাবা-মা, পরিবার ও সমাজের লোক যেটুকু ভালো না বাসত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভালোবাসেন। সন্তানের মতো কোলে তুলে নিয়েছেন। দোয়া করি, প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘজীবী হোন। ঘরে ঘরে আমাদের মতো অসহায়ের সহায় হোন।’

আলো নামের আরেক হিজড়া বলেন, ‘আশ্রয়ন প্রকল্পের এ ঘরে আসার পরও আশপাশের মানুষ প্রথমদিকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতো। আমাদের এখানে জায়গা দেয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছে। পরে ধীরে ধীরে তারা আমাদের সাথে কথা বলে ও সুখ-দুঃখ শেয়ার করে। এভাবেই তারা সাধারণ মানুষের মতো স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন। মানুষেরাও তাদের ব্যাপারে নেতিবাচক ধারণা পাল্টে ইতিবাচক হচ্ছে।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে আমরা ২০ জন হিজড়াকে পুনর্বাসন করেছি। তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের মৌলিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি তাদের কর্মসংস্থানের জন্য প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে এনে জীবনমান উন্নত করার সব ব্যবস্থা করা হবে।’

 

তিনি আরও জানান, ২০১৪ সালের ২৬ জানুয়ারি হিজড়াদের তৃতীয় লিঙ্গের স্বীকৃতি দিয়েছেন শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকার। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, সারাদেশে ১১ হাজার হিজড়া রয়েছে। তাদের পুনর্বাসনের কাজ চলমান।

উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেওয়ান মওদুদ আহমেদ জানান, প্রকল্পে বসবাসকারীরা নিজেদের স্বাবলম্বী করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন।

আর তা দেখে নতুন আরও কিছু পরিকল্পনা নেয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠাবেন বলে তিনি জানান।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহম্মদ পরিবর্তন ডটকমকে জানান, সরকারের উদ্যোগকে স্থায়ীরূপ দিতে জেলায় আরও যেসব তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ আছে, তাদেরও এমন প্রকল্পের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। নিরাপদ আশ্রয় মেলায় এখন অনেকটাই স্বস্তিতে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ। নিজেদেরকে অনন্য উচ্চতায় নিতে নিজেরাই এখন তৈরি করছেন নিজেদের।

এইচআর

 

আরও পড়ুন

আরও